ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার অতঃপর...

ওয়ারেন্টে (পরোয়ানা) উল্লেখ করা মামলা নম্বর ভুল। যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাঠানো হয় সেটিও ‘ভুয়া’। এই ভুয়া পরোয়ানার ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে দুই ভাইকে। পরে জামিনে বেরিয়ে তাঁরা এ ঘটনায় মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ভুয়া পরোয়ানায় বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের আদেশ দিয়েছেন আদালত।


১৫ এপ্রিল মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। আদেশে আগামী ২ মের মধ্যে অধিকতর তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে পাঠানো একটি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত বছরের ২০ মার্চ বাকলিয়া থানার পুলিশ নুরুল আফছার ও সুলতানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া আফছার ও সুলতান নগরের বলিরহাট এলাকার হামিদুল্লাহ মুন্সির বাড়ির নুরুল হকের ছেলে। গ্রেপ্তার দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে পরোয়ানা ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তারা জামিনে মুক্তি পান।
এ ঘটনায় তাঁরা একটি মামলা করেন। ঘটনা তদন্তে গত বছরের মে মাসে সহকারী পুলিশ কমিশনার (উত্তর) এস এম তানভীর আরাফাতকে নির্দেশ দেন আদালত। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ডাকযোগে পাঠানো ওই পরোয়ানায় (দুজনের নামে দুটি) ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত, ঢাকা’ লেখা ছিল। তবে কত নম্বর আদালত তা উল্লেখ ছিল না। পরোয়ানায় যে মামলা নম্বরটি উল্লেখ ছিল তা ঢাকার মিরপুর থানার একটি চুরির মামলা। চুরির মামলাটিতে নুরুল আফছার ও সুলতান নামের কাউকে আসামি করা হয়নি।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ‘নুরুল আফছার ও সুলতানকে ভুয়া ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ প্রতিবেদনের শেষ অংশে লেখা আছে, ‘পরোয়ানা দুটি পুলিশের কাছে বিধিমোতাবেক গৃহীত হওয়ায় তামিল করা হয়েছে।’
ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নুরুল আফছার একজন জমি মাপজোককারী। একটি জমি মাফজোকের সূত্রে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর শত্রুতার সৃষ্টি হয়। ওই ব্যক্তি তাঁকে নারী নির্যাতন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন। সেই সুবাদে কোনো কারসাজি করে ওয়ারেন্ট দুটি পাঠানো হতে পারে।
১৫ এপ্রিল দেওয়া আদেশে আদালত বলেন, ‘এরূপ ক্ষেত্রে আরও নিবিড় তদন্ত করা উচিত ছিল। কাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তারা কী বলেছে এবং কোন কোন জায়গা পরিদর্শন করা হয়েছে সেসব বিষয় রিপোর্ট থেকে বোঝা যায় না।’ বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন আদালত।

No comments

Powered by Blogger.