বগুড়া বিআরটিসি- যাত্রী বেড়েছে কমেছে সেবা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি) বগুড়া ডিপোর নিয়ন্ত্রণাধীন ২৯ যাত্রাপথে বিআরটিসি বাসে যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি সেবার মান। বেশিরভাগ যাত্রাপথে চলাচলকারী বাসগুলো পুরোনো ও লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা। এসব বাস প্রায়ই মাঝ রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে। আবার কোনো কোনো যাত্রাপথে যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা কম।


বিআরটিসি বগুড়া ডিপোর পরিচালক শুভাশিস পোদ্দার বলেন, বর্তমানে যাত্রীসংখ্যার তুলনায় এ ডিপোর বিভিন্ন যাত্রাপথে বাসের চাহিদা প্রায় ১০০। অথচ মাত্র ৫২টি বাস দিয়ে যাত্রীসেবা দেওয়া হচ্ছে। নতুন আরও ৩০টি বাসের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
বিআরটিসি বগুড়া ডিপো সূত্রে জানা যায়, বগুড়া ডিপো থেকে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের ২৯টি যাত্রাপথে ৫২টি বাস চলাচল করে। এসব বাসের মধ্যে মাত্র ১০টি নতুন এবং ৪২টিই পুরোনো। বিভিন্ন যাত্রাপথে বাসের ধারণক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ যাত্রী থাকলেও ডিপোতে প্রয়োজনীয় বাস সংকটের কারণে কোনো যাত্রাপথেই নতুন বাস সংযোজন করতে পারছে না বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ।
জয়পুরহাট থেকে বিআরটিসি বাসে নিয়মিত যাতায়াত করেন চাকরিজীবী সারোয়ার আলম। তিনি বলেন, এ পথে হাতেগোনা কয়েকটি বাস চলাচল করে। অথচ প্রতিদিনই যাত্রীদের অসম্ভব রকমের ভিড় থাকে। অধিকাংশ সময় দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা বাস প্রায়ই মাঝ রাস্তায় বিকল হয়ে ভোগান্তি বাড়ায়।
বগুড়া থেকে জয়পুরহাটে নিয়মিত যাত্রী আবদুল মান্নান বলেন, বেসরকারি বাসের চেয়েও বিআরটিসি বাসে ভাড়া বেশি নেওয়া হয়। অথচ সরকারি সংস্থার এ বাসে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। রাস্তায় রাস্তায় বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়। নির্ধারিত গন্তব্যের টিকিটও ঠিকমতো দেওয়া হয় না।
বিআরটিসি বগুড়া ডিপোর উপমহাব্যবস্থাপক আলমাস আলী প্রথম আলোকে বলেন, বগুড়া ডিপোর ২৯ যাত্রাপথে দিন দিন যাত্রীসংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু সীমিত বাস দিয়ে যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিআরটিসি বাসে ভ্রমণে আগ্রহের কারণেই বগুড়া লাভজনক ডিপো হিসেবে যাত্রীদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে একবার কয়েকটি যাত্রাপথে দোতলা বাস নামানো হয়েছিল। কিন্তু বেসরকারি পরিবহন মালিকদের আপত্তির কারণে বাসগুলো বেশি দিন চালানো সম্ভব হয়নি।

No comments

Powered by Blogger.