বাংলাদেশের কম্পানি আইন তৈরি করছে বিদেশি সংস্থা!-ডিসেম্বরে খসড়া জমা দেবে আইএফসি

শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ কম্পানি আইন ১৯৯৪ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু দেশের জন্য নতুন এই আইন তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে বিদেশি সংস্থা! ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এ আইনের খসড়া তৈরি করছে। আর এতে দেড় কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের কম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তানজিব-উল আলমকে খসড়া তৈরির জন্য কনসালটেন্ট হিসেবে


নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে আইনটির খসড়া তৈরির কাজ সম্পন্ন হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে আইএফসি।
বাণিজ্যসচিব মো. গোলাম হোসেন জানান, আইএফসি আইনের খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করবে।
কম্পানি আইনের ওপরই দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ নির্ভর করে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসহ শেয়ারবাজারের বিভিন্ন বিষয়ও এ আইনের ওপর নির্ভরশীল। এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন তৈরির দায়িত্ব বিদেশি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া কোনোমতেই যৌক্তিক হয়নি বলে অনেকে মনে করছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আইএফসি বিদেশি বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট দ্বারা আইনটির খসড়া তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশি কনসালটেন্ট দ্বারা খসড়া তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়। পরে দেশি-বিদেশি কনসালটেন্ট দ্বারা আইনটির খসড়া তৈরির কাজ করছে আইএফসি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে এ জন্য মতবিনিময় সভা করেছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কম্পানি আইন ১৯৯৪ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার সময়ই আইএফসি-বিআইএফসি সহযোগিতা করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায়। প্রথমে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন তৈরির দায়িত্ব বিদেশি সংস্থাকে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মন্ত্রণালয়। তবে পরে ওই সিদ্ধান্ত বদল হয় আরেকটি বৈঠকে। ওই সভার পর তৈরি করা কার্যবিবরণীতে বাণিজ্যমন্ত্রীর আগ্রহের কারণে আইন তৈরিতে আইএফসির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে মর্মে উল্লেখ করা হয়। আর কার্যবিবরণীর এ কথাটির সুযোগেই খসড়া তৈরির দায়িত্ব পেয়ে যায় আইএফসি-বিআইএফসি। আইনটির খসড়া তৈরির জন্য আইএফসি-বিআইএফসি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। অবশ্য ওই অর্থের সঙ্গে সরকার বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁরা বলেন, কম্পানি আইন একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ আইন। এটি তৈরির মতো দক্ষ জনবল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। তবে এ জন্য কয়েকজন দক্ষ কর্মকর্তার বেশ কয়েক মাস লাগত। তার পরিবর্তে খসড়া তৈরিতে আইএফসির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
দেশি আইনের খসড়া তৈরির কাজ বিদেশি সংস্থার হাতে দেওয়া কতটা যৌক্তিক_এমন এক প্রশ্নের উত্তরে কম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ এবং এ আইনের খসড়া তৈরির মূল কনসালটেন্ট ব্যারিস্টার তানজিব কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমাকে সহায়তা করার জন্য দুয়েকজন বিদেশি বিশেষজ্ঞও রয়েছেন; কিন্তু তাঁরা আমাদের দেশের কম্পানি আইন সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। তাই তাঁরা আমার ওপর কোনো ধরনের চাপ দিচ্ছেন না। তবে কিছু বিষয়ে সুপারিশ করছেন। তাঁদের সুপারিশ যৌক্তিক মনে হলে তা আমি গ্রহণ করছি। আর আমরা কেবল সরকারের কাছে আইনটির খসড়া তৈরি করে দেব। এরপর সরকার গঠিত কমিটি তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেই তা চূড়ান্ত করবে। বলা যায়, আমরা কেবল খসড়া তৈরির কাজে সরকারকে সহায়তা করছি।'

No comments

Powered by Blogger.