গণিত উৎসব-দূর হোক গণিতভীতি

‘প্রতিবছর গণিত উৎসব এলে নাম নিবন্ধনের জন্য মুখিয়ে থাকে ওরা। দ্রুত নাম নিবন্ধন করে প্রস্তুতি নেয়। আজ সে প্রস্তুতির ফলও পেল।’ গণিত অলিম্পিয়াডের ফল ঘোষণার পর এভাবে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন কুমিল্লা শহরের ঝাউতলার বাসিন্দা গণিতের শিক্ষক মফিজুল ইসলাম। তাঁর দুই মেয়ে তাসনুভা ও রামিশা গণিত অলিম্পিয়াডে বিজয়ী হয়েছে। কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী নবাব ফয়জুন নেসা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার সারা দিন গণিতের ধ্বনিতে মুখর ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও তাঁদের স্বজনেরা।


‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো কুমিল্লা অঞ্চলের গণিত উৎসব-২০১২ গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৩০ জন শিক্ষার্থী উৎসবে অংশ নেয়। এতে ৬০ জন শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়। বিজয়ীরা ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় জাতীয় উৎসবে যোগ দেবে।
দিনব্যাপী আয়োজিত উৎসবের মধ্যে ছিল উদ্বোধনী পর্ব, মূল আয়োজন গণিত অলিম্পিয়াড (প্রতিযোগিতা), বন্ধুতা পর্ব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশ্নোত্তর পর্ব, রুবি স্কিউব প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে নবাব ফয়জুন নেসা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ পর্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল আহসান, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির পতাকা উত্তোলন করেন প্রবীণ গণিতবিদ খোদাদাত খান এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার। এরপর প্রধান শিক্ষক উৎসবের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল আহসান বলেন, ‘গণিতের কারণে ফল ভালো হয়, আবার গণিতের কারণে ফল খারাপ হয়। প্রথম আলো গণিতভীতি কাটানোর জন্য দেশব্যাপী যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে দিতে হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সোয়া এক ঘণ্টার গণিত অলিম্পিয়াড হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা দেশের গান, রবীন্দ্রসংগীত, পল্লিগীতি ও আবৃত্তি পরিবেশন করে। খুদে গণিতবিদেরা অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে দুই হাত উঁচিয়ে ‘মাদক’, ‘মিথ্যা’ ও ‘মুখস্থ’কে না বলে।
বেলা দুইটায় সমাপনী পর্বে উৎসবে প্রবীণ গণিতবিদ খোদাদাত খান বলেন, ‘গণিত না জানলে বিজ্ঞান শেখা যাবে না। গণিত হলো বিজ্ঞানের ভাষা। যে জাতি বিজ্ঞানে ভালো, সে জাতি প্রযুক্তিতেও ভালো।’ আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অস্ট্রেলিয়ার দি ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সহযোগী অধ্যাপক রুহুল সরকার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার, প্রথম আলোর কুমিল্লা কার্যালয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক গাজীউল হক ও প্রথম আলো কুমিল্লা বন্ধুসভার সভাপতি মহিউদ্দিন লিটন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।
দিনব্যাপী উৎসবে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৃজনী সাহা, নেহা ঘোষ, প্রিয়ন্তি পাল টুম্পা, তাসফিয়া নানজিবা ও শতাব্দী ভৌমিক জাতীয় সংগীত, গণিত উৎসবের সংগীত ও গণিত জয়ের গান পরিবেশন করে।

No comments

Powered by Blogger.