কারাগারে গোলাম আযম-আইন চলুক তার নিজস্ব গতিতে
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হলে আদালত এই আদেশ দেন। বুধবার আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে কড়া পাহারায় তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ৫২ দফা অভিযোগ উত্থাপন করে গোলাম আযমকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল গত ২৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জ ফেরত দিয়ে সুবিন্যস্তভাবে ৫ জানুয়ারি তা দাখিল করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ মেনে প্রসিকিউশন নির্ধারিত দিনেই গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আবার ফরমাল চার্জ দাখিল করে। ট্রাইব্যুনাল ৯ জানুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৩(২), ৪(১) ও ৪(২) ধারায় আনীত ফরমাল চার্জ আমলে নেন এবং গোলাম আযমকে হাজির করার জন্য তাঁর আইনজীবীকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলা বাতিল এবং মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি ঘটনায় ৩৮ জনকে হত্যাসহ ৬২টি অভিযোগ আনা হয়। এগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে একটি হত্যা, ছয়টি ষড়যন্ত্র, তিনটি পরিকল্পনা, ২৮টি উসকানি এবং ২৪টি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে মতিউর রহমান নিজামী এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও আমলে নেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ মেনে গত বুধবার সকালে গোলাম আযমকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর আইনজীবী বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে জামিনের আবেদন করলে স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। আদালত জামিনের আবেদন অগ্রাহ্য করে গোলাম আযমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি হবে। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, 'রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করে। তাদের অত্যাচার-নিপীড়নে এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। তারা চার লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে। আর এসব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম আযম। তাঁর বিরুদ্ধে তৈরি অভিযোগপত্রে আমরা অভিযোগ পেয়েছি।' ট্রাইব্যুনাল বলেন, 'কে দোষী আর কে নির্দোষ, তা বিচারের পরই জানা যাবে।'
বাংলাদেশের স্বাধীনতার তীব্র বিরোধিতাকারী গোলাম আযম ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি, রাজাকার এবং আলবদর বাহিনী গঠনে নেতৃত্ব দেন। এসব বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতন চালায়। অভিযোগ রয়েছে, গোলাম আযম পাকিস্তানি সেনাপ্রধান টিক্কা ও নিয়াজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়েছেন এবং জনবল দিয়ে সাহায্য করেছেন বাঙালি নিধনে। সহায়তা করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে।
বাংলাদেশে একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। হত্যা করা হয়েছিল এ দেশের মানুষকে। এ দেশের অনেক মানুষকে একাত্তরে গৃহহারা হতে হয়েছিল। নির্যাতিত হতে হয়েছিল অনেক মা-বোনকে। এ দেশের কিছুসংখ্যক মানুষ সেই ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে। অনেকেই প্রত্যক্ষভাবে সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এখন জাতির দাবি। গোলাম আযমকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেই বিচারপ্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। আইনকে তার নিজস্ব স্বাভাবিক গতিতেই চলতে দেওয়া উচিত। গোলাম আযমের ক্ষেত্রেও আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে; এবং দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে বলে মনে করি আমরা।
আদালতের নির্দেশ মেনে গত বুধবার সকালে গোলাম আযমকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর আইনজীবী বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে জামিনের আবেদন করলে স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। আদালত জামিনের আবেদন অগ্রাহ্য করে গোলাম আযমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি হবে। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, 'রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করে। তাদের অত্যাচার-নিপীড়নে এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। তারা চার লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে। আর এসব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম আযম। তাঁর বিরুদ্ধে তৈরি অভিযোগপত্রে আমরা অভিযোগ পেয়েছি।' ট্রাইব্যুনাল বলেন, 'কে দোষী আর কে নির্দোষ, তা বিচারের পরই জানা যাবে।'
বাংলাদেশের স্বাধীনতার তীব্র বিরোধিতাকারী গোলাম আযম ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি, রাজাকার এবং আলবদর বাহিনী গঠনে নেতৃত্ব দেন। এসব বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতন চালায়। অভিযোগ রয়েছে, গোলাম আযম পাকিস্তানি সেনাপ্রধান টিক্কা ও নিয়াজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়েছেন এবং জনবল দিয়ে সাহায্য করেছেন বাঙালি নিধনে। সহায়তা করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে।
বাংলাদেশে একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। হত্যা করা হয়েছিল এ দেশের মানুষকে। এ দেশের অনেক মানুষকে একাত্তরে গৃহহারা হতে হয়েছিল। নির্যাতিত হতে হয়েছিল অনেক মা-বোনকে। এ দেশের কিছুসংখ্যক মানুষ সেই ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে। অনেকেই প্রত্যক্ষভাবে সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এখন জাতির দাবি। গোলাম আযমকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেই বিচারপ্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। আইনকে তার নিজস্ব স্বাভাবিক গতিতেই চলতে দেওয়া উচিত। গোলাম আযমের ক্ষেত্রেও আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে; এবং দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে বলে মনে করি আমরা।
No comments