সাংবাদিক দীনেশ দাসের মৃত্যু by লুৎফর রহমান রনো
সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন সাংবাদিক দীনেশ দাস। কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ব নিয়ে ধুঁকছেন কালের কণ্ঠের আরেক সাংবাদিক নিখিল ভদ্র। তাঁর উন্নততর চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তাঁর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করছে বসুন্ধরা। সরকারও তাঁকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। গতকালই তিনি চিকিৎসার্থে থাইল্যান্ডে চলে গেছেন।
দীনেশ দাসের পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। মানবিক আবেদনে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তিনি নগদ ১০ লাখ টাকা দীনেশ দাসের পরিবারকে দিচ্ছেন। তাঁর নিজের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার তিনটি পত্রিকাসহ চারটি সংবাদমাধ্যম রয়েছে। দীনেশ দাস এগুলোর বাইরের পত্রিকার সাংবাদিক। সাধারণত এ রকম অনুদানের দৃষ্টান্ত বিরল। সংবাদপত্র মালিকের এ মানবিক চেতনা কিংবা একজন সংবাদকর্মীর জীবনের বা তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিকে আন্তরিকভাবে বিবেচনা করার মানসিকতা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণামূলক। দীনেশ দাশকে ফিরে পাওয়া যাবে না, তাঁর শোকস্তব্ধ পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো কিছুই হয়তো বস্তুজগতে নেই। তবু আমরা যাঁরা তাঁর সহকর্মী বেঁচে আছি, আমাদের সান্ত্বনা এটুকুই যে তাঁর পরিবার একেবারে অসহায় হয়ে পড়বে না। সরকারও তাঁদের পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়িয়েছে। নগদ ১০ লাখ টাকার অনুদান ও তাঁর স্ত্রীর চাকরি এবং সন্তানের শিক্ষার্জনের পথ নিষ্কণ্টক করেছে। এ সবই ভালো কথা। দুঃখ-দুর্ভোগ আর নিত্য দুর্ঘটনার দেশে এর চেয়ে বেশি কী আর আশা করা যায়। কিন্তু এ পর্যন্তই এ সমাজ বা রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্বের সীমা আবদ্ধ নয়।
রাষ্ট্র ও সরকারের দায়দায়িত্ব ১৬ কোটি মানুষ পর্যন্ত সুবিস্তৃত। বুয়েটের দুর্ঘটনা রিসার্চ সেলের হিসাব অনুসারে, ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪২ হাজার ৪৫৭টি। এতে নিহত হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৫ জন এবং আহত হয়েছে ২৯ হাজার ৭৮৭ জন। তাদের গবেষণা মতে, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে ১২ হাজার, আর প্রতিবন্ধিত্বের শিকার হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি। পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই এবং জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি ভয়ানকভাবে হাস্যকর হয়ে উঠছে, তা সহজেই অনুমেয়। এ নিয়ে সরকারের আদৌ কোনো শিরঃপীড়া রয়েছে কি না জানি না। তবে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সরকারের এমন উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততা বেশি দিন হয়তো মেনে নিতে পারবে না। কেননা দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে যেসব কারণে, তার অধিকাংশই সরকারের দ্বারা সমাধানযোগ্য এবং এমন কোনো ব্যয়সাপেক্ষও নয় যে তা করতে হলে বিশ্বব্যাংকের অনুগ্রহ প্রয়োজন হবে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত ১৫ লাখ যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ চলে না। চলে ১৪ লাখ যান। আর আমরা অনুমান করতে পারি, নিবন্ধনের বাইরে আরো অজস্র যানবাহন রয়ে গেছে, যেগুলো চলে নিয়মিত চাঁদা বা ঘুষ দিয়ে। নগরীতে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সড়কের পরিমাণ বা বিস্তৃতি ঘটছে না। চলার মতো যদি রাস্তাই না থাকে, তবে কেন নতুন গাড়ি নামানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে? তাও জনগণের জন্য পাবলিক বাস নয়, প্রাইভেট কার ও বিশেষ কিছু পরিবহন ব্যবসায়ীর স্বার্থে বিবিধ যানবাহন। দুর্ঘটনার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে চালকের দক্ষতা ও সড়কের মাপ-পরিমাপ কিংবা যান চলাচল উপযোগী পরিবেশের। অন্য যেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে গাড়ির ফিটনেস। এ বিষয়গুলো কতটুকু মানা হচ্ছে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা ভ্রুক্ষেপ করছে কি না তা বিগত কয়েক মাসের দুর্ঘটনা-পরবর্তী অসংখ্য লেখালেখি, আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে দেশবাসী জেনেছে। এও সত্য যে এ পর্যন্ত সরকার উলি্লখিত সমস্যা সমাধানের জন্য কোনোই পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এর কারণ, পরিবহন খাতে জড়িত রয়েছে বহুমাত্রিক ব্যবসা, চাঁদা, ঘুষ অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ অর্থাগমের বিষয়। এই অবৈধ আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের মালিক, শ্রমিক সংগঠনের নেতা, দলীয় ক্যাডার, দুর্নীতিবাজ পুলিশ, বিআরটিএর দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারী ও কর্মকর্তা। আর সবার ওপর তথাকথিত গডফাদার বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রী পর্যন্ত। