লক্ষ্য যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় by আসিফ ত্বাসীন

শুরু হয়েছে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনপত্র বিতরণ শুরু করেছে। এবছর সর্বপ্রথম ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে বলে ধরা হচ্ছে।


সেক্ষেত্রে জিপিএ-৫ পেয়েও ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করতে না পারলে স্থান নাও হতে পারে সবার স্বপ্নের এ ক্যাম্পাসে। মনে রাখতে হবে, প্রস্তুতিতে একটু ঘাটতি থাকলে অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়তে হবে। গত বছরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীর খরচ-ভোগান্তি অনেক কমে যাচ্ছে। বাসায় বসে কিংবা নিজের এলাকা থেকেই পূরণ করা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফরম। ফরম পূরণ, এমনকি প্রবেশপত্রও পেয়ে যাবে কোন ঝামেলা ছাড়াই।
পরীক্ষার তারিখ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ‘ক’ ইউনিট ১২ অক্টোবর, ‘খ’ ইউনিট ১৯ অক্টোবর, ‘গ’ ইউনিট ২৩ নবেম্বর, ‘ঘ’ ইউনিট ৯ নবেম্বর এবং ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষা ১৬ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে গত ২৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া ও ছবি আপলোডের জন্য আরও কয়েকদিন সময় পাওয়া যাবে। ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ও অনলাইন সার্ভিস ফিসহ ভর্তি পরীক্ষার ফি ৩৫০ টাকা।
ভর্তির যোগ্যতা : ২০১১ ও ২০১২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই কেবল ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে তাদের অবশ্যই ২০০৭ কিংবা তার পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
আবেদনের যোগ্যতা- ক ইউনিট : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয় বাদে) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.০। খ-ইউনিট : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয় বাদে) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.০। গ ইউনিট : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয় বাদে) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫। ঘ ইউনিট : মানবিক শাখার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭.০, বিজ্ঞান শাখার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৮.০; ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭.৫। উল্লেখ্য, ঘ ইউনিটে আবেদনের ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজী উভয় বিষয়ে সম্মিলিতভাবে গ্রেড পয়েন্ট ন্যূনতম ৬.০ থাকতে হবে এবং কোন বিষয়েই লেটার গ্রেড সি (গ্রেড পয়েন্ট ৩)-এর নিচে হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। চ ইউনিট : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয় বাদে) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল হতে হবে ন্যূনতম ৬.৫। জি.সি.ই লেভেল : ‘ও’ লেভেল পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ে এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় ন্যূনতম দুটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং উভয় লেভেলের মোট সাতটি বিষয়ের মধ্যে চারটি বিষয়ে কমপক্ষে ‘বি’ গ্রেড এবং তিনটি বিষয়ে কমপক্ষে ‘সি’ গ্রেডপ্রাপ্ত হতে হবে।
আবেদনের নিয়মাবলী : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে কেবল ২০১১ অথবা ২০১২ সালের এইচএসসি ও ২০০৬ সালের পর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই আবেদন করতে পারবে। ২৬ আগস্ট থেকে অনলাইনে আবেদন করা শুরু হয়েছে, যার সময় শেষ হবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর।
একজন আবেদনকারীকে নিম্নলিখিত চারটি ধাপ সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে হবে।
প্রথম ধাপ : (ইউনিট বাছাই)
আবেদনকারীকে িি.িধফসরংংরড়হ.ঁহরাফযধশধ.বফঁÑ এই ওয়েবসাইট থেকে প্রার্থী উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান/মানবিক/বাণিজ্য শাখায় পঠিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ইপ্সিত বিষয়/বিভাগে ভর্তির জন্য ক, খ, গ, ঘ এবং চ এই পাঁচটি ইউনিটের একটি বেছে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ : (আবেদনের ফি জমা রসিদ সংগ্রহ)
ওয়েবেসাইটে ‘আবেদন’ (অঢ়ঢ়ষু) লিঙ্কে ক্লিক করে প্রার্থী উচ্চ মাধ্যমিকের রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ড ও পাসের সাল দিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রসিদ ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে হবে।
উচ্চ মাধ্যমিকের ও মাধ্যমিকের সমমানের যে কোনটিতে জিসিই বা বিদেশী সার্টিফিকেটধারী আবেদনকারীকে সমতা নিরূপণের জন্য প্রথমে তার প্রাথমিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ও গ্রেডশীটের ফটোকপিসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিট অফিসে আবেদন করতে হবে। সমতা নির্ধারণের পর সে একটি (ঊয়ঁরাধষবহঃ ওউ) পাবে এবং সেই ঊয়ঁরাধষবহঃ ওই উচ্চ মাধ্যমিক/মাধ্যমিকের রোল নম্বরের স্থানে ব্যবহার করে সাধারণ নিয়মে টাকা জমা দেয়ার রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।
তৃতীয় ধাপ : (ব্যাংকে টাকা দেয়া)
টাকা জমা দেয়ার রসিদের দুটি অংশের নির্দিষ্ট স্থানে সদ্যতোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংযুক্ত করে এবং রসিদের দুটি অংশেই আবেদনকারী স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের যে কোন স্থানে অবস্থিত সোনালী, জনতা, অগ্রণী বা রূপালী ব্যাংকের শাখায় ৩৫০.০০ (তিন শ’ পঞ্চাশ) টাকা জমা দিতে হবে।
চতুর্থ ও শেষ ধাপ : (ছবি আপলোড করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ)
আবেদনকারীর টাকা জমাদানের তিনদিন পর টাকা জমা দেয়ার রসিদে উল্লেখিত ব্যক্তি পরিচিতি নম্বর (চবৎংড়হধষ ওফবহঃরভরপধঃরড়হ ঘঁসনবৎ-চওঘ) ব্যবহার করে টাকা জমা দেয়ার রসিদে লাগানো ছবির অনুরূপ আরেকটি ছবি ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১২ইং তারিখের মধ্যে আপলোড করে তার আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ছবি আপলোডের পর ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে নিতে হবে।
যদি কোন আবেদনকারী ব্যাংকে টাকা জমাদানের তিন কার্যদিবস পরও পরীক্ষার প্রবেশপত্র তৈরি অবস্থায় না পায়, তাহলে তাকে টাকা জমা দেয়ার বিবরণসহ টেলিফোনে (৯৬৬৯৯৩৪) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.