প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ১০ হাজার ডলার নিয়েছিলেন হুমায়ূন

নিউইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদকে তাঁর বাস ভবনে দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিক তাঁকে ১০ হাজার ডলার সরকারী অনুদান দিয়ে বলেছিলেন প্রয়োজনে আরও দেয়া হবে। তাঁর মৃত্যুর পর বিভিন্ন মিডিয়ায় রিপোর্ট হয়েছে যে, হুমায়ূন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ১০ হাজার ডলার গ্রহণ না করে বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।


কিন্তু প্রকৃত তথ্য হচ্ছে যে নিউইয়র্কে হুমায়ূনের কোন ব্যাংক এ্যাকাউন্ট না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া চেকটি তাঁর পক্ষে ভাঙানো সম্ভব হবে না বলে তা জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন ফিরিয়ে নিয়ে তাকে নগদ ১০ হাজার ডলার দিয়েছিল। এ ছাড়াও তার মরদেহ ফিউনেরাল হোমে রাখা ও দেশে পাঠানো এবং তার পরিবারের চারজনের বিমান টিকেট খরচ বাবদ প্রায় ২০ হাজার ডলার সরকারী কোষাগার থেকে দেয়া হয়েছে। এসব খরচই সরকারের পক্ষে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন করেছে।

হুমায়ূনের চিত্রকর্ম কোথায়?
জীবনের শেষ দিনগুলোতে নিউইয়র্কে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নিবিষ্টচিত্তে ছবি আঁকায় মনোযোগ দিয়েছিলেন। সৃষ্টি করেছিলেন অনেক চিত্রকর্মের। গত জুলাই মাসে নিউইয়র্কে মুক্তধারা আয়োজিত বইমেলা ও বাংলা উৎসবে তার চিত্রকর্মগুলোর প্রদর্শনীও হয়েছিল। শারীরিক অবস্থা ভাল না থাকায় সেই প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকতে পারেননি হুমায়ূন। নিউইয়র্কে বিদগ্ধ মহল প্রশ্ন তুলেছে যে হুমায়ূনের শেষ জীবনে আঁকা এই চিত্রকর্মগুলো কার হেফাজতে রয়েছে? কারন যতদূর জানা গেছে যে তার পরিবার দেশে যাবার সময় এসব নিয়ে যেতে পারেনি, কারন তা তাদের হেফাজতে ছিল না। একটি সূত্র দাবি করেছে এই চিত্রকর্মগুলো নিয়ে রীতিমত একটি চুলোচুলি ঘটনাও নাকি ঘটেছিল। মৃত্যুর পর হুমায়ূনের সৃষ্টি এই চিত্রকর্ম নিঃসন্দেহে এখন মহামূল্যবান সম্পদ। কিন্তু মহামূল্যবান চিত্রকর্মগুলো কে হাতিয়ে নিয়েছে তা এখন সবার কাছে প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। হুমায়ূন ভক্ত এবং সাধারণ প্রবাসীরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি করেছেন যে শীঘ্রই এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে হুমায়ূনের চিত্রকর্মগুলো উদ্ধার করে তা যথাযথ সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নেয়া হয় যেন। বিলম্ব হলে এসব আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

No comments

Powered by Blogger.