ফিলিস্তিনি বন্দি রাখা কারাগারের চারপাশে কুমিরের পরিখা খনন শুরু করেছে ইসরায়েল

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে একটি উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারের বিশেষ অংশ ঘিরে কুমির রাখার উদ্দেশ্যে পরিখা খননের কাজ শুরু হয়েছে। এ কারগারটিতে হামাস সদস্যদের রাখা হয়েছে। দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।

বুধবার ইয়েদিওথ আহরোনোথ পত্রিকা এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ বরাতে মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়, কেতজিওত কারাগারের একটি বিশেষ নিরাপত্তা উইং ঘিরে প্রায় ১৭০ মিটার দীর্ঘ পরিখা খনন করা হচ্ছে।

কারাগারটি যে রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের অধীনে অবস্থিত, সেখানকার এক স্থানীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পরিখাগুলো কারাগারের ভেতরে বিশেষ উইংয়ের চারপাশে খনন করা হচ্ছে এবং বাইরে থেকে সেগুলো দেখা যায় না।

তিনি বলেন, সেখানে সত্যিই কুমির রাখা হবে কি না, তা কেউ নিশ্চিত নয়। তবে সে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ও কুমির রাখার জন্য নির্ধারিত খালের কাজ শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কুমির আনার সময়সূচি বা পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের ‍জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলম্যান একটি অধ্যাদেশে সই করেন। এর ফলে নীল নদের কুমিরকে নতুন একটি আইনি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় নিরাপত্তার প্রয়োজনে রাষ্ট্র কুমির নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারবে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নিরাপত্তা বাহিনী কুমির ব্যবহার করতে পারবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মূলত জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের প্রস্তাবের পরই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য চারপাশে কুমির দিয়ে ঘেরা একটি কারাগার তৈরির প্রস্তাব দেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ ডিটেনশন সেন্টার থেকে তিনি এ ধারণা পেয়েছেন।

তবে ইসরায়েল প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলেছেন, কুমিরকে শুধু শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা উচিত। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টা নেটা ডোরি বলেন, এ পরিকল্পনার পক্ষে যথেষ্ট আইনি বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, আক্রমণাত্মক কুকুর সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকায় তারা কুমিরও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে নেটা ডোরি বলেন, কুমিরের মতো বিপজ্জনক বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনায় কারা কর্তৃপক্ষের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

পরিকল্পনাটি অনুমোদনের পর বেন গাভির ফেসবুকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তাকে শিকলে বাঁধা একটি কুমির টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, সন্ত্রাসীরা পালানোর কথা ভাবার আগে আরেকবার ভাবুক।

এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, পাহারার কাজে বন্যপ্রাণী ব্যবহার করা অনৈতিক এবং এতে কুমির ও মানুষের নিরাপত্তা, দুই-ই ঝুঁকিতে পড়বে। 

কুমির। ভিন্ন ঘটনার ছবি
কুমির। ভিন্ন ঘটনার ছবি