সিরিয়ায় মার্চে গণভোটের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট আসাদের

সিরিয়ায় গণভোটের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, সিরিয়ায় গণভোট দিলেই বোঝা যাবে বর্তমান বার্থ পার্টির শাসন জনগণ মেনে নিচ্ছে কি-না। সিরিয়ায় অস্থিরতার জন্য তিনি বহির্বিশ্বের ষড়যন্ত্র এবং ইন্ধনকে দায়ী করে তা কঠোর হাতে দমনের ঘোষণা দেন। খবর : বিবিসি, আলজাজিরা, টেলিগ্রাফ।


রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এ ভাষণে তিনি আরব রাষ্ট্রগুলোর সমালোচনা করে বলেন, আরব রাষ্ট্রগুলোর আচরণে সিরিয়া হতভম্ব। এসব দেশ নিজেরা গণতন্ত্র না মানলেও সিরিয়াকে তা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি বলেন, এসব দেশের অবস্থা হচ্ছে সেসব চিকিৎসকের মতো, যারা নিজেরা ধূমপান করতে করতে তাদের রোগীদের উপদেশ দিয়ে বলেন_ ধূমপান করবেন না। বাইরের শক্তিগুলোর চাপে আরব দেশগুলো সিরিয়ার বিরোধিতা করে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্বকেই খাটো করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গত বছর জুনের পর এই প্রথম ভাষণ দিলেন প্রেসিডেন্ট আসাদ। সিরিয়ার এ কঠিন সময়েও তার প্রতি জনগণের সমর্থন কমেনি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন খসড়া ও সংবিধান তৈরির পর গণভোটের আয়োজন করা হবে। মার্চের প্রথম দিকেই এ গণভোট সম্পন্ন হতে পারে বলে জানান তিনি। আসাদ বলেন, এ গণভোটের মাধ্যমে প্রমাণ হবে সিরিয়ার জনগণ বার্থ পার্টির শাসন মেনে নিচ্ছে কি-না। ভাষণে বাশার আল আসাদ জানান, গত বছরের মার্চ থেকে দেশটিতে শুরু হওয়া অস্থিরতায় অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। এ জন্য বিদেশি ষড়যন্ত্র দায়ী_ বিষয়টি সবার কাছেই স্পষ্ট। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সত্ত্বেও তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না উল্লেখ করে বলেন, আমার প্রতি এখনও জনসমর্থন আছে।
জনগণ যখন চাইবে, তখনই আমি ক্ষমতা ছাড়ব। সন্ত্রাসীদের শক্ত হাতে দমন করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানে দেশের মানুষের জন্য যুদ্ধ, এটা শুধু সরকার নয়, জাতির স্বার্থে এ যুদ্ধ চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের হিসাবে, গত বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে দেশটিতে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করছে আসাদ সরকার। বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও নিন্দার মুখেও পড়েছেন আসাদ। আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে গত বছর নভেম্বরে আরব লীগ থেকে সিরিয়াকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বর্তমানে আরব লীগের পর্যবেক্ষকরা সেদেশে অবস্থান করছেন।

No comments

Powered by Blogger.