সময়মতো সেবা না পাওয়ায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দুর্ভোগ by অরুণ কর্মকার

বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা সময়মতো সেবা পাচ্ছেন না। ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া, সরবরাহ লাইনের সমস্যা, লো-ভোল্টেজ প্রভৃতি বিভ্রাটে গ্রাহকদের সময়মতো সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকা থেকে গ্রাহকেরা বাড়তি বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ করছেন।


কয়েক বছর এ অভিযোগ অনেক কম থাকলেও এ বছর বেড়েছে।
রাজধানীর কল্যাণপুরের মিজান টাওয়ার থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে একজন গ্রাহক জানান, ৩৬ ঘণ্টা আগে তাঁদের এলাকার ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকটও তীব্র হয়েছে। অসহ্য গরমে মানুষ গোসলও করতে পারেনি। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তাঁরা। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কাজ হয়নি।
সন্ধ্যা ছয়টায় ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তখনো ট্রান্সফরমার সচল করা হয়নি। গ্রাহকসেবার এ অবস্থায় ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ট্রান্সফরমার বিকল হলে এক মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার নজির রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ট্রান্সফরমার পুনঃস্থাপনের জন্য গ্রামের সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের টাকাও দিতে হচ্ছে।
দুপুরে মিরপুর ২ ও ৬ নম্বর সেকশন থেকে কয়েকজন গ্রাহক জানান, সকাল থেকেই তাঁদের এলাকায় লো-ভোল্টেজ ছিল। বেলা একটার দিকে ভোল্টেজ আরও কমলে বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ হয়ে যায়। লো-ভোল্টেজের বিষয়টি জানাতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কার্যালয়গুলোতে ফোন করা হলেও কেউ ফোন ধরেননি। পরে দুপুরের দিকে একজন ফোন ধরে অভিযোগ শুনে কোনো কথা না বলে ফোন রেখে দেন।
মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক, আদাবর প্রভৃতি এলাকায় প্রায় এক সপ্তাহ সরবরাহ লাইনের সমস্যায় রাত-দিন আধা ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং হয়েছে। গ্রাহকেরা অসংখ্যবার অভিযোগ করেও সেবা পাননি। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। ডিপিডিসি ও ডেসকো সূত্র জানায়, সরবরাহ লাইনের সমস্যা চিহ্নিত করে মেরামত করা হয়েছে।
বিলের ফাঁদ: বিদ্যুতের বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব গ্রাহক বিদ্যুতের বিল-সংক্রান্ত এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ফাঁদে পড়েছেন। এই ফাঁদ হলো: বিইআরসি গত ১ মার্চ থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের দাম হয়েছে তিন টাকা পাঁচ পয়সা। ১০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত চার টাকা ২৯ পয়সা এবং ৪০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের প্রতি ইউনিটের দাম সাত টাকা ৮৯ পয়সা।
এর পাশাপাশি বিইআরসি গ্রাহকের স্বার্থের বিরুদ্ধে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় একটি নতুন নিয়ম করেছে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের যে গ্রাহক ৩০০ ইউনিটের মধ্যে ব্যবহার সীমিত রাখতে পারবেন, তিনি প্রথম ১০০ ইউনিটের দাম তিন টাকা পাঁচ পয়সা হারে এবং পরবর্তী ২০০ ইউনিটের দাম চার টাকা ২৯ পয়সা হারে দেওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু ৩০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহার করলে সম্পূর্ণ বিদ্যুতের দামই চার টাকা ২৯ পয়সা হারে দিতে হবে। ১০০ ইউনিট পর্যন্ত কম দামের সুবিধা তিনি পাবেন না। আবার যেসব গ্রাহক ৩০০ ইউনিটের বেশি কিন্তু ৪০০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, তাঁরা এই নিয়মের ফাঁদে পড়ে বেশি বিল দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর ৪০০ ইউনিটের চেয়ে এক ইউনিট বেশি হলেও সম্পূর্ণ বিদ্যুতের দামই দিতে হচ্ছে প্রতি ইউনিট সাত টাকা ৮৯ পয়সা হারে। এর সঙ্গে রয়েছে কর ও শুল্ক।
বিইআরসি প্রতিবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সময় গ্রাহকসেবার মান বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়। কিন্তু বাস্তবে এর কার্যকারিতা নেই।

No comments

Powered by Blogger.