প্রথম আলো পুরস্কার ২০১১-আজ সেই তারা ঝলমলে দিন by শফিক আল মামুন

মেরিল-এ বছর মহড়াকক্ষে প্রথম প্রবেশ আরেফিন শুভর। ঢুকেই যেন মনের একান্ত কথা বলে বসলেন, ‘ওহ! আবার সেই মহড়া, আবার সেই উত্তেজনা।’ হ্যাঁ, উত্তেজনা শুরু হয়ে গেছে তারকা-মহাতারকাদের প্রতিদিনের মহড়ায়। সঙ্গে আনন্দবাহিনীর হুড়োহুড়ি-ছোটাছুটির মাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে।


প্রথম আলো কার্যালয় থেকে শুরু করে মগবাজার স্টুডিওপাড়া ও শিল্পকলা হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের রাজধানী সু্কলে গিয়ে এই মহড়ার ঢেউ লেগেছে। মহড়াকক্ষ থেকে উত্তেজনার ডালপালা ছড়িয়ে গেছে সারা দেশের প্রথম আলোর অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী আর পাঠকদের মধ্যে। তারকাবহুল মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারযজ্ঞ। আর এই যজ্ঞকে ঘিরে এ বছর কোন তারকা কে কী করছেন—এমন প্রশ্ন এখন হাজারো পাঠকের মধ্যে। ২৬ তারিখ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম ঝলমলে হয়ে ওঠার আগ পর্যন্তই অপেক্ষার পালা।
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠান মানেই যেন তারকা-মহাতারকাদের এক জায়গায় এক মঞ্চে মহামিলন। তাই হাজারো ব্যস্ততা ফেলে মহড়ার দিনগুলোর জন্য সময় বের করা চাই-ই চাই।
একটি গানের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৪ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত হাবিবের হংকংয়ের অবস্থান করার কথা। কিন্তু মাঝখানে একটা দিন বের করে হংকং থেকে বিমানযোগে রাতে ফিরে ২৬ তারিখে সকালে মহড়ায় অংশ নিয়ে, সন্ধ্যার অনুষ্ঠান শেষে আবার হংকং ফিরবেন। এই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে কে মঞ্চে উঠবেন, তা দর্শকের কাছে ধোঁয়াশা হয়েই থাক। একই অবস্থা শুভর। ২২ থেকে ২৮ এপ্রিল দুবাইয়ে একটা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা। শুধু প্রথম আলোর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য অনুষ্ঠান বাতিল করে দিয়েছেন।
এ কথা ধরেই প্রথম আলো আমাদের মনে রাখবে তো,’—মহড়াকক্ষে বসেই হাসতে হাসতে কানের কাছে ফিসফিস করে ইমন এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন। শুনেই শখ একটু সিরিয়াস ভাব নিয়ে ইমনের উদ্দেশে বলে উঠেলেন, ‘কী বলো তুমি? প্রথম আলো আমাদের পত্রিকা।’ ইমনের হাসি যেন আর থামে না। হাসি থামিয়ে বললেন, ‘এ জন্যই তো ছয়-সাত বছর ধরে অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে যাচ্ছি।’
এদিন সবার আগে নিপুণ এসে মহড়াকক্ষে বসলেন। শাহেদের জন্য অপেক্ষা। তখনো শাহেদ আসেননি। উত্তরা থেকে শুটিং শেষে ফিরবেন। আনন্দবাহিনী তাঁর অবস্থান জানার জন্য ফোনে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একটা সময় নিস্তার। একজন এসে জানালেন, আর মাত্র ১০ মিনিট। তিনি এখন মহাখালী। বেচারা নিপুণ একটু মুচকি হাসলেন। বললেন, ‘তাহলে নিশ্চিত উত্তরা। এ খবর তো মোবাইলের। বিশ্বাস করা কষ্টকর।’ চারদিকে হাসির রোল পড়ে গেল।
