উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরায় সুনামগঞ্জের তিন গ্রামে হামলা-লুটপাট, গুলিবিদ্ধ ৩

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরার অপরাধে ইজারাদার ও তার লোকজন মৎস্যজীবী অধ্যুষিত তিনটি গ্রামে গুলিবর্ষণসহ অগি্নসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইনছানপুর, ঝুনুপুর ও মাসুমপুর গ্রামে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ তাণ্ডব চালানো হয়। ইজারাদারের অতর্কিত আক্রমণে মৎস্যজীবীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।


হামলাকারীদের বন্দুকের গুলিতে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়। সে সময় ১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে।
গ্রামের মৎস্যজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইনছানপুর, ঝুনুপুর ও মাসুমপুর গ্রামবাসী হালির হাওরের ছাতিধরা বিলের পাশে রাতলা স্লুইস গেটে বরাবর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে। শনিবার সকালে গ্রামের লোকজন জলাশয়ের উন্মুক্ত স্থানে মাছ ধরতে গেলে ছাতিধরা বিলের ইজারাদার সামছুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়া তাদের বাধা দেন। সে সময় ইজারাদারের লোকজনের সঙ্গে মৎস্যজীবীদের কথাকাটাকাটি হয়। ঝুনু মিয়ার পক্ষে যোগ দেন তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা দীনেশ রঞ্জন দাস। তাঁরা জলাশয়ের প্রহরী ও তাঁদের এলাকার ভাড়াটে লাঠিয়ালদের সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও চারটি বন্দুকের সাহায্যে ওই তিনটি গ্রামে অতর্কিত হামলা চালান। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি হামলায় তিন গ্রামের লোকজন ভয়ে পালিয়ে যায়। সে সময় ইনছানপুর গ্রামের মকবুল হোসেন, শাহজাহান মিয়া, রুহুল আমীন, আলীনুর, গোলাম হোসেনসহ ১০ জনের বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়। ঝুনু মিয়ার ভাড়াটে বন্দুকধারীদের বেপরোয়া হামলায় তিনজন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়। গুলিতে গুরুতর আহত দিলাল মিয়া, মকবুল, ফয়জুদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইনছানপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বুরহান উদ্দিন বলেন, 'আমরা সব বৈধতা নিয়ে ইজারা পেলেও ঝুনু মিয়া আমাদের বাধা দিয়ে যাচ্ছেন।' ঝনু মিয়ার সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতাও এই জলমহালের ব্যবসার অংশীদার বলে তিনি জানান।
ছাতিধরা বিলের সাব ইজারাদার সামছুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়ার ছেলে সাজ্জাদ মাহমুদ গ্রামে হামলা, গুলি ও অগি্নসংযোগ ও লুটপাটের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের জলমহালে ঝুনুপুর ও ইনছানপু গ্রামের লোকজন লুটপাট ও অগি্নসংযোগ করেছে।
জামালগঞ্জ থানার ওসি জানে আলম খান জানান, মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পরই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

No comments

Powered by Blogger.