বিবিসির বিশ্লেষণ- চীনে সাউদার্ন উইকলির নজিরবিহীন লড়াই



চীনের গুয়াংঝুভিত্তিক সাপ্তাহিক পত্রিকা সাউদার্ন উইকলি সরকারি নিয়ন্ত্রণের (সেন্সরশিপ) বিরুদ্ধে নজিরবিহীন লড়াই করেছে। এই লড়াইয়ে আপাতত সাউদার্ন উইকলির সাংবাদিকদেরই জয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজে যোগ দিয়েছেন সাউদার্ন উইকলির সাংবাদিকেরা। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বিক্ষোভের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে না এবং সরকারি প্রচার বিভাগ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।
১৬ লাখ প্রচারসংখ্যার এই পত্রিকাটি চীনের অন্য পত্রিকার তুলনায় বেশ উদারপন্থী বলে পরিচিত। এ কারণে পত্রিকাটিকে বেশ প্রভাবশালী মনে করা হয়। সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেসাউদার্ন উইকলির লড়াই অবশ্য নতুন নয়। ২০০৯ সালেও একবার সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে প্রথম দুই পৃষ্ঠা ফাঁকা রেখে পত্রিকাটি প্রকাশ করা হয়। সাউদার্ন উইকলি ২০০১ সালে নিজেদের সিদ্ধান্তে লেখক কর্পেস ওয়াকারের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সরকার পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে বরখাস্ত করে। ওয়াকার চীনের দরিদ্র জনগণের জীবনযাত্রার বিস্তারিত তুলে ধরে একটি বই লিখেছিলেন। এতে সরকার তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।
এর বছর খানেক পর সাউদার্ন উইকলির আরেক সাংবাদিককে বরখাস্ত করা হয়। একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের তহবিলের অপব্যবহারসংক্রান্ত একটি ঘটনার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় ওই সাংবাদিককে বরখাস্ত করে সরকার।
এবার সাউদার্ন উইকলির সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে নববর্ষের প্রথম দিনে। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ওই পত্রিকায় ছাপার জন্য নির্বাচিত শুভেচ্ছাবার্তা বাদ দিয়ে সেখানে ক্ষমতাসীন দল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) প্রশংসামূলক একটি লেখা প্রকাশ করে সরকারি প্রচার বিভাগ। এতে সরকারি প্রচার বিভাগের প্রধান তুয়ো ঝেনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকেরা গত সোমবার থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা তুয়ো ঝেনের পদত্যাগ দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের সমঝোতা হয়েছে। যদিও সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
সাউদার্ন উইকলির সঙ্গে মাঝে মাঝে সরকারি বিরোধ হলেও প্রচার বিভাগের সঙ্গে পত্রিকাটির সম্পর্ক কিন্তু একেবারেই খারাপ নয় বলে মনে করেন বেইজিংয়ের ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ঝান জিয়াং। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বাদে সরকারি প্রচার বিভাগের সঙ্গে সাউদার্ন উইকলির সম্পর্ক কিন্তু বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। তবে গত অক্টোবরে সরকারি প্রচার বিভাগে নতুন কর্মকর্তারা দায়িত্বে এলে পত্রিকাটির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে নববর্ষে।
চীনের গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান দানওয়েই এর প্রতিষ্ঠাতা জেরেমি গোল্ডকর্ন বলেন, পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে সরকারি প্রচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রতিবছর পত্রিকার নিবন্ধন নবায়ন করতে সরকারি প্রচার বিভাগের মতামত প্রয়োজন হয়। নিবন্ধন ছাড়া পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

No comments

Powered by Blogger.