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রধান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এ কথাটাই বলেছেন। তাঁর কথা যে শত ভাগ সত্য, তা আমরাও অস্বীকার করি না; বরং সমর্থন করছি। কিন্তু এ কথা উচ্চারিত হয় না স্পষ্টভাবে। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন, প্রতিদিন নাকি পরিবহন সেক্টরে ৫৭ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। আর এ কারণেই মন্ত্রীরা চুপ করে থাকেন। ওই চুপ করে থাকার অর্থ সবাই জানে। সবাই চুপ থাকে এই ভেবে যে বলাবলি, লেখালেখি কিংবা মানববন্ধন ইত্যাদি করে কোনো ফল হবে না। কারণ ব্যাপারটি যে কোটি কোটি টাকা আয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিছুদিন আগে একটি দৈনিকে বড় আকারে খবর বেরিয়েছিল পরিবহন খাত নিয়ে। দেখা গেছে, পুরো পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক নেতারা। যে দলের সরকার যখন আসে, সেই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ক্যাডাররা হাল ধরেন। অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে তখন বাণিজ্যিক সমঝোতা থাকে এবং চলতে থাকে অপ্রতিরোধ্য অরাজকতা। এই অবৈধ লুটপাটের সুবিধার্থে ১৪ লাখ চালকের মধ্যে অর্ধেকের বৈধ লাইসেন্স নেই, অর্থাৎ তারা অদক্ষ চালক এবং দুর্ঘটনার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই দায়ী। এ অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সূত্রে দুর্ঘটনার জন্য শাস্তি হতে পারে সেসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর, যাঁরা চালকের যোগ্যতা যাচাই করে লাইসেন্স ইস্যু করেননি, করেছেন ঘুষ খেয়ে ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীর নির্দেশে।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ সড়কের অপ্রতুলতা ও গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক মাত্রার ভাঙাচোরা রাস্তা। একজন আবুল হোসেন বিদায় নিয়েছেন। উড়াল সেতু, পদ্মা সেতু_কিছুই তো হলো না। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কগুলোর সংস্কারও হয়নি। অবশেষে যে কথাটি বলা জরুরি, যানবাহন চলাচল বা চালানোর জন্য কমপক্ষে ২০টি নিয়ম-কানুন রয়েছে। যা চালকের পড়ে শিখতে হয়। এবং সে জন্যই একজন দক্ষ চালকের লাইসেন্স পেতে হলে তাত্তি্বক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক। আর চালানোর সময় আরো অন্তত কুড়িটি আইন জেনে ও মেনে চলতে হয় চালককে। কিন্তু এসব আমাদের দেশে কেউ বললে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলবেন পাগল। গাড়ি চালাতে এত কিছু লাগে বুঝি! দেশবাসীর নিশ্চয়ই মনে আছে মন্ত্রী শাজাহান খানের উক্তি। যাতে তিনি অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালকের পক্ষে ওকালতি করেছিলেন। অন্য আরেকজন মন্ত্রী তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যু সম্পর্কে বলেছিলেন, দুঃখ করা ছাড়া তাঁদের কিছুই করার নেই_এসব বিধিলিপি। আমরাও পরিশেষে বলব, এসব মন্ত্রীর পাল্লা থেকে আল্লাহ যেন দেশবাসীকে উদ্ধার করে।
লেখক : সাংবাদিক
রাষ্ট্র ও সরকারের দায়দায়িত্ব ১৬ কোটি মানুষ পর্যন্ত সুবিস্তৃত। বুয়েটের দুর্ঘটনা রিসার্চ সেলের হিসাব অনুসারে, ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪২ হাজার ৪৫৭টি। এতে নিহত হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৫ জন এবং আহত হয়েছে ২৯ হাজার ৭৮৭ জন। তাদের গবেষণা মতে, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে ১২ হাজার, আর প্রতিবন্ধিত্বের শিকার হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি। পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই এবং জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি ভয়ানকভাবে হাস্যকর হয়ে উঠছে, তা সহজেই অনুমেয়। এ নিয়ে সরকারের আদৌ কোনো শিরঃপীড়া রয়েছে কি না জানি না। তবে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সরকারের এমন উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততা বেশি দিন হয়তো মেনে নিতে পারবে না। কেননা দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে যেসব কারণে, তার অধিকাংশই সরকারের দ্বারা সমাধানযোগ্য এবং এমন কোনো ব্যয়সাপেক্ষও নয় যে তা করতে হলে বিশ্বব্যাংকের অনুগ্রহ প্রয়োজন হবে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত ১৫ লাখ যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ চলে না। চলে ১৪ লাখ যান। আর আমরা অনুমান করতে পারি, নিবন্ধনের বাইরে আরো অজস্র যানবাহন রয়ে গেছে, যেগুলো চলে নিয়মিত চাঁদা বা ঘুষ দিয়ে। নগরীতে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সড়কের পরিমাণ বা বিস্তৃতি ঘটছে না। চলার মতো যদি রাস্তাই না থাকে, তবে কেন নতুন গাড়ি নামানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে? তাও জনগণের জন্য পাবলিক বাস নয়, প্রাইভেট কার ও বিশেষ কিছু পরিবহন ব্যবসায়ীর স্বার্থে বিবিধ যানবাহন। দুর্ঘটনার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে চালকের দক্ষতা ও সড়কের মাপ-পরিমাপ কিংবা যান চলাচল উপযোগী পরিবেশের। অন্য যেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে গাড়ির ফিটনেস। এ বিষয়গুলো কতটুকু মানা হচ্ছে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা ভ্রুক্ষেপ করছে কি না তা বিগত কয়েক মাসের দুর্ঘটনা-পরবর্তী অসংখ্য লেখালেখি, আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে দেশবাসী জেনেছে। এও সত্য যে এ পর্যন্ত সরকার উলি্লখিত সমস্যা সমাধানের জন্য কোনোই পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এর কারণ, পরিবহন খাতে জড়িত রয়েছে বহুমাত্রিক ব্যবসা, চাঁদা, ঘুষ অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ অর্থাগমের বিষয়। এই অবৈধ আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের মালিক, শ্রমিক সংগঠনের নেতা, দলীয় ক্যাডার, দুর্নীতিবাজ পুলিশ, বিআরটিএর দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারী ও কর্মকর্তা। আর সবার ওপর তথাকথিত গডফাদার বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রী পর্যন্ত। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রধান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এ কথাটাই বলেছেন। তাঁর কথা যে শত ভাগ সত্য, তা আমরাও অস্বীকার করি না; বরং সমর্থন করছি। কিন্তু এ কথা উচ্চারিত হয় না স্পষ্টভাবে। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন, প্রতিদিন নাকি পরিবহন সেক্টরে ৫৭ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। আর এ কারণেই মন্ত্রীরা চুপ করে থাকেন। ওই চুপ করে থাকার অর্থ সবাই জানে। সবাই চুপ থাকে এই ভেবে যে বলাবলি, লেখালেখি কিংবা মানববন্ধন ইত্যাদি করে কোনো ফল হবে না। কারণ ব্যাপারটি যে কোটি কোটি টাকা আয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিছুদিন আগে একটি দৈনিকে বড় আকারে খবর বেরিয়েছিল পরিবহন খাত নিয়ে। দেখা গেছে, পুরো পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক নেতারা। যে দলের সরকার যখন আসে, সেই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ক্যাডাররা হাল ধরেন। অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে তখন বাণিজ্যিক সমঝোতা থাকে এবং চলতে থাকে অপ্রতিরোধ্য অরাজকতা। এই অবৈধ লুটপাটের সুবিধার্থে ১৪ লাখ চালকের মধ্যে অর্ধেকের বৈধ লাইসেন্স নেই, অর্থাৎ তারা অদক্ষ চালক এবং দুর্ঘটনার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই দায়ী। এ অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সূত্রে দুর্ঘটনার জন্য শাস্তি হতে পারে সেসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর, যাঁরা চালকের যোগ্যতা যাচাই করে লাইসেন্স ইস্যু করেননি, করেছেন ঘুষ খেয়ে ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীর নির্দেশে।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ সড়কের অপ্রতুলতা ও গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক মাত্রার ভাঙাচোরা রাস্তা। একজন আবুল হোসেন বিদায় নিয়েছেন। উড়াল সেতু, পদ্মা সেতু_কিছুই তো হলো না। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কগুলোর সংস্কারও হয়নি। অবশেষে যে কথাটি বলা জরুরি, যানবাহন চলাচল বা চালানোর জন্য কমপক্ষে ২০টি নিয়ম-কানুন রয়েছে। যা চালকের পড়ে শিখতে হয়। এবং সে জন্যই একজন দক্ষ চালকের লাইসেন্স পেতে হলে তাত্তি্বক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক। আর চালানোর সময় আরো অন্তত কুড়িটি আইন জেনে ও মেনে চলতে হয় চালককে। কিন্তু এসব আমাদের দেশে কেউ বললে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলবেন পাগল। গাড়ি চালাতে এত কিছু লাগে বুঝি! দেশবাসীর নিশ্চয়ই মনে আছে মন্ত্রী শাজাহান খানের উক্তি। যাতে তিনি অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালকের পক্ষে ওকালতি করেছিলেন। অন্য আরেকজন মন্ত্রী তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যু সম্পর্কে বলেছিলেন, দুঃখ করা ছাড়া তাঁদের কিছুই করার নেই_এসব বিধিলিপি। আমরাও পরিশেষে বলব, এসব মন্ত্রীর পাল্লা থেকে আল্লাহ যেন দেশবাসীকে উদ্ধার করে।
লেখক : সাংবাদিক
No comments