অধিকারবঞ্চিতদের কষ্টের দিনলিপি by লুৎফর রহমান রনো
আমাদের দেশের পোশাক শ্রমিকের জীবন বড় কষ্টের। শুধু জীবন বড় কষ্টের বললে বড় অন্যায় হবে। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। অর্থাৎ যাকে মানুষের জীবনযাপন বলা যায় না। ঢাকার নোংরা স্যাঁতসেঁতে বস্তিতে বা বস্তিসম টিনের ঘরের এক রুমে বহুজন গাদাগাদি করে থাকে। থাকে বলতে রাত ১০টা-১১টার পরের রাতটুকু ঘুমিয়ে কাটায়। ভোরে বের হয়, বাধ্যতামূলক ওভারটাইম করে রাত ১০টায় ফেরে ঘরে।
দুই দিন আগে অমন একটি এলাকার পথ ধরে যেতে যেতে শুনছিলাম, একটি মেয়ে আরেকজনকে বলছে, 'আলুভর্তা খাইতে খাইতে গলায় ঘা অইয়া গ্যাছে...।' বড় করুণ, বড় নির্মম, বড় সত্য কথা...! তারা এ ছাড়া আর কী খেতে পারবে, তা তো সহজেই বোঝা যায়_মধ্যবিত্তরাও যেখানে হিমশিম খাচ্ছে। বেশির ভাগ পোশাক শ্রমিক জীর্ণশীর্ণ এবং তারা যে অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে, তা তাদের চেহারায়ই সুস্পষ্ট।
না, তাদের দিন বদলাল না। কত নির্যাতন সইল, আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে গেল, বদনাম জুটল ষড়যন্ত্রকারীদের উসকানি বলে, মালিকদের অবহেলায় কত শ্রমিক দফায় দফায় আগুনে পুড়ে নিশ্চিহ্ন হলো। পীড়ন, পেষণ আর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এমন দরিদ্র শ্রমিকের কত পরিবার অন্ধকারেই রয়ে গেছে_নিখোঁজ, নিরুপায়। কিন্তু আমাদের গর্ব করার বিষয়, আনন্দে উল্লাস করার বিষয় যে গার্মেন্ট সেক্টরের উন্নতি অব্যাহত। সরকারও হরষিত-উল্লসিত, হাজার কোটি টাকা আমদানি হচ্ছে। গার্মেন্ট মালিকদের তাই সুযোগ-সুবিধা ষোলো আনা। ব্যাংকঋণের সুদ দেশবাসীকে দিতে হয় কমবেশি ২০ শতাংশ। গার্মেন্ট মালিকদের জন্য ৭ শতাংশ। তাঁদের কোনো কর দিতে হয় না।
বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে ঋণ নিতে পারেন তাঁরা সহজে। বাণিজ্যে তাঁদের মুনাফা পৃথিবীর যেকোনো দেশের গার্মেন্ট খাতের ব্যবসায়ীদের চেয়ে বেশি। কারণ আমাদের শ্রমিকদের বেতন অন্যান্য দেশের গার্মেন্ট শ্রমিকের এক-চতুর্থাংশ। এত সব সুবিধা শুধু মালিকের জন্য, যাঁরা উত্তরোত্তর সম্পদশালীই হচ্ছেন। আর শ্রমিক! মালিকের চোখে তো বটেই, সরকারের কাছেও যেন শ্রমিকরা জীবনহীন, জড়, মেশিনের নাট-বল্টু আর কি! নাট-বল্টুতেও পর্যাপ্ত তেল দিতে হয়।
