পবিত্র কোরআনের আলো-মুক্তিপণের বিনিময়ে যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা অনুমোদিত
৬৭. মা কা-না লিনাবিয়্যিন আন ইয়্যাকূনা লাহূ আছরা- হাত্তা ইউশ্খিনা ফিল আরদ্বি; তুরীদূনা আ'রাদ্বাদ্ দুনিয়া-; ওয়াল্লা-হু ইউরীদুল আ-খিরাতি; ওয়াল্লা-হু আ'যীযুন হাকীম। ৬৮. লাও লা- কিতা-বুম্ মিনাল্লা-হি ছাবাক্বা লামাচ্ছাকুম্ ফীমা আখায্তুম আ'যা-বুন আ'যীম। ৬৯. ফাকুলূ মিম্মা গানিমতুম হালা-লান ত্বায়্যিবান ওয়াত্তাক্বুল্লা-হা; ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর্ রাহীম। [সুরা : আল- আনফাল, আয়াত : ৬৭-৬৯] অনুবাদ :
৬৭. কোনো নবীর পক্ষে এটা শোভা পায় না যে তার কাছে বন্দিরা নিরাপদে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না পৃথিবীতে আল্লাহর দুশমনদের নিপাত ঘটানো হবে। অর্থাৎ কাফিরদের পূর্ণ পরাজয়ের আগে তাদের প্রতি কোনো দয়া দেখানো বা আর্থিক সুবিধা নিয়ে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তোমরা দুনিয়ার বিষয়-সম্পদের প্রতি লালায়িত, আর আল্লাহ চান পরকালের কল্যাণ। আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
৬৮. যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পূর্ণ লিখিত বিধান যদি না থাকত, তাহলে তোমরা (মুক্তিপণ গ্রহণের) যে ব্যবস্থা অবলম্বন করেছ সে কারণে তোমাদের ওপর বড় কোনো শাস্তি নেমে আসতে পারত।
৬৯. সুতরাং তোমরা যে গণিমতের সম্পদ লাভ করছ, তা হালাল ও পবিত্র মনে করে খেতে পারো। তোমরা আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
ব্যাখ্যা : এই আয়াতগুলো যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে। বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন বন্দি হয়েছিল। তাদের যুদ্ধবন্দি হিসেবে মদিনায় নিয়ে আসা হয়। তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিয়ে নবী করিম (সা.) সাহাবাদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। হজরত ওমর (রা.) সহ কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাহাবির রায় ছিল তাদের হত্যা করে ফেলা। কেননা মুসলিমদের প্রতি এবং রাসুলের প্রতি তারা যে উৎপীড়ন চালিয়েছিল সে কারণে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে তারা মনে করতেন। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাহাবির মত ছিল, তাদের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হোক। এ অবস্থায় নবী করিম (সা.) সংখ্যাগরিষ্ঠ সাহাবির মতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাজিল হয়েছে। আয়াতে এ ফয়সালার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে যুক্তি ছিল এই যে বদর যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল কাফিরদের দর্প চূর্ণ করা এবং তাদের মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া। এর জন্য দরকার ছিল তাদের প্রতি কোনোরূপ দয়া না দেখিয়ে সবাইকে হত্যা করে ফেলাও, যাতে এরা ফিরে গিয়ে কাফিরদের শক্তি বৃদ্ধি করতে না পারে। পরবর্তী সময়ে সুরা মুহাম্মদের ৪ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে যে এখন যেহেতু কাফিরদের সামরিক শক্তি ভেঙে পড়েছে, সেহেতু এখন থেকে আর তাদের যুদ্ধিবন্দিদের হত্যা করা জরুরি নয়। বরং এখন থেকে মুক্তিপণের বিনিময়ে এমনকি ঔদার্যবশতও তাদের মুক্তি দেওয়া যেতে পারে।
৬৮ নম্বর আয়াতে 'পূর্বলিখিত বিধান' দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে সে ব্যাপারে মুফাসসিরদের মতভিন্নতা আছে। কারো কারো মতে, এই সুরার ৩৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত বিধান, অর্থাৎ নবী (সা.)-এর বর্তমানে আল্লাহর কোনো শাস্তি না আসা বোঝানো হয়েছে। অনেক মুফাসসিরের অভিমত হলো, কয়েদিদের মধ্য থেকে কারো কারো তকদিরে লেখা ছিল যে তারা ইসলাম গ্রহণ করবে। এ আয়াতে তকদিরের সেই লিখনকে নির্দেশ করা হয়েছে।
