কয়লা ব্লক কেলেঙ্কারি-ভারতের পার্লামেন্টে অচলাবস্থা সর্বদলীয় বৈঠক আহবান

কয়লা ব্লক কেলেঙ্কারি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবারও সরকার এবং বিরোধী দলের নেতারা ভারতের পার্লামেন্টে হট্টগোল করেছে। ফলে তৃতীয় দিনের মতো গতকালও পার্লামেন্টে উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভার অধিবেশন মুলতবি করা হয়।


এদিকে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে উপ-রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হামিদ আনসারি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। তবে এ বৈঠকে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির যোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কয়লা ব্লক বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করে আসছে বিরোধী দলগুলো। এ নিয়ে গত তিন দিন পার্লামেন্টে ব্যাপক হট্টগোল হয়। গতকাল সকালে অধিবেশনের শুরুতেই হট্টগোল সৃষ্টি হয়। ২০০৫ সালে কয়লা ব্লক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য নিলাম আহ্বানের বিরোধিতা করেছিল বিজেপি ও বাম দলগুলো। তারা এ-সংক্রান্তে সেই সময়কার বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনের কপি গতকাল পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই বিলি করে। এ কারণে প্রথম দফায় পার্লামেন্টের দুই কক্ষের অধিবেশন দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। এরপর পুনরায় রাজ্যসভার অধিবেশন বসে। এ সময় এনডিএ নেতারা 'প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করো' স্লোগান দেয়। বিজেপিসহ বিরোধীদের দমাতে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। কংগ্রেসের নেতারা 'প্রধানমন্ত্রী জিন্দাবাদ' এবং 'ইউপিএ সরকার জিন্দাবাদ' বলে স্লোগান দেয়। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হামিদ আনসারি দুই পক্ষকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে তাঁর আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় তিনি পুনরায় অধিবেশন মুলতবি এবং বিকেলে সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান করেন। সর্বদলীয় বৈঠকে বিজেপির যোগ দেওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ তারা এ নিয়ে আলোচনায় বসতে নারাজ। এর আগে গত বুধবার পার্লামেন্টারি কমিটির সঙ্গে বৈঠক থেকে বিজেপি ওয়াকআউট করে। গতকাল লোকসভার অধিবেশনেও হৈচৈ হওয়ায় স্পিকার মীরা কুমার দুপুর ২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করেন।
বিরোধীদের দমাতে কংগ্রেস নেতাদের নেওয়া পদক্ষেপ সমর্থন করেননি সোনিয়া গান্ধী। এ ধরনের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য তিনি সংসদ সদস্যদের কড়া ভাষায় নিষেধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমাদের এমন পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক নয়। এটা ভুল।' কংগ্রেস নেতারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই আলোচনা করতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী যাতে পার্লামেন্টে কথা বলতে না পারেন, এ ইস্যুতে কথা বলতে না পারেন সেজন্য বিজেপি হট্টগোল করছে বলে তাঁরা মনে করছেন।' কয়লা ব্লক বরাদ্দ নিয়ে গত সপ্তাহে কম্পট্রলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) একটি প্রতিবেদন নিয়ে পার্লামেন্টে হট্টগোলের সূত্রপাত। এতে বলা হয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বেসরকারি কম্পানিকে কয়লা ব্লক বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এর ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ দশমিক ৮৬ লাখ কোটি রুপি (তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলার)। এ সময় কয়লা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন মনমোহন সিং। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, পিটিআই।

No comments

Powered by Blogger.