শ্রমিকরা আন্দোলন করল নূ্যনতম মজুরি ছয় হাজার টাকা করার জন্য। তা তো হলোই না, ১৪ ঘণ্টা কাজ করে পায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে দাঁড়াল গিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবু নারী শ্রমিকরা কাজ করে। চাকরি ছেড়ে তাদের ফিরে যাওয়ার কোনো পথ যে নেই। তারা আসে হতদরিদ্র পরিবার থেকে। মা-বাবা-ভাই তাদের পেট-পিঠ পোষণে ব্যর্থ। ফিরে গেলেও বাড়িতে স্বস্তি নেই, উপেক্ষা-উপহাস, উপোস তো আছেই। তা ছাড়া মেয়ে বলে নানা রকম সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকা। অথবা মা-বাবা কোথাও দুম করে বিয়ের নামে বের করে দেবে। এই তো তাদের জীবন। এ জীবনটা বদলাতেই তারা শহরে পাড়ি দিয়েছিল সাহস করে। স্বপ্ন দেখে দেখে লাখে লাখে এসেছে, চাকরি নিয়েছে, সুদিন আসবে একদিন_এই প্রত্যাশায়। কিন্তু কারখানার মালিকরা যে কী ভয়ংকর অর্থপিশাচ, তা তাদের জানার কথা নয় এর আগে। পোশাক শ্রমিকের জীবন এখন দাসত্বের শৃঙ্খলে বাঁধা। কথাটা জোর করে অস্বীকার করতে পারেন কেউ, যদি অন্ধ বা অমানুষ হন।
সরকার-ব্যাংক-শিল্প মালিক, এই তিনে মিলেই তো গিলে খায় জনগণের শ্রম-সম্পদ-সময়। গরিবের জীবন তো জীবনহীন, রক্ত-মাংসহীন কঙ্কালের মতো। এই অমানবিক বিকট বৈষম্য সব ক্ষেত্রে। অন্যান্য সেক্টরের শ্রমিকরা পুরুষ বলে ছোটাছুটি করতে পারে এখান থেকে ওখানে। কখনো চাকরির পাশাপাশি অন্য কাজ করে। কোথাও থিতু হয়ে ন্যায্য পাওনা পাওয়ার কোনো উপায় নেই কারো। কারণ অন্যায্য মুনাফা লাভের স্পৃহা পুঁজিওয়ালাদের অন্ধ, অমানুষ করে তোলে।
আমাদের সরকার ও মালিকরা সম্মিলিত স্বরে বলেন গার্মেন্ট সেক্টরে বিপুল কর্মসংস্থানের কথা। ঠিকই বলেন তাঁরা। এখানে কর্মের সংস্থানই শুধু। কোনোমতে বাঁচিয়ে রেখে শ্রমিকের সজীব আয়ুটা শুষে নেওয়া। একে বলা চলে, 'মুফতে' কামলা খাটানোর সুযোগ। একজন শ্রমিক সারা মাস কাজ করে এক দিনও মাছ-ভাত খেতে পারে না, সবজি পাকাতে পারে না। সে কি নির্ঘাত অপুষ্টিতে ভুগে মৃত্যুর দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে না? যদি এ-ই হয়, তাহলে কিসের কর্মসংস্থানের বড়াই! কী কারণে এ দেশের মানুষের টাকা সরকার নামকাওয়াস্তে সুদ ধরে ঋণের সুবিধা দেবে ওদের? কেন তাদের কর মওকুফ করবে? এই খাত কি এখনো শিশু? ফিডার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সরকার কি জানে না, একেকজন গার্মেন্ট মালিক ধনকুবের হয়ে উঠছেন? সত্য হলো, সবারই সব জানা। এ সমাজের অসুখ, রাষ্ট্রের অসুখ, তথাকথিত বিশ্বায়নিক দুনিয়ার ধান্ধা দেরিতে হলেও বুঝেছে ধনী দেশের ছাত্র-যুবক, বেকার-বঞ্চিত মানুষ। বিশ্বের বঞ্চিত-শোষিত মানুষ অধীর আগ্রহ নিয়ে চেয়ে আছে তাই ওয়ালস্ট্রিট দখল আন্দোলনের দিকে। আহা, আসলেই কি পৃথিবী এবার বদলাবে? শোষণের মাত্রা কমে গিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস পাবে?