৬৯ নম্বর আয়াতে মুক্তিপণ নিয়ে কয়েদিদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছিল, তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবন্দিদের সম্পর্কে গৃহীত ফয়সালা যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠের মত ও নবী (সা.)-এর সমর্থনক্রমে নেওয়া হয়েছিল, তাই অসন্তোষ প্রকাশ সত্ত্বেও আল্লাহ মুসলমানদের প্রতি ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে অনুমতি দেওয়া হয়েছে যে তারা মুক্তিপণ হিসেবে যে সম্পদ গ্রহণ করেছে তা তাদের জন্য হালাল।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
৬৮. যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পূর্ণ লিখিত বিধান যদি না থাকত, তাহলে তোমরা (মুক্তিপণ গ্রহণের) যে ব্যবস্থা অবলম্বন করেছ সে কারণে তোমাদের ওপর বড় কোনো শাস্তি নেমে আসতে পারত।
৬৯. সুতরাং তোমরা যে গণিমতের সম্পদ লাভ করছ, তা হালাল ও পবিত্র মনে করে খেতে পারো। তোমরা আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
ব্যাখ্যা : এই আয়াতগুলো যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে। বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন বন্দি হয়েছিল। তাদের যুদ্ধবন্দি হিসেবে মদিনায় নিয়ে আসা হয়। তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিয়ে নবী করিম (সা.) সাহাবাদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। হজরত ওমর (রা.) সহ কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাহাবির রায় ছিল তাদের হত্যা করে ফেলা। কেননা মুসলিমদের প্রতি এবং রাসুলের প্রতি তারা যে উৎপীড়ন চালিয়েছিল সে কারণে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে তারা মনে করতেন। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাহাবির মত ছিল, তাদের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হোক। এ অবস্থায় নবী করিম (সা.) সংখ্যাগরিষ্ঠ সাহাবির মতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাজিল হয়েছে। আয়াতে এ ফয়সালার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে যুক্তি ছিল এই যে বদর যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল কাফিরদের দর্প চূর্ণ করা এবং তাদের মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া। এর জন্য দরকার ছিল তাদের প্রতি কোনোরূপ দয়া না দেখিয়ে সবাইকে হত্যা করে ফেলাও, যাতে এরা ফিরে গিয়ে কাফিরদের শক্তি বৃদ্ধি করতে না পারে। পরবর্তী সময়ে সুরা মুহাম্মদের ৪ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে যে এখন যেহেতু কাফিরদের সামরিক শক্তি ভেঙে পড়েছে, সেহেতু এখন থেকে আর তাদের যুদ্ধিবন্দিদের হত্যা করা জরুরি নয়। বরং এখন থেকে মুক্তিপণের বিনিময়ে এমনকি ঔদার্যবশতও তাদের মুক্তি দেওয়া যেতে পারে।
৬৮ নম্বর আয়াতে 'পূর্বলিখিত বিধান' দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে সে ব্যাপারে মুফাসসিরদের মতভিন্নতা আছে। কারো কারো মতে, এই সুরার ৩৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত বিধান, অর্থাৎ নবী (সা.)-এর বর্তমানে আল্লাহর কোনো শাস্তি না আসা বোঝানো হয়েছে। অনেক মুফাসসিরের অভিমত হলো, কয়েদিদের মধ্য থেকে কারো কারো তকদিরে লেখা ছিল যে তারা ইসলাম গ্রহণ করবে। এ আয়াতে তকদিরের সেই লিখনকে নির্দেশ করা হয়েছে।
৬৯ নম্বর আয়াতে মুক্তিপণ নিয়ে কয়েদিদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছিল, তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবন্দিদের সম্পর্কে গৃহীত ফয়সালা যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠের মত ও নবী (সা.)-এর সমর্থনক্রমে নেওয়া হয়েছিল, তাই অসন্তোষ প্রকাশ সত্ত্বেও আল্লাহ মুসলমানদের প্রতি ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে অনুমতি দেওয়া হয়েছে যে তারা মুক্তিপণ হিসেবে যে সম্পদ গ্রহণ করেছে তা তাদের জন্য হালাল।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
No comments