ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা দরকার-কৃষকের ঋণভার

দেশের দুই বিপরীত প্রান্তের দুটি খবর: ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খাগড়াছড়ির কৃষকেরা আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচ সামলাতে বিপর্যস্ত হচ্ছে রংপুরের কৃষিকাজ। সংবাদ দুটি কৃষিক্ষেত্রে দুটি পুরোনো সমস্যাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এল। প্রথমত, ঋণ নিয়ে আবাদ করে ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ঋণ শোধ করায় কৃষকের ব্যর্থতা; দ্বিতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সেচ ও পরিবহনসহ যাবতীয় খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছে কৃষিজ উৎপাদন।


সমস্যা দুটি সার্বিকভাবে কৃষি-পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উচিত এদিকে ত্বরিত দৃষ্টি দেওয়া। ফসল উৎপাদনের জন্য দরিদ্র কৃষককে দুটি কারণে ঋণ করতে হয়। এক. ফসল রোপণের জন্য বীজ, সার, পানি ইত্যাদির ব্যয় মেটাতে; দুই. উৎপাদন খরচ না পেলে লোকসান পোষাতে। খাগড়াছড়ির কৃষকেরা হলুদ চাষ করেছিলেন লাভের আশায়। কারণ, গত বছর হলুদের দাম বেশ ভালো ছিল। কিন্তু গত বছর যে হলুদের মূল্য ছিল মণপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা, এ বছর সেই হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫৯ টাকায়। এখন যাঁরা ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন, তাঁদের কী উপায় হবে? ফসল বেচে ঋণ শোধ তো দূরের কথা, ভরণপোষণ চালানোই তাঁদের জন্য কঠিন হবে। এ অবস্থা শুধু খাগড়াছড়িতেই নয়, উত্তরাঞ্চলেও আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। অন্যদিকে, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বারবার বাড়ায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়ে গেছে। এই খরচ মেটাতেও অনেককে ঋণ করতে হবে।
কৃষকের এই দুর্দশায় এগিয়ে আসতে হবে সরকারকেই। কৃষি এখনো আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত। মোট শ্রমশক্তির ৮৫ শতাংশই এখানে নিয়োজিত, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো কৃষির ওপরই নির্ভরশীল। তাই কৃষকের মঙ্গল মানেই জাতির মঙ্গল, কৃষি-অর্থনীতি চাঙা থাকা মানে সার্বিক অর্থনীতিরই চাঙা থাকা। এই অবস্থায়, সার্বিক পর্যালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণভার লাঘব করা, বিনা সুদে নতুন করে ঋণ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তবে, সবার আগে দরকার কৃষক যাতে ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, সেই পদক্ষেপ। এটা করা গেলে বাকি সমস্যাগুলোর বিহিত কৃষক অনেকটা নিজের জোরেই করতে সক্ষম হবেন।

No comments

Powered by Blogger.