আমাদের দেশে এই জনবঞ্চনার, প্রতারণার মূল কারণটির কথা কেউ লেখেন না, বলেন না। এ জন্য গণমানুষ বা ছাত্র ও শিক্ষিত মানুষের চেতনায় সত্য উপলব্ধির আকাঙ্ক্ষাও নেই। মানবাধিকার, ন্যায্য অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে লিখে পেশাদারি দায়িত্ব পালন করেন তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা কিংবা নিজেরাই একেকটা সংগঠন গড়ে তোলেন। গবেষণা করে, সভা-সেমিনারে বসে খামাখা বিতর্ক সৃষ্টি করেন। গণমাধ্যমে ওসব প্রচার হয়। কিন্তু সব কারণের মূল কারণ যে এক শ্রেণীর পুঁজিওয়ালার অমানবিক শোষণ, দুর্নীতি এবং সে জন্য সৃষ্ট আকাশ-পাতাল বৈষম্য, এ কথা স্পষ্ট করে কেউ বলে না। বলে না কারণ শোষণপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারাও কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়। তো, কী বলব আর, সবাই মিলে যদি গার্মেন্ট শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের দিকে দয়া করে মনোযোগ দেন, মালিকদের লালসার লাগাম টেনে ধরে সরকার যদি কিছু একটা করে, তাহলে সামাজিক বৈষম্য ও অস্থিরতা অনেকটা কমে আসত। ডিজিটাল দেশের দরকার নেই। ওটা করতে হয় না, আপনা-আপনি হয়ে যাবে, যদি ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়।
লেখক : সাংবাদিক
ronokk1969@gmail.com
না, তাদের দিন বদলাল না। কত নির্যাতন সইল, আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে গেল, বদনাম জুটল ষড়যন্ত্রকারীদের উসকানি বলে, মালিকদের অবহেলায় কত শ্রমিক দফায় দফায় আগুনে পুড়ে নিশ্চিহ্ন হলো। পীড়ন, পেষণ আর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এমন দরিদ্র শ্রমিকের কত পরিবার অন্ধকারেই রয়ে গেছে_নিখোঁজ, নিরুপায়। কিন্তু আমাদের গর্ব করার বিষয়, আনন্দে উল্লাস করার বিষয় যে গার্মেন্ট সেক্টরের উন্নতি অব্যাহত। সরকারও হরষিত-উল্লসিত, হাজার কোটি টাকা আমদানি হচ্ছে। গার্মেন্ট মালিকদের তাই সুযোগ-সুবিধা ষোলো আনা। ব্যাংকঋণের সুদ দেশবাসীকে দিতে হয় কমবেশি ২০ শতাংশ। গার্মেন্ট মালিকদের জন্য ৭ শতাংশ। তাঁদের কোনো কর দিতে হয় না।
বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে ঋণ নিতে পারেন তাঁরা সহজে। বাণিজ্যে তাঁদের মুনাফা পৃথিবীর যেকোনো দেশের গার্মেন্ট খাতের ব্যবসায়ীদের চেয়ে বেশি। কারণ আমাদের শ্রমিকদের বেতন অন্যান্য দেশের গার্মেন্ট শ্রমিকের এক-চতুর্থাংশ। এত সব সুবিধা শুধু মালিকের জন্য, যাঁরা উত্তরোত্তর সম্পদশালীই হচ্ছেন। আর শ্রমিক! মালিকের চোখে তো বটেই, সরকারের কাছেও যেন শ্রমিকরা জীবনহীন, জড়, মেশিনের নাট-বল্টু আর কি! নাট-বল্টুতেও পর্যাপ্ত তেল দিতে হয়।
শ্রমিকরা আন্দোলন করল নূ্যনতম মজুরি ছয় হাজার টাকা করার জন্য। তা তো হলোই না, ১৪ ঘণ্টা কাজ করে পায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে দাঁড়াল গিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবু নারী শ্রমিকরা কাজ করে। চাকরি ছেড়ে তাদের ফিরে যাওয়ার কোনো পথ যে নেই। তারা আসে হতদরিদ্র পরিবার থেকে। মা-বাবা-ভাই তাদের পেট-পিঠ পোষণে ব্যর্থ। ফিরে গেলেও বাড়িতে স্বস্তি নেই, উপেক্ষা-উপহাস, উপোস তো আছেই। তা ছাড়া মেয়ে বলে নানা রকম সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকা। অথবা মা-বাবা কোথাও দুম করে বিয়ের নামে বের করে দেবে। এই তো তাদের জীবন। এ জীবনটা বদলাতেই তারা শহরে পাড়ি দিয়েছিল সাহস করে। স্বপ্ন দেখে দেখে লাখে লাখে এসেছে, চাকরি নিয়েছে, সুদিন আসবে একদিন_এই প্রত্যাশায়। কিন্তু কারখানার মালিকরা যে কী ভয়ংকর অর্থপিশাচ, তা তাদের জানার কথা নয় এর আগে। পোশাক শ্রমিকের জীবন এখন দাসত্বের শৃঙ্খলে বাঁধা। কথাটা জোর করে অস্বীকার করতে পারেন কেউ, যদি অন্ধ বা অমানুষ হন।
