মেসির স্বীকৃতি ও বিয়াঞ্চির দাবি

দুবারের ফিফা ব্যালন ডি’র জয়ী খেলোয়াড়। আগামী ১০ জানুয়ারি জুরিখ থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো আবারও ট্রফিটা হাতে তুলে ইতিহাসে ঢুকে যাচ্ছেন বলেই অনুমান। শোকেসটায় আরও অনেক ট্রফি। কিন্তু একটা পুরস্কার এর আগে কখনোই জেতা হয়নি লিওনেল মেসির। আর্জেন্টিনার বর্ষসেরা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। পরশু সেটাই জিতলেন আর্জেন্টাইন খুদে ফুটবল জাদুকর। আর্জেন্টাইন ক্রীড়া লেখকদের দেওয়া এই অলিম্পিয়া ডি ওরো (সোনার পদক)


পেয়ে মেসি তাই উচ্ছ্বসিত, ‘আমার খুব ভালো লাগছে, পুরস্কারটা পেয়ে গর্ববোধ করছি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, বিশ্বজুড়েই পুরস্কার পেয়েছি, কিন্তু আর্জেন্টিনায় এর আগে কখনো কিছু পাইনি।’
এই পুরস্কার পেয়ে বুকের মধ্যে একটু সুখের অনুরণনের পাশাপাশি ব্যথারও কি ক্ষরণ হচ্ছে না মেসির? বার্সেলোনার মেসি আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে অচেনা হয়ে যান, এই অপবাদ তাঁকে এখনো সইতে হয়। মনুমেন্টালে শুনতে হয় দুয়ো। বিশ্বসেরা খেলোয়াড় কেন বার্সার দ্যুতি আর্জেন্টিনায় ছড়িয়ে দিতে পারেন না—এই অন্তর্জ্বালা মেটাতে এক তরুণ রোজারিওতে থাপড়ই বসিয়ে দিলেন গত জুলাইতে। এটি কোপা আমেরিকার কেবলই আগের ঘটনা। তার পর তো ঘরের মাঠে কোপা আমেরিকায় ব্যর্থই হলো আর্জেন্টিনা।
এই পুরস্কারের সঙ্গে গর্বিত হওয়ার মতো একটা কথাও শুনেছেন মেসি। কার্লোস বিয়াঞ্চি বলছেন, মেসি নাকি পেলে-ম্যারাডোনা দুজনের চেয়েই ভালো! কোচ হিসেবে রেকর্ড চারবার কোপা লিবার্তোদোরেস জয়ী আর্জেন্টিনার সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ বলছেন, ‘কিছুদিন আগে একটা সম্মেলনের মাঝখানে একজন ব্রাজিলিয়ান আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, কাকে আমি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় মনে করি—পেলে, না ম্যারাডোনা? উত্তর দিয়েছিলাম, এই দুজনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এখন মেসিকে দেখেই আমার সবার সেরা মনে হয়।’
জাতীয় দলের হয়ে মেসি তেমন কিছু পাননি, এটা মাথায় রেখেই এই রায় দিচ্ছেন বিয়াঞ্চি, ‘অনেক খেলোয়াড়ই নিজেদের প্রতিভা প্রমাণের মতো সেরা জাতীয় দল পায়নি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ও কী করেছে কিংবা কী করবে, সেটা মাথায় রেখেই বলছি, প্রতি সপ্তাহেই মেসি দেখিয়ে দেয়, ওর পক্ষে এমন সব কিছু করা সম্ভব, ফুটবল ইতিহাসে আর কারও পক্ষে যা করা সম্ভব হয়নি।’
বার্সার হয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে ছুটিতে দেশে ফেরা। দেশে ফিরেই আর্জেন্টিনার বর্ষসেরা হওয়ার সংবাদ, বিয়াঞ্চির মতো একজনের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি; মেসির ভালো তো লাগবেই। আর্জেন্টিনার সাংবাদিকদের দলের অধিনায়ক প্রতিশ্রুতি দিলেন, ‘ক্লাবের মতোই আমি জাতীয় দলের হয়েও সাফল্য পেতে চাই। দুর্ভাগ্যজনক হলো, সেটা এখনো হয়ে ওঠেনি। তবে প্রচুর উচ্ছ্বাস আর বিশ্বাস নিয়ে আমি কঠোর পরিশ্রম করে যাব।’ রয়টার্স, ওয়েবসাইট।

No comments

Powered by Blogger.