মীমের জ্বর। ১০২ ডিগ্রি। অন্যদিকে নাটকের শুটিং। পুরো বিপর্যস্ত মীম। কিন্তু সাড়ে ১০টার মধ্যে তো মহড়াকক্ষে হাজির হতেই হবে। অন্যদিকে মহড়ার উত্তেজনার পাশাপাশি হরতাল। গাড়ি চলা বন্ধ। কয়েকটি জায়গায় গাড়িতে আগুন। শুটিং শেষে উত্তরা থেকে ফিরতেও খুব সমস্যায় মীম। শেষ পর্যন্ত সংবাদপত্রের গাড়িতে করে মহড়াকক্ষে হাজির হলেন তিনি। এর মধ্যে মহড়ায় ঢুকে পড়েছেন মৌসুমী। সঙ্গে ফেরদৌস। দুজনের টানা মহড়া চলছে। হঠাৎ মৌসুমী থেমে গেলেন। কী যেন মনে পড়ে ফিক করে হেসে দিলেন! যেন না বুঝে সঙ্গে ফেরদৌসও হেসে উঠলেন। হাসতে হাসতে মৌসুমী ফেরদৌসের উদ্দেশে বললেন, ‘ফেরদৌস, তোমার একটা মুদ্রা কিন্তু কমন!’ ফেরদৌসও কম যান না। মুখ খুললেন, ‘তোমার সঙ্গে আমার এই মুদ্রা ভারি মানিয়ে যায়। নো টেনশন!’ ততক্ষণে তাঁদের দুজনের হাসি মহড়াকক্ষের চারপাশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গেল। ফেরদৌস-মৌসুমী—দুজনই অভিনয়শিল্পী। এর আগেও তাঁরা একসঙ্গে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠানে মঞ্চে জুটি হয়ে গানের সঙ্গে নেচেছেন। কিন্তু এবার কোন আকর্ষণ নিয়ে তাঁরা হাজির হচ্ছেন? নাচ, নাকি অভিনয়?। চমকটা চমকই থাক।
মীম যখন মহড়াকক্ষে হাজির, তখন রাত সাড়ে ১২টা। ততক্ষণে মহড়াকক্ষের এক পাশের চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়েছেন শুভ। মীমের উপস্থিতিতে মহড়াকক্ষ কিছুটা প্রাণ ফিরে পেলে। এদিকে নৃত্যপরিচালক তানজিল ছটফট করছেন। তিনি মহড়া শুরু করতে সহকারীকে হাঁক দিলেন। শুরু হলো গানের সঙ্গে নৃত্যের মহড়া। গান শুরু হয়েছে, নৃত্য দেখিয়ে দিচ্ছেন তানজিলের সহকারী মৃদুল। নাচতে নাচতে হঠাৎ মীম ধপাস! মুহূর্তেই মীম নিজেকে সামলে নিলেন। মীমের মা তো রীতিমতো চমকে উঠলেন। বললেন, ‘ওর শরীর খুবই খারাপ। ওষুধ খাইয়ে এনেছি। শরীর দুর্বল। প্রথম আলোর অনুষ্ঠান বলেই আসা।’
নিরব মহড়াকক্ষে আর সারিকা একটা নাটকের শুটিংয়ে কক্সবাজার। শুধু মহড়ায় অংশ নিতে জরুরিভাবে বিমানযোগে সারিকা ঢাকায় পৌঁছেছেন। পৌঁছেই সরাসরি প্রথম আলোর কার্যালয়ের মহড়াকক্ষে উপস্থিত। এসেই ঘোষণা দিলেন, ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠানের জন্য চার দিন সব শুটিং বন্ধ!’ তখন মৌসুমী-ফেরদৌসের মহড়া চলছিল। মৌসুমীকে দেখেই সারিকা এগিয়ে গেলেন। জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘আপু, তোমাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে!’ এ কথা শুনে পাশ থেকে কে যেন বলে উঠলেন, ‘আপুকে ২০ বছর ধরে একই রকম দেখে আসছি।’
খেলার মাঠে বল-ব্যাট হাতে দুরন্ত আশরাফুল আর নাসির মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠানের মহড়ায় কী করছেন? মহড়াকক্ষে তা-ই বোঝাছিলেন প্রথম আলোর উপসম্পাদক আনিসুল হক। গানের সঙ্গে নাচবেন? নাকি বল-ব্যাট হাতে মঞ্চে অন্য কারিশমা দেখাবেন? সঙ্গী হয়েছেন দেখছি তিন লাক্স তারকা ইশানা, মাষিয়াত আর স্বর্ণা। আনিসুল হক একটা-দুটো করে লাইন বোঝাচ্ছেন। শুনেই, ক্রিকেটার দুজন হাসতে হাসতে একে অপরকে ধরে যেন লজ্জায় মরে যাচ্ছেন।
এক সপ্তাহ ধরেই শুটিংয়ে মহা ব্যস্ত তারকারা সকাল-দুপুর-রাতে সময় বের করে এই অনুষ্ঠানের জন্য সময় দিয়ে চলেছেন। রাত-দিন সমানে মহড়া করে যাচ্ছেন। কয়েক দিন ধরে মহড়াকক্ষ যেন হাসি, আনন্দ, খুনসুটি আর উচ্ছ্বাসের মহড়াকক্ষে পরিণত হয়েছে। জুটি জুটি ধরে মহড়ায় অংশ নিলেও এক জুটি অন্য জুটিকে উৎসাহ দিচ্ছেন কাজ এগিয়ে নিতে। তবে কে কার চেয়ে মঞ্চে সেরা কাজ দিয়ে দর্শকের মন ভরিয়ে দেবেন, সেই প্রতিযোগিতাও ভেতরে ভেতরে থেমে নেই।

No comments

Powered by Blogger.