হলিউড- ওয়াইল্ড মানে বন্য নয়

নাম যাঁর ওয়াইল্ড, হরিণীর চঞ্চলতা তাঁকে মানায়। একটু বুনো উদ্দামতা নিয়ে লাফ-ঝাঁপ করে বেড়ালে, কেউ গালমন্দ করবে না নিশ্চয়ই। কিন্তু অলিভিয়া ওয়াইল্ড হয়েছেন একেবারে উল্টোটা। মধ্য দুপুরের নিস্তরঙ্গ পুকুরের মতো তিনি স্থির। বয়স মোটে ২৮। এ সময় হলিউড তারকাদের নিয়ে রং ছড়ানো সব খবর বেরোয়।


এর ওর সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম, লাগামহীন নৈশজীবন, নিদেন ট্রাফিক আইন অমান্য করা; না, কোনোটাই পাবেন না ওয়াইল্ডের মধ্যে।
চরম ক্যারিয়ারমুখীও নন। নিজের ক্যারিয়ারের জন্য প্রয়োজনে সবকিছু করতে পারেন—এমন তারকাদের সংখ্যা যখন গুনে গুনে ক্লান্ত হতে হয়; সেই সময় ওয়াইল্ড নিজের ব্যস্ত সময়ের একটা বড় অংশ দিয়ে দিয়েছেন সমাজসেবায়।
তার মানে এমন নয়, অভিনয়ের ওপর থেকে ভালোবাসা উঠে গেছে তাঁর। অভিনয়ই প্রথম প্রেম। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে ব্র্যাডলি কুপারের সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি দ্য ওয়ার্ডস। এ ছবি একজন শব্দশ্রমিকের। অর্থাৎ এক লেখকের জীবন নিয়ে ছবির কাহিনি। খ্যাতির শীর্ষে থাকার সময় ররি জেনসেন নামের সেই লেখক মুখোমুখি হবেন কঠিন এক বাস্তবতার। অন্য একজনের লেখা চুরি করে আজ যে তাঁর এই প্রতিষ্ঠা, সেটারই চরম মূল্য চুকোতে হবে তাঁকে।
ওয়াইল্ডের চরিত্রটি মনোলোভা এক ছাত্রীর। লেখককে যে জড়িয়ে ফেলতে চায় প্রেমের মায়াজালে। ‘এটা ছবির প্রধান চরিত্র নয়। কিন্তু তাতে আমার অহংবোধের কোনো সমস্যাও নেই’—বলেছেন ওয়াইল্ড। বরং পার্শ্ব চরিত্রের একটা মজা যে আছে, সেটাই বড় মনে হয়েছে তাঁর কাছে, ‘আপনি যখন ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন, তখন ছবিটির সাফল্যের সম্ভাবনার ভারটি আপনার কাঁধেই থাকে। এটা অনেক দায়িত্বের। কিন্তু এ ছবিতে আমি এমন কোনো মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করিনি, যার প্রেমে সবাইকে পড়াতেই হবে।’
মা-বাবা দুজনই নামকরা সাংবাদিক। এমন একটা আবহে বড় হয়েছেন, তাঁর হাতের পাশে ছড়ানো ছিল বিশ্বের ধ্রুপদি সব সাহিত্য। ‘যখন ছোট ছিলাম, আমি নিজে হেমিংওয়ে আর ফিৎজেরাল্ডের প্রেমে পড়েছিলাম’—দ্য ওয়ার্ডস ছবির ড্যানিয়েলে চরিত্রটির উচ্ছ্বাস ভেসে এল ওয়াইল্ডের কণ্ঠে!
তবে ওয়াইল্ডের কণ্ঠে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাসের খোঁজ মেলে ‘আর্টিস্টস ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস’ নামের সংগঠনটির প্রসঙ্গ তুললে। এ সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা তিনি। তহবিল সংগ্রহ করে সংগঠনটি হাইতির দুর্গত মানুষের জন্য কাজ করছে। ওয়াইল্ড নিজে বেশ কবার বিধ্বস্ত দেশটি ঘুরেও এসেছেন। ‘পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান আপনি একসঙ্গে করে ফেলতে পারবেন না। কিন্তু কিছু না করার চেয়ে, কিছু অন্তত করা অনেক ভালো’—এই হচ্ছে তাঁর দর্শন।
২০০৯ সালে গড়ে তোলা তাঁর সংগঠনটি হাইতির শিশুদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করছে। এরই মধ্যে কেনিয়াসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশেও ঘুরে এসেছেন। একদম কাছ থেকে দেখেছেন দারিদ্র্যের সবচেয়ে রূঢ় চেহারা। দেখেছেন, প্রচণ্ড অভাবের মধ্যেও আধপেটা খেয়ে থাকা মানুষ কীভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। সেই দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন করে উদ্দীপিত করেছে। বলেছেন, ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করে, হাইতি আর আফ্রিকার অন্যান্য দেশে এত এত দারিদ্র্য দেখার পরেও আমি কীভাবে আশার কথা বলি। কিন্তু আমি দেখেছি, সেই দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করা নারীরাই যখন হাল ছেড়ে দেননি, তা হলে আমি কেন দেব?’
 রাজীব হাসান
হলিউড রিপোর্টার অবলম্বনে

No comments

Powered by Blogger.