'শান্তি প্রতিষ্ঠায় হাক্কানির সঙ্গে বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র'

ফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত মঙ্গলবার এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। হাক্কানিসহ বিভিন্ন সংগঠনের সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিলারি বলেন, 'হাক্কানি নেটওয়ার্কসহ আফগানিস্তানে তৎপর গোষ্ঠীগুলো আমেরিকা, আফগানিস্তান ও ন্যাটো জোটের সদস্যদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। আমরা কারো জন্যই আমাদের দরজা বন্ধ করব না। যেখানেই এগোনোর পথ আছে, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।


' হাক্কানি নেটওয়ার্ক আফগান সরকারের সঙ্গে ঐক্য স্থাপন করবে কি না_এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তবে এ গোষ্ঠীগুলো বা এর সদস্যরা এখনই শান্তি আলোচনার ব্যাপারে আন্তরিক কি না তা বলার সময় এখনো আসেনি বলে জানান তিনি।
এক দশক ধরে আফগানিস্তানে লড়াই চালানোর পর এখন হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো সংগঠনগুলোর সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পেঁৗছানোর বিষয়টি ওবামা প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা গত মাসে কাবুলে মার্কিন দূতাবাসে হামলার জন্য হাক্কানিকেই দায়ী করেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, হাক্কানির মূল ঘাঁটি পশ্চিম পাকিস্তানে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) হাক্কানি নেটওয়ার্ককে মদদ দেয়। ইতিমধ্যে ওবামা প্রশাসন এই জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যথায় তারা সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, মার্কিন কর্মকর্তারা হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। তবে চুক্তিতে পেঁৗছানোর মতো স্পষ্ট কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত তথ্য জানায়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগাননীতি প্রসঙ্গে শান্তি আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে এগোনোর ব্যাপারেই ওবামা প্রশাসন অধিক আগ্রহী। তবে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন হিলারি। তিনি মনে করেন, সামরিক চাপের কারণেই জঙ্গিরা আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে। সূত্র : দ্য ডন, এএফপি।

No comments

Powered by Blogger.