দুবাইয়ের প্রধান নির্বাহীকে রক্ষার চেষ্টা করছে জনতা ব্যাংক!
ভুয়া জাহাজীকরণ দলিল দিয়ে জনতা ব্যাংকের দুবাই শাখা থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ‘বিশেষ কাউকে’ রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে এ ঘটনায় ব্যাংকের দুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী বা সিইও সফিকুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু জনতা ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে তাঁকে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভুয়া জাহাজীকরণ দলিল দিয়ে জনতা ব্যাংকের দুবাই শাখা থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে। প্রথম আলোয় গত বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ‘ভুয়া এলসি দিয়ে অর্থ লোপাট’ শিরোনামে তা প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছিল, মেসার্স স্টিভেন ফ্রস্ট নামের এক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই কর্মকাণ্ড হয়েছে।
স্টিভেন ফ্রস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হচ্ছেন জনৈক নাজমুল হক। চেক জালিয়াতির এক মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পুলিশ নাজমুল হককে খুঁজছে। নাজমুল হক পালিয়ে দেশে এসে একই ব্যবসার নতুন ফন্দি আঁটতে থাকে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন ধরে জনতা ব্যাংক তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও এর আগেই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রতিবেদনের তথ্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জানিয়েছিল। জনতা ব্যাংকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনেও ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলেও তাতেদুবাইয়ের সিইওকে রক্ষার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র বলছে, প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। প্রথম আলোর কাছে যেসব কাগজপত্র রয়েছে, তাতেও দেখা যায়, মেসার্স স্টিভেন ফ্রস্টের এলসি খুলতে দেরি হওয়ায় সিইও শাখা ব্যবস্থাপককে শক্ত চিঠিও দিয়েছেন। চিঠিতে সিইও আরও বলেছেন, ইতিপূর্বে টেলিফোনে ইস্যুগুলো সমাধা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। গ্রাহক এসব তথ্য প্রধান কার্যালয়কেও জানিয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকেও টেলিফোনে সিইওকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিতে সিইও শাখা ব্যবস্থাপককে নতুন করে নির্দেশনা দেন যে কোনো বিলম্ব ছাড়াই মেসার্স স্টিফেন ফ্রস্টের এলসিগুলো খুলতে হবে।
শাখা ব্যবস্থাপক আবদুল মোমেনও অনুসন্ধান কমিটির কাছে দেওয়া নিজ হাতে লেখা তাঁর চিঠিতেও এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি চিঠিতে বলেন, ‘আমার দায়িত্বকালের মধ্যে সিইও দুবাই ক্যাম্প খুলেছেন এবং তাঁর নির্দেশমতোই আমি সব এলসি খুলেছি এবং অন্যান্য কাজ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, এলসির কাগজপত্র সংরক্ষণ করা, নথিভুক্ত করাসহ যাবতীয় দলিলাদি হস্তান্তর করার বিষয় নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম শাহাবুদ্দিন এবং দুবাই ক্যাম্পে অবস্থানকারী প্রধান নির্বাহী সফিকুল ইসলাম জানেন।
জনতা ব্যাংকের অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ছিলেন মহাব্যবস্থাপক এম জহিরুল আলম। গতকাল সিইওকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তিন মাস আগের অনুসন্ধানের বিষয়ে পুরোপুরি স্মরণ করতে পারছেন না বলে জানান।
যেভাবে জালিয়াতি: জাতিসংঘের কিছু বিধিনিষেধ থাকায় ইরান থেকে বাংলাদেশে সরাসরি পণ্য আমদানি করা যায় না। মেসার্স স্টিভেন ফ্রস্ট দুবাই থেকে মধ্যস্থতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেয়। এ জন্য জনতা ব্যাংকের দুবাই শাখায় ঋণপত্র বা এলসি খুলে পণ্য এনে তারপর তা পাঠায় চট্টগ্রাম বন্দরে।
স্টিভেন ফ্রস্ট ইরান থেকে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুললে রপ্তানিকারক পণ্য পাঠিয়ে জাহাজীকরণ দলিল দেয় জনতা ব্যাংক দুবাই শাখাকে। শাখা স্টিভেন ফ্রস্টের অনুমোদন নিয়ে ইরানের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে স্বীকৃতিপত্র (এক্সসেপটেন্স) পাঠিয়ে দেয়। আবার আমদানির মূল্য না নিয়েই স্টিভেন ফ্রস্টকে জাহাজীকরণ দলিল দিয়ে দিয়েছে। স্টিভেন ফ্রস্ট তা চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেওয়ায় পণ্য খালাসও হয়ে গেছে।
