কালের পুরাণ-প্রধানমন্ত্রী, দেশের জন্যও একটি শান্তির মডেল চাই by সোহরাব হাসান

শেখ হাসিনা যখন জাতিসংঘে, খালেদা জিয়া তখন রাজপথে। আবার খালেদা জিয়া যখন জাতিসংঘে, শেখ হাসিনা তখন রাজপথে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ করবে, আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি বিক্ষোভ করবে—দুই দশক ধরেই এই ধারা চলে আসছে।


কবি আবুল হাসান লিখেছিলেন, ‘মৃত্যু আমাকে নেবে, জাতিসংঘ নেবে না।’ আমাদের নেতা-নেত্রীদের দৃষ্টি বরাবর জাতিসংঘের দিকে। তাঁরা ভাবেন, দেশ নয়, দেশের মানুষ নয়, জাতিসংঘ তাঁদের অমর করে রাখবে। তাঁরা প্রতিবছর বিরাট লটবহর নিয়ে জাতিসংঘে যান। বিদেশি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেন। কিন্তু তাতে দেশের কী লাভ হয়, সাধারণ মানুষ জানে না।

২.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে শান্তির নতুন উন্নয়ন মডেল উপস্থাপন করেছেন। এর ছয়টি প্রতিপাদ্য বিষয় হলো:
ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ,
২. বৈষম্য দূরীকরণ,
৩. বঞ্চনার লাঘব,
৪. ঝরে পড়া মানুষের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত,
৫. মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং
৬. সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন।
প্রধানমন্ত্রী এর নাম দিয়েছেন, ‘জনগণের ক্ষমতায়ন এবং শান্তিকেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেল’। তিনি বলেছেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শান্তির পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ৭০০ কোটি মানুষের এই বিশ্বকে আমরা স্বস্তি দিতে পারব।’
এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আরও যেসব বিষয় উত্থাপন করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রায় ৩০ কোটি মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান; সংঘাত নয়, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি; ভারতের সঙ্গে ৬৪ বছরের সীমান্ত বিরোধ মিটিয়ে ফেলা; ১৯৭১ সালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশ্বসম্প্রদায়ের সহায়তা।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণে নতুন উন্নয়ন বা শান্তির দর্শন আছে কি না, আমরা সেই বিতর্কে যেতে চাই না; তবে যে শান্তির উন্নয়ন মডেলটি তিনি বিশ্ববাসীর জন্য দিয়েছেন, সেই মডেলটি বাংলাদেশের জন্যও অতি জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাসীর ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ, বৈষম্য দূরীকরণ এবং প্রান্তিক মানুষের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন।
আমরা প্রধানমন্ত্রীর শব্দ চয়নের প্রশংসা করি। তিনি দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে বলেননি, দূর করতে বলেছেন। অর্থাৎ তিনি এমন এক পৃথিবী চান, যেখানে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বলে কিছু থাকবে না। দুর্ভাগ্য, তিনি কথাটি বলেছেন বিশ্ব-বৈষম্যের প্রতীক যুক্তরাষ্ট্রে বসে।
তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা এই বাংলাদেশের আদার ব্যাপারি, মহাবিশ্ব নামক জাহাজটির খবর নিয়ে তেমন মাথা ঘামাতে চাই না। সেই বুদ্ধি এবং সামর্থ্যও আমাদের নেই। আপাতত বাংলাদেশের দারিদ্র্যমুক্তি ও বৈষম্য মুক্তির অবস্থাটি জানার চেষ্টা করি। স্বাধীনতার ৪০ বছরের মাথায় এসে আমাদের দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশে নেমেছে। পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল ৪০ শতাংশের মতো। আওয়ামী লীগের আড়াই বছরসহ গত পাঁচ বছরে কমেছে সাড়ে ৮ শতাংশ। এই হার বজায় থাকলে বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে আরও অন্তত ২০-২৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তখন দেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে কমপক্ষে ২৫ কোটিতে। জনসংখ্যা যত বাড়বে, দারিদ্র্য তত চেপে বসবে। প্রধানমন্ত্রীর আদম রপ্তানি পরিকল্পনাও কোনো কাজে আসবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা যদি ১৬ কোটি হয়, তাহলে তিনি যেমন দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠা ১১ কোটি লোকের প্রধানমন্ত্রী, তেমনি দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পাঁচ কোটি লোকেরও প্রধানমন্ত্রী। এই পাঁচ কোটির মধ্যে অন্তত দেড় কোটি অতি দরিদ্র। দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ এখনো অপুষ্টির শিকার। অতএব ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে আত্মসন্তুষ্টির সুযোগ নেই।
দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী বৈষম্য বিলোপ বা দূর করার কথা বলেছেন। বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত, তার অর্থনৈতিক কাঠামোটাই গরিব মানুষের পকেট কেটে ধনীদের আরও ধনী হওয়া। অর্থনীতিবিদ ড. এম এম আকাশ জানালেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে কখনোই বৈষম্য কমেনি, বরং বেড়ে চলেছে। আমাদের জাতীয়তাবাদী, সেক্যুলার, নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সরকারগুলোর মধ্যে এই একটি ব্যাপারে অদ্ভুত মিল আছে। প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করুন আর না-ই করুন, পুকুর চুরি, সাগর চুরি, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুটপাট আগের আমলে যেমন হতো এখনো তেমন হচ্ছে। শেয়ারবাজার থেকে চার হাজার কোটি টাকা কারা কীভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন, তার কিছু বিবরণ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদনে আছে। বাকিটা দুদক ও টিআইবি খোঁজখবর নিয়ে দেখতে পারে।

