বিভক্ত ডিসিসির বিবর্ণ চিত্র-নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করবে কে?

০ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে 'ডিসিসির কার্যালয় বন্ধ, দুর্ভোগে নগরবাসী' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভক্ত ডিসিসির নাজুক চিত্র ফুটে উঠেছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করার পর থেকে নাগরিকসেবা বলতে কিছু আর নেই। বিভক্ত ডিসিসির ৯০টি ওয়ার্ডই এখন কাউন্সিলরশূন্য। নগর ভবনে গিয়েও মিলছে না জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব কিংবা ওয়ারিশের সনদপত্রসহ জরুরি কাগজপত্র। এমতাবস্থায় সংগতভাবেই প্রশ্ন দাঁড়ায়, তাহলে কি


নগরবাসীকে নাগরিকসেবা পাওয়ার জন্য আগামী মেয়র নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? এমনিতেই ডিসিসির সেবার মান নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন ছিল, আর এখন অবস্থা দাঁড়িয়েছে আরো হ-য-ব-র-ল। সমস্যা জর্জরিত এই নগরীতে নগরবাসী করের বিনিময়ে যে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে, তা একদিকে যেমন অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত; অন্যদিকে তা ক্ষোভমিশ্রিত জিজ্ঞাসার জন্ম দেয়_কেন এমন হবে? বিভক্ত ডিসিসি এখন যেন অভিভাবকহীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বিবর্ণদশা এবং সেবার মানসহ বহুমুখী প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দায়ভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। ডিসিসির বিভক্তি নিয়ে যে নানা কথা কিংবা জটিলতা বিদ্যমান, সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের সার্বিক দায়ভার যাদের ওপর বর্তায় তারা সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং তাদের পক্ষে নাগরিকসেবা নিশ্চিতকরণসহ যেকোনো বিষয় এড়িয়ে যাওয়া দুরূহ। জনভোগান্তির ব্যাপারে এই যে নির্বিকারত্ব তা একদিকে যেমন বিস্ময়কর, অন্যদিকে উদ্বেগজনক। নাগরিক সেবাপ্রার্থীদের সার্বিক ক্ষতির চিত্র ক্রমেই স্ফীত হচ্ছে। ডিসিসির এই হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির শেষ কোথায়, এর জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেই। নাগরিকসেবার কিছু রুটিন কার্যক্রম রয়েছে। সেসব কার্যক্রম যদি এক দিনের জন্যও ব্যাহত হয়, তাহলে জনভোগান্তি সীমাহীন হতে বাধ্য এবং হয়েছেও তাই।
সৃষ্ট নাগরিক দুর্দশার ব্যাপারে ইতিমধ্যে পত্রপত্রিকায় বিস্তর লেখালেখি হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মৌনতা রহস্যজনক। এর ফলে একদিকে যেমন ছোটখাটো সমস্যাও সংকটে রূপ নিচ্ছে, অন্যদিকে নগরবাসী শিকার হচ্ছে চরম ভোগান্তির। জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব ওয়ারিশের সনদপত্রসহ এমন কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয় রয়েছে, যেগুলো ব্যাহত হলে মানুষের জীবনের অত্যন্ত জরুরি বিষয় ব্যাহত হবে এবং হচ্ছেও। এমনটি নিশ্চয়ই সীমাহীন ক্ষতি এবং এই ক্ষতির বোঝা মানুষকে সারা জীবন বহন করতে হবে। এমনটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ডিসিসির বিদ্যমান হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে কালবিলম্ব না করে। কিভাবে সমন্বয় সাধনের ভিত্তিতে তা করা হবে, এর পথ বাতলাতে হবে সরকারকে। জনভোগান্তি প্রত্যক্ষ করে মৌন থাকার কোনো অবকাশ নেই। যে নাগরিকসেবা বাড়ানোর কথা বলে ডিসিসি ভাগ করা হলো, এর ফল এখনই যদি এতটা বিরূপ হয় তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা সংগতই আরো পুষ্ট হবে। ডিসিসির উভয় অংশে নিয়োগপ্রাপ্ত শাসকদ্বয় কী করছেন, এও জরুরি প্রশ্ন। নিয়োগপ্রাপ্ত শাসকদ্বয় নির্বাচিত প্রতিনিধি না হলেও তাঁরা তো মেয়রের সমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তি। তাঁরা তাঁদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি নিশ্চয়ই ভুলে থাকতে পারেন না। মেয়র নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন নাগরিকসেবা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে, এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কি আমলে ছিল না? নগরবাসী নিত্য যে ভোগান্তি ও দুর্দশার শিকার হচ্ছে এর আশু অবসানই হলো জরুরি কথা।

No comments

Powered by Blogger.