পবিত্র কোরআনের আলো-দুনিয়ার বিত্ত-বৈভব লাভের ক্ষেত্রে কাফেররাও এগিয়ে থাকতে পারে

৫. ইয়া-বানী আ-দামা ইম্মা ইয়া'তিইয়ান্নাকুম রুছুলুম্ মিনকুম ইয়াক্বুস্সূনা আ'লাইকুম আয়া-তী ফামানিত্তাক্বা ওয়া আসলাহা ফালা খাওফুন আ'লাইহিম ওয়া লা-হুম ইয়াহ্যানূন। ৩৬. ওয়াল্লাযীনা কায্যাবূ বিআয়া-তিনা ওয়াছতাক্বারূ আ'নহা উলা-য়িকা আসহা-বুন্না-রি হুম ফীহা খা-লিদূন।


৩৭. ফামান আযলামু মিম্মানিফ্তারা আ'লাল্লাহি কাযিবান আও কায্যাবা বিআয়া-তিহী; উলা-য়িকা ইয়ানা-লুহুম নাসীবুহুম্ মিনাল কিতাবি; হাত্তা ইযা জা-আতহুম রুছুলুনা ইয়াতাওয়াফ্ফাওনাহুম; ক্বা-লূ আইনামা কুনতুম তাদ্ঊ'না মিন্ দূনিল্লাহি; ক্বা-লূ দ্বাল্লূ আ'ন্না ওয়া শাহিদূ আ'লা আনফুছিহিম আন্নাহুম কা-নূ কা-ফিরীন।
[সুরা : আল-আ'রাফ, আয়াত : ৩৫-৩৭]
অনুবাদ : ৩৫. (মানুষ সৃষ্টির পরই আল্লাহ তায়ালা এই বার্তা জানিয়ে দিয়েছিলেন) হে আদম সন্তানরা! যখনই তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকে রাসুলরা আসবেন, তাঁরা তোমাদের কাছে আমার আয়াতগুলো বর্ণনা করবেন, তখন যারা দায়িত্বনিষ্ঠতার সঙ্গে সেগুলো গ্রহণ করবে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেবে, তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই, কোনো দুশ্চিন্তারও কারণ নেই।
৩৬. আর যারা আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করতে চাইবে এবং এর প্রতি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করবে, এরাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।
৩৭. যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার ওপর মিথ্যা আরোপ করে কিংবা তাঁর আয়াতগুলোকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করতে চায়, তার চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে! এরা হচ্ছে সেই সব লোক, যারা পৃথিবীতে তাদের যেটুকু সম্পদ লাভ করার আছে, তা তারা লাভ করবেই। অবশেষে যখন আমার ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার জন্য তাদের কাছে আসবে, তখন ফেরেশতারা বলবে, তোমাদের সেই মাবুদরা কোথায়, যাদের তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে ডাকতে? তারা বলবে, আজ তো সবাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আর এভাবেই তারা সেদিন নিজেদের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দেবে যে তারা সত্যিই অবাধ্য ছিল।
ব্যাখ্যা : ৩৫ নম্বর আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে, মানুষ সৃষ্টির আদিতে জন্মগতভাবেই মানুষকে যে অঙ্গীকারে আবদ্ধ করা হয়েছে এবং তার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সে বিষয়টি। মানুষ জন্মগতভাবেই একটা মহৎ দায়িত্ব নিয়ে এসেছে। সেই দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার জন্যই আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির কাছে তাঁর রাসুলদের পাঠিয়েছেন। রাসুলদের পাঠানো বিষয়টাও তিনি মানুষকে জানিয়ে দিয়ে সতর্ক করেছেন। সেই সতর্কবার্তার মধ্যেই বলে দেওয়া হয়েছে যে যারা দায়িত্বনিষ্ঠতার সঙ্গে রাসুলদের অনুসরণ করবে, তাদের জন্য কোনো রকম ভয় বা দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
তাকওয়া অবলম্বনের অর্থ_মানবিক দায়িত্বনিষ্ঠতার সঙ্গে রাসুলদের অনুসরণ করা। অর্থাৎ জন্মগতভাবেই মানুষের ওপর যে মানবিক দায়িত্ব বর্তায়, তা যথাযথভাবে পালন করা। যারা তা করবে তাদের কোনো ভয় নেই। ৩৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, এর বিপরীত অবস্থানে যারা থাকবে তাদের ভয়াবহ পরিণতির কথা। তারা তাদের অবাধ্যতা ও অহংকারের কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে।
৩৭ নম্বর আয়াতে কাফেরদের অবাধ্যতার কথা বিস্ময়ের সঙ্গে বর্ণনা করে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। সাধারণত দেখা যায়, এই পৃথিবীতে কাফেররা বিত্ত-বৈভব ও সুখ-শান্তির মধ্যে বসবাস করে। এখানে এই প্রশ্নটার উত্তর দেওয়া হয়েছে। এখানে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, দুনিয়ায় রিজিক দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা মুমিন ও কাফেরের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করেন না। বরং প্রত্যেকেই দুনিয়ার নিয়ম অনুযায়ী রিজিক লাভ করে থাকে, সে ঘোরতর কাফের হলেও এমনকি কাফেররা নীতিনৈতিকতার তোয়াক্কা করে না বলে অধিক বিত্ত-বৈভবও লাভ করে থাকে। সুতরাং দুনিয়ায় যদি কারো জীবিকার প্রাচুর্য লাভ হয়, তবে সে যেন মনে না করে যে তার কর্মপন্থা আল্লাহর পছন্দ। তবে কাফেররা তা-ই মনে করে। যখন মৃত্যু এসে উপস্থিত হবে তখনই তারা প্রকৃত সত্য টের পাবে।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments

Powered by Blogger.