৩.
প্রধানমন্ত্রী শান্তির উন্নয়ন মডেল দিয়েছেন। সেই মডেল বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রয়োজন। পৃথিবীর সব দেশে শিক্ষার হার বাড়ে, বাংলাদেশে কমে। আওয়ামী লীগের আগের আমলে দেশে শিক্ষার হার ৬০ শতাংশের বেশি বলে দাবি করা হতো। ১০ বছর পর ২০১১ সালে এসে দেখা গেল শিক্ষার হার ৫৪-এর বেশি নয়। তাহলে গত ১০ বছরে পূর্বাপর সরকারগুলোর কৃতিত্ব হলো ৬ শতাংশ সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষকে নিরক্ষর করে দেওয়া। এ রকম অধোগামিতা আরও অনেক খাতেই আছে। আমাদের রেলওয়ের লাইন ও স্টেশন কমে গেছে, বিমানের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, নৌপথ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ভূমিদস্যুরা জলাশয় ভরাট করছে, বনদস্যুরা বনভূমি উজাড় করে দিচ্ছে। কিন্তু বার্ষিক প্রতিবেদন ও দলীয় ইশতেহারে সরকারের কৃতিত্ব ও সাফল্যের শেষ নেই। আমাদের সরকার, রাজনৈতিক দল, পুলিশ, ছাত্রসংগঠন—যেখানে হাত দেয়, সেখানেই নাকি সোনা ফলে। শান্তির জোয়ার বয়। শান্তির কিছুটা নিদর্শন আমরা গত কয়েক দিন রাজপথে দেখেছি পুলিশ, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রলীগের পৃথক পৃথক তাণ্ডবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিশ্বশান্তির দর্শনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি কিংবা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের কথা নেই, ইরাক ও আফগানিস্তান, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনীর জবরদখলের নিন্দা নেই। জবরদখলকারী বিদেশি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ছাড়া শান্তি আসে কীভাবে?
একই অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ভাষণটি লক্ষ করুন। তিনি সরাসরি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির কথা না বললেও দেশে দেশে পশ্চিমা বাহিনীর দখলদারির কঠোর সমালোচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের কথা স্মরণ করিয়ে দিই। তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। শোষক ও শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।’ কিন্তু শেখ হাসিনা সেই শোষক রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে একটি কথাও উচ্চারণ করেননি।
তার পরও আমরা তার ভাষণের মর্মার্থ অনুধাবনের চেষ্টা করছি। দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূরীকরণ সম্পর্কে আগেই বলেছি। এখন মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করব। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বিরোধ নিষ্পত্তিতে জাতিসংঘের মধ্যস্থতার কথা বলেছেন, যদিও এ ক্ষেত্রে সফলতার দৃষ্টান্ত খুবই কম। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তো সেই সংস্থার সহায়তা ছাড়াই বাংলাদেশে জাতিগত বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন পার্বত্য চুক্তি সই করে। সেই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু ১৯৯৭ পূর্ববর্তী যুদ্ধাবস্থা যে সেখানে নেই, সে কথা সবাই স্বীকার করবেন।
বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও অস্থির হয়ে উঠেছে, তার মূলে রয়েছে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ। সরকার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে। বিরোধী দল বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন তারা করবে না, করতেও দেবেন না। মঙ্গলবার চারদলীয় জোটের সমাবেশে খালেদা জিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। ওদিকে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশেই তা বাতিল হয়ে গেছে। এটি আংশিক সত্য। উচ্চ আদালত দেশ ও জনগণের স্বার্থে দুুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যেতে পারে বলে অভিমত দিয়েছিলেন। সরকার তা গ্রহণ করেনি। তাহলে নির্বাচনটি হবে কীভাবে?

