সিএসইতে ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন-পতনের বাজারে হাল ধরেনি কেউ by রাশেদুল তুষার,

প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পরও চট্টগ্রাম পুঁজিবাজারে গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে গতকাল রবিবার। সপ্তাহের প্রথম দিনে লেনদেনের শুরু থেকে পতনের ধারা দিনশেষেও অব্যাহত ছিল। একবারের জন্যও মনে হয়নি বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পতনের এমন আচরণ দেখে পুঁজিবাজার নিয়ে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে বলে মনে করেন বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে


উদ্যোগ নিয়েছেন। তারল্য সংকট কাটাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শেয়ারবাজার নিয়ে যখন সবকিছুই ভালো খবর, ঠিক সে সময় এ ধরনের অস্বাভাবিক দরপতনকে তাঁরা কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে করেন না।
হাসান শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসাইন এ প্রসঙ্গে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যেখানে উদ্যোগী হয়েছেন, সেখানে কারা এভাবে পতন ঘটাচ্ছে? এসইসি যে তদারকি কমিটি করেছে, তাদের ভূমিকা কোথায়? একটা পক্ষ গুজব ছড়াচ্ছে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়িত হবে না। গুজব যে মিথ্যা তা এসইসির ক্লিয়ার করা উচিত। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগও যদি ব্যর্থ হয়ে যায় তাহলে এই বাজারকে আর দাঁড় করানো যাবে না।' তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করে বলেন, 'গতকালের বাজারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে খুব বেশি কার্যকর দেখা যায়নি।'
চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ সরাসরি ষড়যন্ত্রের কথা না বললেও পতনের বাজারে যে কোনো সাপোর্ট ছিল না, সেটা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'উচিত ছিল পতন ঠেকাতে কারো হাল ধরা। কিন্তু সেটা দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে প্রণোদনা ঘোষণার পর বাজারে কিছুটা আস্থা ফিরেছে। কিন্তু এভাবে আবার পড়তে থাকলে সেই আস্থা একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে।' সিএসইতে গতকাল ৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে পাঁচ কোটি টাকা কম। তবে এদিন সার্বিক সূচকের পতন হয়েছে ৭৭৫ পয়েন্ট, যা গত জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ দরপতন। গতকাল এক দিনেই বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার কোটি টাকা। এ সময় লেনদেন হওয়া ১৭৭টি কম্পানির মধ্যে শুধু আটটির দর বেড়েছে। ১৬৬টি কম্পানির শেয়ারের দর কমেছে।
নিবন্ধিত কম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের জন্য ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা নিয়েও ষড়যন্ত্র হতে পারে ইঙ্গিত দিয়ে বি রিচ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, 'যাদের শর্ত পূরণের জন্য শেয়ার কিনতে হবে তারা হয়তো শেয়ারের দর আরো ফেলে দিয়ে তারপর কেনা শুরু করবে। এ ছাড়া সরকারবিরোধী কোনো চক্রও এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। এসইসি ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।'

No comments

Powered by Blogger.