আলোর নিচে অন্ধকার দূর করায় মনোযোগী হোন-প্রাথমিকে ঝরে পড়া সমস্যা

শিক্ষাকে সাধারণত আলোর সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। প্রাথমিক শিক্ষাকে ধরা হয় সেই আলোর প্রথম শিখা। কিন্তু আলোর নিচে যেমন অন্ধকার থাকে, শিক্ষার আলোর বৃত্তের তলাতেও তেমনি এক অন্ধকার বিরাজ করছে। প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম সোপান থেকেই উদ্বেগজনক হারে শিক্ষার্থীদের ঝরে যাওয়া হলো তেমন এক অন্ধকার। এখনো প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু পঞ্চম শ্রেণী শেষ করার আগেই ঝরে পড়ছে। তারা কোনোরকমে সাক্ষর হচ্ছে বটে, কিন্তু শিক্ষিত হয়ে উঠছে না।


৯ জানুয়ারি শুরু হয়েছে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ’। সরকারিভাবে এবারের স্লোগান ঠিক করা হয়েছে, ‘জাতির জন্য অহংকার, এক শ ভাগ ভর্তির হার’। সরকারিভাবে দাবি করা হয়েছে, শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার এখন শতভাগের কাছাকাছি, প্রায় ৯৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এই হার নিয়ে সংশয় থাকলেও শিক্ষার বিস্তারে যে গতি এসেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু পাল্টা আরেকটি পরিসংখ্যান এই অর্জনের গৌরবকে ম্লান করে দিচ্ছে। দেখা যায়, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উৎসাহে শিশুদের যেনতেনভাবে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোই হয়ে গেছে সরকারি সংস্থাগুলোর লক্ষ্য। কিন্তু বিদ্যালয়ে স্থায়ী হওয়ার ব্যাপারটা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় মোট শিক্ষার্থীদের তিন ভাগের এক ভাগই একসময় বিদ্যালয় ত্যাগ করছে।
দারিদ্র্য এবং দারিদ্র্যই প্রধান কারণ এই ঝরে যাওয়ার জন্য। আর এই দারিদ্র্য বাড়ছে বৈ কমছে না। ঝরে পড়া ঠেকানোয় উপবৃত্তি বাড়ানো, দুপুরের খাবার দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি জারি রয়েছে। যে শিশুরা বিদ্যালয় ত্যাগ করে, তারা সাধারণত যুক্ত হয় আয়মূলক কাজে। অতটুকু শিশুর ওইটুকু আয়ও তাদের পরিবারের দরকার। তার মানে, অভিভাবকদের আয় বাড়লে শিশুদের আর কাজে যোগ দিতে হয় না। মনোযোগটা তাই দিতে হবে সার্বিকভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে।
তবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, সন্ধ্যাকালীন স্কুল, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের নজরে রেখে শিক্ষাদান কর্মসূচি নেওয়া গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.