উত্তর কোরিয়ার ভাষ্য-পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিনিময়ে খাদ্য দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ত্তর কোরিয়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করলে তাদের খাদ্যসহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তুলে নেবে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা। গতকাল বুধবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র পিয়ংইয়ংয়ের সরকারি সংবাদ সংস্থাকে এ কথা জানান। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব সম্পর্কে এই প্রথম কথা বললেন উত্তর কোরিয়ার একজন কর্মকর্তা। গত ১৭ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-ইলের মৃত্যুর আগে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হতে যাচ্ছে।


উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, গত বছর জুলাইয়ে বৈঠকের সময় ওয়াশিংটন দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মধ্যে তারা আরোপিত অবরোধ স্থগিত ও খাদ্যসহায়তা দেওয়ার বিনিময়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বলেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০১০ সালের নভেম্বরে উত্তর কোরিয়ার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়টি প্রকাশিত হয়। এর পর তাদের এ কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে চীনের মধ্যস্থতায় জোরালো তৎপরতা চালায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি দেশ।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সমঝোতা বৈঠকের পর তা আবার শুরু করতে গত বছর দুই দফায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া। তৃতীয় দফা বৈঠক চীনের বেইজিংয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিম জং-ইলের মৃত্যুতে তা পিছিয়ে যায়।
উত্তর কোরিয়ার মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্রস্তাবে খাদ্যসহায়তার পরিমাণ বাড়ায়, তবেই এ চুক্তি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতভাবে আস্থা তৈরি করতে চাইছে কি না, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করব।’
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, মানবিক খাদ্যসহায়তা প্রস্তাবের কোনো সিদ্ধান্ত অন্য কোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তবে উত্তর কোরিয়ার মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছে।
উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার-বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রবার্ট কিং সম্ভাব্য খাদ্যসহায়তা নিয়ে গত ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর বেইজিংয়ে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রি গুনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র দুই লাখ ৪০ হাজার টন পর্যন্ত খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে পারে।
এর আগে ২০০৮ সালে উত্তর কোরিয়াকে পাঁচ লাখ টন চাল দিতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিতরণব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে চাল পাঠানো বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়তে বলে পিয়ংইয়ং। এএফপি।

No comments

Powered by Blogger.