র ঙ বে র ঙ-জনপ্রিয় খেলনা...

রুথ হ্যান্ডলার দেখলেন তার ছোট্ট কন্যাটি কাগজের পুতুল নিয়ে খেলছে। রুথের মনে হলো আহা, ওর যদি একটা সত্যিকারের পুতুল থাকত! অথচ বাজারে শিশুদের মনের মতো পুতুলের বড়ই অভাব! বাচ্চাদের এ বিষয়টি তাকে খুব স্পর্শ করল। তিনি তার স্বামী পুতুল ব্যবসায়ী এলিয়টকে কথাটি জানালেন। বললেন নতুন পরিকল্পনার কথা। তাতে লাভবান হওয়া সম্ভব। কিন্তু এলিয়টের পরিকল্পনাটি মনে ধরল না। পরে অবশ্য স্ত্রীর পরিকল্পনামতোই এলিয়ট তৈরি


করলেন বিশ্বখ্যাত পুতুল 'বারবি ডল', যা আজও বিশ্বজুড়ে শিশুদের কাছে প্রিয়। বারবি ডল কোম্পানি ম্যাটেলের দাবি, পৃথিবীর ১৫০টি দেশে প্রতি সেকেন্ডে তিনটি করে বারবি ডল বিক্রি হয়। তবে এটি কেবল শিশুদের খেলনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, জনপ্রিয়তার কারণে পুতুলটি নিয়ে তৈরি হয়েছে কার্টুন, প্যারোডি গান, কমিকস, আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্ক ইত্যাদি।
বারবি ডল তৈরি প্রথম শুরু হয় ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে রুথ হ্যান্ডলার জার্মান ভ্রমণে গিয়ে সেখানকার বিখ্যাত পুতুল 'বিল্ড লিলি' দেখে মুগ্ধ হন। তিনটি পুতুলও কিনে নেন। এর দুটি নিজের কাছে রেখে বাকিটা মেয়েকে দেন। ওই দুটি পুতুলকে মডেল করে তারা তৈরি করেন আকর্ষণীয় এক তরুণী পুতুল। পুতুলটি মেয়ে বারবারার নামানুসারে রাখেন বারবি। ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ মার্চ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল টয় ফেয়ারে পুতুলটি দারুণ সাড়া ফেলে। উৎপাদন সেই শুরু। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। টিনএজ ফ্যাশন মডেলের মতো দেখতে এ পুতুল প্রথম বছরেই বিক্রি হয় ৩ লাখ ৫০ হাজারটি!
ফ্যাশনেবল বারবি ডল বিশ্বের সব পিচ্চিরই প্রিয়। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে বাজারে আসে কথা বলা বারবি ডল। সুইচ টিপলেই নির্দিষ্ট কিছু কথা বলতে পারে পুতুলটি। যেমন_ 'তুমি কি অনেক কাপড় কেনা পছন্দ করো?', 'চল শপিংয়ে যাই' ইত্যাদি।
তবে পুতুলটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। গবেষকরা এক সময় দাবি করেছিলেন, বারবি ডলে ব্যবহৃত হয় শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক পদার্থ। অবশ্য এ দাবি ধোপে টেকেনি। অনেকে আবার পুতুলটির শরীরের মাপ নিয়ে গবেষণা করে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, টিনএজদের শরীরের মাপের সঙ্গে বারবির মাপের কোনো মিল নেই। মজার ব্যাপার হলো, এক সময় তরুণরা মার্কিন তরুণীদের বারবি ডল বলে ক্ষ্যাপাত!
ঋতা আলম

No comments

Powered by Blogger.