এদিকে স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার তিন মাস পর ইরানের ব্যাংক অর্থ পরিশোধের জন্য জনতা ব্যাংককে চিঠি দেয়।ব্যাংক কোম্পানিটির কাছে টাকা চাইলে ত্রুটিপূর্ণ দলিল উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি অর্থ পরিশোধ করেনি। ইরানের ব্যাংক দলিলটি ফেরত চাইলে স্টিভেন ফ্রস্ট জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিএল ছাড়া দলিল পাঠিয়ে দেয়। বিষয়টি ইরানের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অভিযোগ করলে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান অভিযোগটি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায়। এর পরই বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিয়ে তদন্ত করে।
স্টিভেন ফ্রস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হচ্ছেন জনৈক নাজমুল হক। চেক জালিয়াতির এক মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পুলিশ নাজমুল হককে খুঁজছে। নাজমুল হক পালিয়ে দেশে এসে একই ব্যবসার নতুন ফন্দি আঁটতে থাকে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন ধরে জনতা ব্যাংক তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও এর আগেই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রতিবেদনের তথ্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জানিয়েছিল। জনতা ব্যাংকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনেও ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলেও তাতেদুবাইয়ের সিইওকে রক্ষার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র বলছে, প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। প্রথম আলোর কাছে যেসব কাগজপত্র রয়েছে, তাতেও দেখা যায়, মেসার্স স্টিভেন ফ্রস্টের এলসি খুলতে দেরি হওয়ায় সিইও শাখা ব্যবস্থাপককে শক্ত চিঠিও দিয়েছেন। চিঠিতে সিইও আরও বলেছেন, ইতিপূর্বে টেলিফোনে ইস্যুগুলো সমাধা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। গ্রাহক এসব তথ্য প্রধান কার্যালয়কেও জানিয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকেও টেলিফোনে সিইওকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিতে সিইও শাখা ব্যবস্থাপককে নতুন করে নির্দেশনা দেন যে কোনো বিলম্ব ছাড়াই মেসার্স স্টিফেন ফ্রস্টের এলসিগুলো খুলতে হবে।
শাখা ব্যবস্থাপক আবদুল মোমেনও অনুসন্ধান কমিটির কাছে দেওয়া নিজ হাতে লেখা তাঁর চিঠিতেও এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি চিঠিতে বলেন, ‘আমার দায়িত্বকালের মধ্যে সিইও দুবাই ক্যাম্প খুলেছেন এবং তাঁর নির্দেশমতোই আমি সব এলসি খুলেছি এবং অন্যান্য কাজ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, এলসির কাগজপত্র সংরক্ষণ করা, নথিভুক্ত করাসহ যাবতীয় দলিলাদি হস্তান্তর করার বিষয় নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম শাহাবুদ্দিন এবং দুবাই ক্যাম্পে অবস্থানকারী প্রধান নির্বাহী সফিকুল ইসলাম জানেন।
জনতা ব্যাংকের অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ছিলেন মহাব্যবস্থাপক এম জহিরুল আলম। গতকাল সিইওকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তিন মাস আগের অনুসন্ধানের বিষয়ে পুরোপুরি স্মরণ করতে পারছেন না বলে জানান।
যেভাবে জালিয়াতি: জাতিসংঘের কিছু বিধিনিষেধ থাকায় ইরান থেকে বাংলাদেশে সরাসরি পণ্য আমদানি করা যায় না। মেসার্স স্টিভেন ফ্রস্ট দুবাই থেকে মধ্যস্থতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেয়। এ জন্য জনতা ব্যাংকের দুবাই শাখায় ঋণপত্র বা এলসি খুলে পণ্য এনে তারপর তা পাঠায় চট্টগ্রাম বন্দরে।
স্টিভেন ফ্রস্ট ইরান থেকে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুললে রপ্তানিকারক পণ্য পাঠিয়ে জাহাজীকরণ দলিল দেয় জনতা ব্যাংক দুবাই শাখাকে। শাখা স্টিভেন ফ্রস্টের অনুমোদন নিয়ে ইরানের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে স্বীকৃতিপত্র (এক্সসেপটেন্স) পাঠিয়ে দেয়। আবার আমদানির মূল্য না নিয়েই স্টিভেন ফ্রস্টকে জাহাজীকরণ দলিল দিয়ে দিয়েছে। স্টিভেন ফ্রস্ট তা চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেওয়ায় পণ্য খালাসও হয়ে গেছে।
এদিকে স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার তিন মাস পর ইরানের ব্যাংক অর্থ পরিশোধের জন্য জনতা ব্যাংককে চিঠি দেয়।ব্যাংক কোম্পানিটির কাছে টাকা চাইলে ত্রুটিপূর্ণ দলিল উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি অর্থ পরিশোধ করেনি। ইরানের ব্যাংক দলিলটি ফেরত চাইলে স্টিভেন ফ্রস্ট জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিএল ছাড়া দলিল পাঠিয়ে দেয়। বিষয়টি ইরানের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অভিযোগ করলে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান অভিযোগটি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায়। এর পরই বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিয়ে তদন্ত করে।
No comments