৪.
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তিনি বিশ্বসভায় যে শান্তির মডেল পেশ করেছেন, অন্তত বাংলাদেশে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন। বিরোধী দল বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। সরকারি দলের নেতারা বলছেন, উচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হয়ে গেছে। অর্থাৎ নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি। যেমনটি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, তখন জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল। এখন জাতীয় পার্টি সঙ্গে থাকলেও জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করেছে। কে কার কখন মিত্র ও শত্রু বলা কঠিন। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রেসিয়া বিউটেনিস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তারবার্তায় বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ নিজেকে সেক্যুলার দল দাবি করলেও আচরণে তার প্রতিফলন নেই। বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আমেরিকা ও অর্থনৈতিক নীতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তেমন পার্থক্য নেই।
এখন নির্বাচন নিয়ে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান কী? একটি সমাধান আমরা ১৯৯৬ সালে দেখেছি। বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলন করে, জনজীবন অচল করে দিয়ে, এমনকি সরকারের ওপর প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা অনাস্থা প্রকাশ করে দাবি আদায় করেছিলেন।
আরেকটি সমাধান বা সমাধানের চেষ্টা আমরা দেখেছি ২০০৬-০৭ সালে। সে সময়ে বিএনপি সরকার গায়ের জোরে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। পারেনি। দুই পক্ষের যুদ্ধাবস্থার মধ্যে সেনাবাহিনী দেশের কর্তৃত্ব নেয় এবং জরুরি অবস্থার মোড়কে দুই বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকে। নেতা-নেত্রীরা জেলে যান, দল ভাঙাভাঙির খেলা চলে।
এবার কী হবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন যে দুই পক্ষই রাজপথে ক্ষমতা দেখাবে; যে পক্ষ জয়ী হবে, তারাই দেশবাসীর ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে। সরকার তাদের ছক অনুযায়ী নির্বাচন করে ফেলতে চাইবে। আবার বিরোধী দলের যদি শক্তি থাকে, তারা ঠেকাবে। এই ঠেকাঠেকির পরিণাম কি দেশকে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে না?
এসব অঘটনের আগেই শেখ হাসিনার উচিত হবে নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করা। তিনি বিরোধী দলের নেত্রীর সঙ্গে বসবেন না জানিয়ে দিয়েছেন। খালেদা জিয়াও বলেছেন, আলোচনা নয়, আন্দোলন করেই সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। ১৯৯৫ সালে স্যার নিনিয়ান শান্তি আনতে পারেননি। এবার প্রধানমন্ত্রী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জাতিসংঘকে ডাকতে পারেন। সেটাই হরতাল নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে শান্তির মডেল হতে পারে।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

No comments

Powered by Blogger.