এখন সরকার-বিশ্বব্যাংক সমঝোতা প্রত্যাশিত-সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ

মন্ত্রিসভা থেকে সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগের মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হবে বলে আশা করা যায়। কয়েক দিন ধরেই তাঁর পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা চলছিল। সৈয়দ আবুল হোসেনও সংবাদপত্রে প্রকাশিত তাঁর খোলা চিঠিতে বৃহত্তর স্বার্থে পদত্যাগের আভাস দিয়েছিলেন।


নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা বললেও সরকার বিশ্বব্যাংকসহ দাতাদের ঋণের বিষয়টি একেবারে বাদ দেয়নি। আবুল হোসেনের পদত্যাগ পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকসহ দাতাগোষ্ঠীর অর্থায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।
সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করার যে ঘোষণা দিয়েছে, তার সঙ্গে দ্বিমত নেই। কিন্তু সে জন্য দাতাগোষ্ঠীর সঙ্গে তিক্ততা জিইয়ে রাখার যুক্তি নেই। কারণ, তা এই ধরনের সামর্থ্য অর্জনের পথকে অহেতুক কণ্টকিত করতে পারে। বিলম্বে হলেও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার পথ প্রশস্ত হলো বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের প্রশ্নে জাতিকে রোববার আশার বাণী শুনিয়েছেন। পদ্মা সেতুর ঋণ পেতে বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্তও পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর রোববারের বক্তব্য বিশ্বব্যাংক প্রশ্নে সরকারের এযাবৎকালের অবস্থানের মধ্যে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর গোল্ডস্টেইনের দেওয়া চার শর্তের মধ্যে “চতুর্থটি” মেনে নেওয়া একটু অসুবিধা ছিল।’ সম্ভবত এটাই ছিল সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া। সে ক্ষেত্রে আমরা এখন আশা করতে পারি, বিশ্বব্যাংক বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখবে এবং পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে এগিয়ে আসবে।
আমরা মনে করি, সরকারের নীতিনির্ধারকদের যেমন কথাবার্তায় সংযত হতে হবে, তেমনি কাজের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ছাড়া বিশ্বব্যাংকের আনা অভিযোগকে উড়িয়ে দেওয়ার যে অবস্থান সরকার নিয়েছিল, সে ধরনের মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান পরিবর্তিত হবে, এটাই প্রত্যাশিত। ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগের দায় এবং তার খেসারত দেশের ১৬ কোটি মানুষ দেবে, তা হতে পারে না। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ বিবৃতিতে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নে তাদের অঙ্গীকার যথার্থই প্রতিফলিত হয়েছিল। তারা বলেছিল, ঋণচুক্তি পুনরায় সম্পাদনের সুযোগ সীমিত হলেও সেই সম্ভাবনা এখনো রয়ে গেছে। আমরা আশা করব, সরকারের পরিবর্তিত মনোভাবের কারণে সেই সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। আশা করছি, সরকার যত দ্রুত সম্ভব এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দেনদরবার শুরু করবে।
আমরা মনে করি, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে দেনদরবারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান গণমাধ্যমে প্রকাশ বা ব্যাখ্যা করার প্রশ্নে সরকারি মহলের বহু মুনি প্রথার অবসান ঘটানো উচিত। এ জন্য একজন বিশেষ মুখপাত্র নিয়োগ দেওয়ার কথা সরকার ভাবতে পারে। দায়িত্বহীন উক্তির ঝুঁকি হ্রাস ও অহেতুক বিতর্ক এড়ানো তাদের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

No comments

Powered by Blogger.