আগের দরেই সয়াবিন তেল বিক্রি করতে বলেছে সরকার

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে চারটি বৈঠক করে সরকার সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পায়নি। ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানা মালিক সমিতিসহ প্রতিটি কারখানার মালিককে চিঠি দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চিঠিতে আগে যে সমঝোতা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা-ই বহাল রাখার জন্যও বলা হয়েছে। আরও বলা হয়, সমঝোতা মূল্যের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কেউ যাতে ভোজ্যতেল বিক্রি করতে না পারে, ব্যবসায়ীরা তা যেন নিশ্চিত করেন।


উল্লেখ্য, গত ১৫ দিনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের চার দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শেষের তিনটি বৈঠক করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত বছরের জুলাই মাসে খোলা সয়াবিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল মিলগেটে লিটারপ্রতি ১০৪ টাকা ও ভোক্তা পর্যায়ে ১০৯ টাকা। আর পামতেল ৯৯ টাকা। তখন বোতলজাত সয়াবিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২০ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ দামই বহাল রাখার কথা জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের।
জুলাই মাসে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, নতুন দাম নির্ধারণ করতে চাইলে সমিতির পক্ষ থেকে অন্তত ১৫ দিন আগে সরকারকে জানাতে হবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তা অনুসরণ না করেই সম্প্রতি সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১২৪ থেকে ১২৮ টাকা লিটার দরে। তবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, গত সোমবার থেকে তা কিছুটা পড়তির দিকে। গতকাল খুচরা বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১২৪ থেকে ১২৫ টাকা লিটার দরে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সর্বশেষ সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘আগের দামেই সয়াবিন তেল কেনাবেচা হবে। বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
এদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কয়েক দিনের মধ্যে সয়াবিনের ওপর শুল্কসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানা গেছে। তখন সয়াবিনের দাম আরও কমে আসতে পারে।
ট্যারিফ কমিশনে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার মান পড়ে যাওয়াকে সয়াবিনের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের পক্ষ থেকে তা আমলে নেওয়া হয়নি। কারণ, এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দর প্রতি টনে ১০০ ডলার পর্যন্ত কমেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রামের ছয়টি টার্মিনালে সয়াবিন, পামতেল ও পাম অলিন মিলিয়ে মোট এক লাখ সাত হাজার ১৬৭ টন ভোজ্যতেল মজুদ রয়েছে।
দাম ওঠানামার জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের দায়ী করে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এর আগে বলেছিলেন, ‘কারখানার মালিকেরা বলছেন, মিলগেটে তাঁরা ১০৬ টাকা লিটারের বেশি দর নিচ্ছেন না।’
তবে গতকাল রাজধানীর মৌলভীবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশের শর্তে প্রথম আলোকে ফোন করে জানিয়েছেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্রয় আদেশের (সেল অর্ডার) মাধ্যমে ভোজ্যতেল মজুদ করছেন। চালানপ্রথা (ডিও) তুলে দেওয়ার পর থেকেই নানা ফন্দি খুঁজছেন তাঁরা। মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা ও কারসাজির জন্য কিছু ব্যবসায়ীর মজুদপ্রবণতা এখনো রয়ে গেছে বলে জানান তাঁরা, যার প্রভাব পড়ছে বাজারে।

No comments

Powered by Blogger.