গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা যেন ব্যাহত না হয়-সংকটে গিলানি সরকার

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন পিপলস পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) বেরিয়ে আসার পর সংকটে পড়েছে ইউসুফ রাজা গিলানি সরকার। ৩৪২ সদস্যের জাতীয় পরিষদে পিপিপির আসনসংখ্যা ১৬০, নিরঙ্কুুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১২টি কম। অন্যদিকে, জোটত্যাগী এমকিউএমের আসনসংখ্যা ২৫।


প্রধান বিরোধী দল মুসলিম লিগের (নওয়াজ) ৯১টি আসন থাকলেও তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন আদায়ও সহজ হবে না। এ অবস্থায় পাকিস্তান বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে, সন্দেহ নেই।
প্রশ্ন হলো, এই সংকট থেকে দেশটি কীভাবে বেরিয়ে আসবে? এর আগে প্রতিবারই রাজনৈতিক সংকটের সুযোগে সেখানে সামরিক শাসন জেঁকে বসেছে। ভবিষ্যতে সে ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বিচক্ষণতার সঙ্গে পথ চলতে হবে। নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গের পরিণাম কারও জন্য কল্যাণকর হয় না। গিলানি ছোট ছোট দলকে পক্ষে নিয়ে এসে জোট সরকারকে টিকিয়ে রাখতে চাইছেন। তাঁর সুবিধা হলো, এই মুহূর্তে প্রধান বিরোধী দল সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চাইছে না। দেশটি যে কঠিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি, তা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না বলেই মুসলিম লীগ নেতৃত্ব মনে করে। সে কারণে তারা সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতেও আগ্রহী নয়। অন্যদিকে, ক্ষমতাত্যাগী এমকিউএম নেতাদের দাবি, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর গিলানি সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।
কিন্তু সরকারের পদত্যাগ পাকিস্তানের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান দিতে পারবে বলে কেউ মনে করেন না। পদত্যাগের কারণ হিসেবে এমকিউএম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ও দুর্নীতির কথা বললেও এর পেছনে রাজনৈতিক কারণও ছিল। সিন্ধুতে পিপিপি ও এমকিউএমের বিরোধ অনেক পুরোনো। সাম্প্রতিক কালে দুই দলের মধ্যে আধিপত্যের লড়াইও লক্ষ করা গেছে।
পাকিস্তান রাষ্ট্রটি কঠিন সময় পার করছে। গত বছরের প্রলয়ংকরী বন্যায় যে অর্থনৈতিক ধাক্কা লেগেছিল, তা কাটিয়ে না উঠতেই দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত জনজীবনকে প্রায় বিপর্যস্ত করে তোলে। প্রায় প্রতিদিনই আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষ মারা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত তালেবানবিরোধী অভিযানও সফল হয়নি।
সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ বলেছেন, দেশটি ডুবতে বসেছে। এর অর্থ এই নয় যে তাঁর সময়ে পাকিস্তান সোনার পাতে মোড়া ছিল। পাকিস্তান বর্তমানে যেসব সমস্যা মোকাবিলা করছে, তার অনেক কিছুর সূচনা সামরিক শাসনামলেই। দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর পাকিস্তানে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তা যত ভঙ্গুরই হোক না কেন, টিকিয়ে রাখতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানই খুঁজে বের করতে হবে। তাদের এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে দেশটিতে অগণতান্ত্রিক শক্তি নাক গলানোর সুযোগ পায়।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রতিবেশী এবং সার্কের সদস্যদেশ হিসেবে আমরা চাই, পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, দেশটির সমৃদ্ধি ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই।

No comments

Powered by Blogger.