সরকার-ব্যাংক-শিল্প মালিক, এই তিনে মিলেই তো গিলে খায় জনগণের শ্রম-সম্পদ-সময়। গরিবের জীবন তো জীবনহীন, রক্ত-মাংসহীন কঙ্কালের মতো। এই অমানবিক বিকট বৈষম্য সব ক্ষেত্রে। অন্যান্য সেক্টরের শ্রমিকরা পুরুষ বলে ছোটাছুটি করতে পারে এখান থেকে ওখানে। কখনো চাকরির পাশাপাশি অন্য কাজ করে। কোথাও থিতু হয়ে ন্যায্য পাওনা পাওয়ার কোনো উপায় নেই কারো। কারণ অন্যায্য মুনাফা লাভের স্পৃহা পুঁজিওয়ালাদের অন্ধ, অমানুষ করে তোলে।
আমাদের সরকার ও মালিকরা সম্মিলিত স্বরে বলেন গার্মেন্ট সেক্টরে বিপুল কর্মসংস্থানের কথা। ঠিকই বলেন তাঁরা। এখানে কর্মের সংস্থানই শুধু। কোনোমতে বাঁচিয়ে রেখে শ্রমিকের সজীব আয়ুটা শুষে নেওয়া। একে বলা চলে, 'মুফতে' কামলা খাটানোর সুযোগ। একজন শ্রমিক সারা মাস কাজ করে এক দিনও মাছ-ভাত খেতে পারে না, সবজি পাকাতে পারে না। সে কি নির্ঘাত অপুষ্টিতে ভুগে মৃত্যুর দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে না? যদি এ-ই হয়, তাহলে কিসের কর্মসংস্থানের বড়াই! কী কারণে এ দেশের মানুষের টাকা সরকার নামকাওয়াস্তে সুদ ধরে ঋণের সুবিধা দেবে ওদের? কেন তাদের কর মওকুফ করবে? এই খাত কি এখনো শিশু? ফিডার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সরকার কি জানে না, একেকজন গার্মেন্ট মালিক ধনকুবের হয়ে উঠছেন? সত্য হলো, সবারই সব জানা। এ সমাজের অসুখ, রাষ্ট্রের অসুখ, তথাকথিত বিশ্বায়নিক দুনিয়ার ধান্ধা দেরিতে হলেও বুঝেছে ধনী দেশের ছাত্র-যুবক, বেকার-বঞ্চিত মানুষ। বিশ্বের বঞ্চিত-শোষিত মানুষ অধীর আগ্রহ নিয়ে চেয়ে আছে তাই ওয়ালস্ট্রিট দখল আন্দোলনের দিকে। আহা, আসলেই কি পৃথিবী এবার বদলাবে? শোষণের মাত্রা কমে গিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস পাবে?
আমাদের দেশে এই জনবঞ্চনার, প্রতারণার মূল কারণটির কথা কেউ লেখেন না, বলেন না। এ জন্য গণমানুষ বা ছাত্র ও শিক্ষিত মানুষের চেতনায় সত্য উপলব্ধির আকাঙ্ক্ষাও নেই। মানবাধিকার, ন্যায্য অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে লিখে পেশাদারি দায়িত্ব পালন করেন তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা কিংবা নিজেরাই একেকটা সংগঠন গড়ে তোলেন। গবেষণা করে, সভা-সেমিনারে বসে খামাখা বিতর্ক সৃষ্টি করেন। গণমাধ্যমে ওসব প্রচার হয়। কিন্তু সব কারণের মূল কারণ যে এক শ্রেণীর পুঁজিওয়ালার অমানবিক শোষণ, দুর্নীতি এবং সে জন্য সৃষ্ট আকাশ-পাতাল বৈষম্য, এ কথা স্পষ্ট করে কেউ বলে না। বলে না কারণ শোষণপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারাও কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়। তো, কী বলব আর, সবাই মিলে যদি গার্মেন্ট শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের দিকে দয়া করে মনোযোগ দেন, মালিকদের লালসার লাগাম টেনে ধরে সরকার যদি কিছু একটা করে, তাহলে সামাজিক বৈষম্য ও অস্থিরতা অনেকটা কমে আসত। ডিজিটাল দেশের দরকার নেই। ওটা করতে হয় না, আপনা-আপনি হয়ে যাবে, যদি ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়।
লেখক : সাংবাদিক
ronokk1969@gmail.com
No comments