প্রতীক্ষার সিরিজ, প্রস্তুত মাহমুদ উল্লাহও

ইসিসি নিশ্চিতভাবে এতটা ভাবেনি। একে তো মহিলা ক্রিকেট, তার ওপর বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব মাত্র_সেটি নিয়েই কী মাতামাতি! বাংলাদেশের ক্রিকেট-কন্যারা ওয়ানডে স্ট্যাটাস অর্জন করায় টুর্নামেন্টটি রীতিমতো সুপার হিট। একেবারে পাদপ্রদীপের আলোয়। তাতে কিছুটা যেন আঁধারে ঢেকে ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তানের আসন্ন সিরিজ এবং অবশ্যই সেটি পুরুষদের জাতীয় দলের!


মহিলা ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতি হলে কী হবে, নিয়ম মেনে অনুশীলনটা কিন্তু ঠিকই চালিয়ে গেছে মুশফিকুর রহিমের দল। ক্যাম্প করেছে চট্টগ্রামে। কাল থেকে চূড়ান্ত অনুশীলন পর্ব শুরু হলো ঢাকায়। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিজেদের শেষ মুহূর্তে ঝালাই করে নিচ্ছেন স্টুয়ার্ট ল'র শিষ্যরা। পাকিস্তান যে চলে এসেছে কাল সন্ধ্যায়। এক টোয়েন্টি টোয়েন্টি, তিন ওয়ানডে এবং দুই টেস্টের সিরিজ যে আক্ষরিক অর্থেই কড়া নাড়ছে দুয়ারে।
সিরিজ শুরু হলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয় মাহমুদ উল্লাহর। জিম্বাবুয়ে সফরের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটের খোলনলচে বদলে ফেলার অংশ হিসেবে অধিনায়ক, সহ-অধিনায়কের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয় সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে। স্থলাভিষিক্ত মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আলো ছড়িয়েছেন মুশফিক। কিন্তু মাহমুদ তো সেই সুযোগটাই পেলেন না। ডেঙ্গুর কারণে টোয়েন্টি টোয়েন্টি, ওয়ানডে সিরিজ এবং প্রথম টেস্টও মিস করেছেন। দ্বিতীয় টেস্টে ফেরার মঞ্চ যখন প্রস্তুত, তখনই অনুশীলনে নেট বোলারের বলে চিড় ধরল হাতের আঙুলে।
সহ-অধিনায়ক হিসেবে তাই এখনো অভিষেক হয়নি এই অলরাউন্ডারের। সে জন্য তাঁর ব্যগ্রতা বোঝা গেল এ কথায়, 'সহ-অধিনায়ক হওয়ার পর শেষ সিরিজটি আমি খেলতে পারিনি। তবে এখন আমি পুরোপুরি সুস্থ। খেলার জন্য তাই মুখিয়ে আছি। অনুশীলনে অনেক পরিশ্রম করছি। ফিটনেস ধরে রেখে ফর্মে ফেরার আশা করছি আমি।' কিন্তু প্রতিপক্ষ যে সহজ নয়, পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে যাদের ফর্ম দুরন্ত। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল। এ ছাড়া এ বছর খেলা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজই জিতেছে তারা। অধারাবাহিক বলে কুখ্যাত দলটির এ ধারাবাহিকতা ভড়কে দেওয়ার মতো। অবশ্য পাকিস্তানকে নিয়ে ভাবতে একেবারে নারাজ মাহমুদ। ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নে তিনবার তিনি বলেছেন প্রায় অভিন্ন কথা, 'প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবার চেয়ে আমরা নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে কাজ করছি। ম্যাচের আগের দিন হয়তো পাকিস্তানের বিশ্লেষণ কিছুটা হবে। আপাতত আমরা নিজেদের ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং নিয়ে কাজ করছি। শক্তির জায়গাগুলো আরো শক্তিশালী করছি। দুর্বলতার জায়গাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।'
কাল অনুশীলনে দেখা গেল চনমনে এক বাংলাদেশ দলকে। চট্টগ্রামেও দলের ভেতর ছিল ফুরফুরে এই মেজাজ। রিকশা নিয়ে ক্রিকেটারদের ভিন্ন রকম অনুশীলনেও দেখা গিয়েছে। 'রিকশা নিয়ে দৌড়টা ভালো লেগেছে। ওটি ছিল একই সঙ্গে ফিটনেস এবং দলের মধ্যে মজা করার একটা অংশ'_খোলা হাসিতে জানালেন সহ-অধিনায়ক। আর সিরিয়াস হয়ে বললেন স্কোয়াডের গভীরতায় ভরসা রাখার কথা, 'আমাদের এ স্কোয়াডটি খুবই ভালো। বিশেষ করে অনেক অলরাউন্ডার আছে। অলক ভাই, নাসির, আমি, নাঈম; আর সাকিব তো আছেই। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে ঢুকেছেন ফরহাদ রেজা। এ জায়গাটিতে যে অভাব ছিল, আশা করি তিনি তা পূরণ করতে পারবেন।' এমন দলের লক্ষ্যটাও খোলসা করেছেন মাহমুদ, 'মূল টার্গেট অবশ্যই সিরিজ জয়। যদিও পাকিস্তান এ মুহূর্তে খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। ভালো ফল পেতে হলে আমাদের তাই ওদের চেয়েও ভালো খেলতে হবে।'
ওই ভালো খেলার চ্যালেঞ্জটাই এখন ঝুলে আছে বাংলাদেশের সামনে।

No comments

Powered by Blogger.