আশাব্যঞ্জক সীমান্ত সম্মেলন-নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধ করতেই হবে

ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে (বিএসএফ) বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাটি দীর্ঘদিন থেকেই দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ধরনের সমস্যা হয়ে বিরাজ করছিল। এ নিয়ে বহু আলোচনা, দেন-দরবার হয়েছে। কিন্তু সমাধান হয়নি। এবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলন এ ব্যাপারে মনে হয় অনেকটাই আশার আলো দেখাতে পেরেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির সদর দপ্তর পিলখানায় ছয় দিনব্যাপী এ সম্মেলন গত শুক্রবার শেষ


হয়েছে। এতে সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা বন্ধ করতে যৌথ পাহারার ব্যবস্থা করার পদক্ষেপসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই এবারের সম্মেলনকে অনেক দিক থেকেই অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলা যায়।
গত কয়েক বছর ধরেই সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা কমছে। ২০০৭ সালেও যেখানে দুই শতাধিক বাংলাদেশি নিহত হয়, সেখানে ২০০৯ সালে ৫৫ জন, ২০১০ সালে ৩২ জন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র সাত জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এবার সম্মেলন শেষে বিএসএফপ্রধান এই সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিএসএফ জওয়ানদের হাতে এখন প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, সীমান্তে সামান্য নমনীয় হলেই সন্ত্রাসীরা ব্যাপকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তারা বিএসএফ জওয়ানদের ওপর হামলা করে। তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের হামলায় ২০১০ সালে ৫৭ জন, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই ৭১ জন বিএসএফ জওয়ান আহত হয়েছেন। বিএসএফকে তখন বাধ্য হয়েই গুলি চালাতে হয়। এতে শুধু বাংলাদেশিরাই নিহত হন, তা নয়, ২০০৯ সালে ৩৭ জন, ২০১০ সালে ২৯ জন এবং এ বছর পাঁচ জন ভারতীয় নাগরিকও নিহত হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা চোরাচালানের জন্য কাঁটাতারের বেড়াও কেটে ফেলে। তিনি জানান, ২০০৯ সালে ৫৫৬টি, ২০১০ সালে ৯২৪টি এবং চলতি বছর ৬৩৭টি স্থানে কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলা হয়েছে। এসব কারণে এখন থেকে বিজিবি-বিএসএফ যৌথ পেট্রোলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত-সন্ত্রাস দমনেও তারা একসঙ্গে কাজ করবে। আর এসবের ভেতর দিয়েই তাঁরা আশা করছেন, সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হবে।
চোরাচালান দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই একটি বড় ধরনের হুমকি। সেটি অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু চোরাচালান বন্ধ করতে গিয়ে গুলি চালানো এবং সেই গুলিতে কেউ মারা যাওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা যেতে পারে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সে সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলছে বলেই বিজিবি প্রধান দাবি করেন। ভারতীয় পক্ষেরও একই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অপরাধীও একজন মানুষ। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সে শাস্তিও পেতে পারে। আর অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো ব্যক্তি আদালতের দৃষ্টিতে নির্দোষ। কাজেই কাউকে গুলি করে মেরে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। ভারতকে এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেই হবে। কাজেই বিএসএফ প্রধানের আশ্বাস অনুযায়ী আমরা আশা করতে পারি, এই সীমান্ত সমস্যাটি এখন থেকে আমাদের আর ব্যথিত করবে না।

No comments

Powered by Blogger.