চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, হেরেও 'জয়ী' পাকিস্তান

বিজয়ী দলের ল্যাপ অপ অনার দেওয়ার রীতি বেশ পুরনো। কিন্তু সেই দৌড়ে পরাজিত দলের শামিল হওয়া খানিকটা বিস্ময়কর বৈকি! কাল পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট দল করল ঠিক তাই। আর সেটি মহিলা বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১৩০ হারের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে যাওয়ার পরও!পাকিস্তান অধিনায়ক সানা মীরের এ বিষয়ে ব্যাখ্যাটা দারুণ, 'একটা ম্যাচের হারে তো আর পুরো টুর্নামেন্ট মাটি হয়ে যায় না। আমাদের যে মূল


লক্ষ্য ছিল, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সেই লক্ষ্য ঠিকই পূরণ করেছি। ক্যারিবিয়ানদের সঙ্গে মিলে তাই ল্যাপ অব অনার দিয়ে ক্রীড়াসুলভ মনোভাব দেখাতে চেয়েছি আমরা।' তাঁর কথাতেই পাওয়া যাবে এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের মূল সুর। জিতলে ভালো, না জিতলেই বা ক্ষতি কী! বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্য অর্জন তো হয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান দুই দলেরই।
তার পরও ফাইনাল বলে কথা! জিতলে যে তা আত্মবিশ্বাসের সলতে উসকে দিত! জয়ের জন্য তাই মরিয়া হয়ে ছিল দুই দল। বছর দুয়েক পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে যাওয়ার প্রস্তুতি এই শিরোপার চেয়ে ভালোভাবে তো হতে পারে না।
ফাইনালের সংশয়াতীত ফেভারিট ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেটি শুধু গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের জন্যই নয়। ফাইনালের আগ পর্যন্ত সবগুলো ম্যাচই যে জিতেছিল ক্যারিবীয় সাগর পাড়ের কন্যারা। ফাইনালের শুরুটাও তারা করেছে দোর্দন্ড প্রতাপে। প্রথম উইকেট জুটিতে ৪৫ রান। পাকিস্তান এই ওপেনিং জুটি ভাঙে প্রতিপক্ষের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান স্টেফানি টেলরকে (৩২) ফিরিয়ে দিয়ে। কিন্তু ম্যাচে আর তারা ফিরতে পারল কই!
অন্য ওপেনার জুলিয়ানা নিরো খেলেছেন ধৈর্য নিয়ে। চার নম্বরে নেমে ডিয়ান্ড্রা ডটিন এর ঠিক বিপরীত। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তোলায় ছিল তাঁর মনোযোগ। নিরো ৯৮ বলে ৬৩ রান করে আউট হলেও অবিচল খেলে গেছেন ডটিন। ছক্কায় ছক্কায় পাকিস্তান বোলিংকে একেবারে এলোমেলো করে দিয়ে। পাঁচটি বাউন্ডারির পাশাপাশি সাতটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ডটিন। সেঞ্চুরিটিকে যখন মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার, তখনই হেলায় হারালেন সুযোগটা। আউট হয়ে যান ৮৩ বলে ৯৫ রান করে। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। ডটিনের ব্যাটে চড়ে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে আড়াই শ' রানের বিশাল স্কোর গড়ে তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
পাকিস্তান কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি। ওপেনার নিদা রশিদকে (২) পঞ্চম ওভারে হারালেও লড়াই চালিয়ে গেছে তারা। কানিতা জলিল (৫৩) ও মারিনা ইকবালের (১৬) ৪৯ রানের জুটি আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছিল তাদের। সেটি ভেঙে যায় মারিনাকে টেলর আউট করার পর। ১ উইকেটে ৬৫ থেকে হঠাৎই ৫ উইকেটে ৮১ হয়ে যায় তারা। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৫ রানের জুটিতে বিপর্যয় কিছুটা ঠেকানো গেছে ঠিক কিন্তু অফস্পিনার আনিসা মোহাম্মদের রুদ্রমূর্তির সামনে এরপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ইনিংস। ৫ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২০ রানে অল আউট পাকিস্তান। লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি জাগানো ম্যাচটি হেরে গেল তারা ১৩০ রানে। ১৪ রানে ৭ উইকেট নিয়ে ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ আনিসা। আসরের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই স্টেফানি টেলর।

No comments

Powered by Blogger.