যৌথ সমীক্ষার বিষয়ে ঢাকার চিঠির জবাব দেয়নি দিল্লি

রাক নদের ওপর বিতর্কিত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের আগে যৌথ সমীক্ষা চালানোর জন্য ঢাকার আহ্বানের জবাব এখনো দেয়নি দিল্লি। এ ছাড়া বাংলাদেশকে না জানিয়ে কেন ওই চুক্তি ভারতে স্বাক্ষরিত হলো তারও কোনো ব্যাখ্যা আসেনি দিল্লি থেকে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানায়।ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার লেখা চিঠির জবাব পাঠিয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে


জানানোর পর সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তার কোনো জবাব এসেছে কি না জানতে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ হচ্ছে। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতে চুক্তির বিষয়টি যখন জানাজানি হলো তখন এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য ঢাকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের জন্য দিল্লিতে ছিলেন। অন্যদিকে ভারতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও (যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ উইং) ওই বৈঠকে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সেখানেই যোগাযোগ ও কথাবার্তা হয়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক দিল্লি থেকেই বিষয়টির তদারকি করেছেন।
তবে না জানিয়ে টিপাইমুখ ইস্যুতে চুক্তির কারণ জানতে চেয়ে গত বুধবার ও পরদিন বৃহস্পতিবার কড়া ভাষায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভারতকে যে বার্তা পাঠানো হয়েছে এর জবাব গতকাল শনিবার পর্যন্ত ঢাকায় আসেনি। এ ছাড়া টিপাইমুখ প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশের ওপর কী প্রভাব পড়বে জানতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যৌথ সমীক্ষা চালানোর যে আহ্বান বাংলাদেশ জানিয়েছে, এরও জবাব গতকাল পর্যন্ত আসেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিরোধীদলীয় নেত্রীকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী চিঠি পাঠিয়েছেন এবং ভারতের সরকার যৌথ সমীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের আহ্বানের জবাব দেয়নি_দুটি বিষয়কে এক করে দেখা যৌক্তিক নয়। কারণ বিরোধীদলীয় নেত্রী চিঠি লিখেছেন সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। এটিকে রাজনৈতিক চ্যানেল বলে মনে করে কূটনৈতিক সূত্র। অন্যদিকে সরকার এ বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলেই যোগাযোগ করছে। আর অনেক সময় স্পর্শকাতর বিভিন্ন ইস্যুর জবাব দিতে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলেরও নির্দেশনা প্রয়োজন। এ কারণেও দেরি হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী টিপাইমুখ ইস্যুতে ভারতে দূত পাঠাবেন বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। ওই দূত বা প্রতিনিধিদলের সফরেও এ নিয়ে জটিলতা কাটতে পারে।
তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবারও টিপাইমুখের কারণে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

No comments

Powered by Blogger.