'নতুন লারা'য় মুগ্ধ আসল লারা

ব্রায়ান লারার সঙ্গে অদ্ভুত মিল ড্যারেন ব্রাভোর। দুজনের ব্যাটিং স্টাইল, সেঞ্চুরি উদ্যাপন এমনকি শুরুর পরিসংখ্যানও একই! ১২ টেস্ট শেষে লারা ৪৭.০৫ গড়ে করেছিলেন ৯৪১ রান, ব্রাভোও ঠিক তাই। ১৩তম টেস্টে লারা খেলেছিলেন ১৬৭ রানের ইনিংস আর ব্রাভো করেছেন ১৬৬! লারার সঙ্গে তুলনা হওয়াটা স্বাভাবিক। এটাকে অবশ্য কেবলই কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্রাভো, আর জানিয়েছিলেন চাইলেই লারা হওয়া যায় না।


তবে খোদ লারার বিশ্বাস, কিংবদন্তি হওয়ার সব মসলাই আছে ব্রাভোর মধ্যে, 'আমার মনে হয় অসাধারণ ব্যাটসম্যানদের একজন হতে চলেছে ব্রাভো, দারুণ প্রতিভাবান ছেলেটা।'
প্রথম ১৩ টেস্টে ব্রাভোর গড় ৫২.৫০। গড় ৫০-এর বেশি বলে এখন থেকে যেকোনো দেশের বোলাররা ব্রাভোর ভিডিও ফুটেজ দেখবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। এ জন্য তাঁকে সতর্ক করে দিলেন টেস্ট ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ ১১৯৫৩ রান করা লারা, 'দিনে দিনে আরো পরিণত হচ্ছে ব্রাভো। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পেতে কিছুটা সময় লেগেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর স্বাদ পেয়েছে ও। এই ফর্মটা ধরে রাখতে হবে। ও এখন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান। তাই অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো আরো বেশি করে পর্যবেক্ষণ করবে ওকে। এ জন্য বাড়বে চাপও। আশা করব এই চাপটা কাটিয়ে উঠবে ব্রাভো।'
ব্রাভোর পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের তরুণ ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সেও খুশি লারা। মুম্বাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে করেছিল ৫৯০ রান। ফিফটি পেয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান টপঅর্ডারের ছয় ব্যাটসম্যানই। চার তরুণ ব্রাভো ১৬৬, ব্রাথওয়েইট ৬৮, বারাথ ৬২ ও এডওয়ার্ডস করেছিলেন ৮৬ রান। সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান উচ্ছ্বসিত তাঁদের পারফরম্যান্সে, 'এখনো আমরা ভারতের মাটিতে টেস্ট জিতিনি তার পরও বলব তরুণরা অসাধারণ খেলেছে এবারের সফরে। ব্রাথওয়েইট, বারাথ, এডওয়ার্ডস, ব্রাভোরা এখনো সবাই মিলে ৫০টিও টেস্ট খেলেনি। তার পরও দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে ওরা।'
ভালো খেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় দলগুলোর বিপক্ষে সাফল্য না পাওয়ায় তরুণদের হতাশায় ভোগা স্বাভাবিক। তার ওপর আবার ক্রিস গেইলের মতো অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে বোর্ড কর্মকর্তাদের। কঠিন এ সময়টা কাটিয়ে ওঠার কামনাই করলেন লারা, 'আমাদের অঞ্চলের ক্রিকেট অবকাঠামো খুবই খারাপ। তার পরও অনেক প্রতিভাবান তরুণ উঠে আসছে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে। তারা খেলছে কিন্তু জয় পাচ্ছে না, তার ওপর আছে আবার ক্যারিয়ার গড়ার চাপ। আশা করছি অবকাঠামোর উন্নতি হলে একদিন মাথা তুলে দাঁড়াবে আমাদের ক্রিকেট।' ত্রিনিদাদ এঙ্প্রেস

No comments

Powered by Blogger.