চার মাসে দেওয়া হয়েছে তিন হাজার ১০ কোটি টাকা-কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে ৭ শতাংশ

রকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংকই কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে। অর্থবছরে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা হলেও প্রথম চার মাসে ব্যাংকগুলো তিন হাজার ১০ কোটি ২৯ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে; যা বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ২১.৮১ শতাংশ। অথচ আগের অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ বিতরণ করেছিল তিন হাজার ৬০৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, লক্ষ্যমাত্রার হিসাবে যা ছিল ২৮.৬০ শতাংশ।


অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে ৬.৭৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ অক্টোবরভিত্তিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি ব্যাংক মোট আট হাজার ৫১০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এক হাজার ৯৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করেছে। যা তাদের মোট ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ২৩.২৬ শতাংশ। অথচ এ ব্যাংকগুলোই গত বছর একই সময়ে মোট কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ৩০.৪৯ শতাংশ পূরণ করেছিল। অপরদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো পাঁচ হাজার ২৯০ কোটি টাকা কৃষিঋণ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এক হাজার ৩০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিতরণ সম্পন্ন করেছে, যা তাদের মোট ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ১৯.৪৮ শতাংশ। অথচ গত বছরের একই সময়ে এ ব্যাংকগুলো তাদের ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ২৩.৯২ শতাংশ ঋণ বিতরণে সক্ষম হয়েছিল।
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ব্যাংকগুলো শস্য খাতে এক হাজার ১৮৪ কোটি ১৫ লাখ, চাষাবাদের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে আট কোটি ৬৬ লাখ, কৃষি উপকরণ ক্রয়ে ৯০ কোটি ১২ লাখ, পশুপালনে ২৩৫ কোটি ৯৮ লাখ, মৎস্যচাষে ২৪৮ কোটি ৫৪ লাখ, শস্য মজুদ ও বাজারজাতকরণে ৪৯ কোটি ৪৪ লাখ, দারিদ্র্য বিমোচনে ৪২১ কোটি ৮৪ লাখ এবং অন্যান্য কৃষিসংশ্লিষ্ট খাতে ৭৭১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানান, গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপরই এবার বাংলাদেশ ব্যাংক জোর দিয়েছে। এ কারণে আগে এনজিওগুলোর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করলেও সে ক্ষেত্রে ব্যাংকের তেমন নজরদারি ছিল না। কিন্তু এবার ব্যাংকগুলোকে এ ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হয়তো এ কারণে ঋণ বিতরণে পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আর বাজারে ঋণের চাহিদাও কিছুটা কম থাকায় প্রথম প্রান্তিকে বিতরণ কিছুটা কম হয়েছে বলে ব্যাংকগুলো জানিয়েছে।
শস্য খাতে ঋণ বিতরণ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে উল্লেখ করে মনিরুজ্জামান বলেন, 'আমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে শস্য খাতে ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি যেন ঠিক থাকে। সুতরাং প্রথম চার মাসে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কিছুটা কম হলেও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেই হলো। আর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে এর দায় ব্যাংকগুলোকেই নিতে হবে। আমরা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।'

No comments

Powered by Blogger.