ওয়ানডে সিরিজ-শ্রীলঙ্কার ‘৪৩’ রানের লজ্জা

গালে হাত দিয়ে নিষ্পলক মাঠে তাকিয়ে ছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। হয়তো ভাবছিলেন, এটা বাস্তব নাকি কোনো দুঃস্বপ্ন!
গত নভেম্বরের কেপটাউন টেস্টের স্মৃতি এখনো টাটকা। বারবার চোখ কচলানো, হাতে চিমটি কাটা, বিস্ময়াভূত চোখ, অবিশ্বাস্য স্কোরকার্ডকে স্মৃতিতে ধরে রাখতে ছবি তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল ২১ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৯ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর।


কে জানত, দুই মাস এক দিনের মাথায় ফিরে আসবে এমন দিন! এবার অবশ্য ওয়ানডে, কেপটাউনের বদলে পার্ল। পরশু ২১ রানে ৯ উইকেট পড়েনি। কিন্তু ৯ রানে ৫, ১৩ রানে ৬, ২৪ রানে ৭ আর ৩৩ রানে ৮ উইকেট—কেপটাউন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মতো পার্লেও শ্রীলঙ্কা শঙ্কায় ছিল সবচেয়ে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার। উদ্ধার হলো সপ্তম উইকেটে ১১ আর নবম উইকেটে ১০ রানের জুটিতে। ‘উদ্ধার’ বলতে ওই সবচেয়ে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা পেতে হলো না। যা হয়েছে, লজ্জা তাতেও কম নেই। নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোর আর সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। ওয়ানডে ইতিহাসে যেটি চতুর্থ সর্বনিম্ন রান আর তৃতীয় বড় পরাজয়।
শ্রীলঙ্কা সর্বনিম্ন রান করলে মানসিক প্রশান্তি পেত বেশ কটি দল। ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বনিম্ন তিনটি স্কোর যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই! সেই লজ্জা থেকে বাঁচানোর জন্য তিলকরত্নে দিলশান কৃতজ্ঞ থাকতে পারেন মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা এক তরুণের প্রতি। মূল কাজ বোলিং, কিন্তু পরশু ব্যাট হাতে ১৯ রান করে দলকে চূড়ান্ত বিব্রত হওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন কোসালা কুলাসেকারা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আরেক পেসার ও আরেক কুলাসেকারার (নুয়ান) ৬!
উইকেট যে ভয়ংকর কিছু ছিল না, এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। নিষ্প্রাণ ব্যাটিং উইকেটে নবম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন হাশিম আমলা। ক্যালিস করেছেন ৭২, ডি ভিলিয়ার্স ৪০ বলে ৫২। দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ উইকেটে ৩০১। লাসিথ মালিঙ্গার ৫ উইকেটে শেষ ১০ ওভারে ৮ উইকেট হাতে নিয়েও স্বাগতিকেরা তুলতে পারে মাত্র ৬০ রান। নিষ্প্রাণ ব্যাটিং উইকেটে রানটা ১৫-২০ কম হয়ে গেল কি না, ধারাভাষ্য কক্ষে তখন এই আলোচনা। ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে (৪/১০) ম্যাচ-সেরা মরনে মরকেল ও দলে ফিরেই লনওয়াবো সতসোবে (৩/১৯) দারুণ বোলিং করেছেন। কিন্তু মূল দায়টা লঙ্কান ব্যাটসম্যানদেরই। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ছাড়া প্রথম ছয়ের বাকিরা স্রেফ উইকেট ছুড়ে দিয়ে এসেছেন।
এমন জয়ে অধিনায়কত্বের শুরু। ডি ভিলিয়ার্স উচ্ছ্বসিত, তবে সতর্কও, ‘স্বপ্নের মতো শুরু। ছেলেদের বলেছিলাম নতুন বলে ঝাঁপিয়ে পড়তে, সেটা কাজে লেগেছে। তবে এত দিন ধরে খেলাটা খেলছি বলেই জানি, খুব বেশি রোমাঞ্চিত হওয়ার কিছু নেই। অনেক কাজ এখনো বাকি।’ দিলশান এটিকে বলছেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে ম্যাচ। এমন উইকেটে ‘৪৩’-এ গুটিয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যাও খুঁজে ফিরছিলেন।
সত্যিটা হলো, ক্রিকেটে এমন কিছু পাগলাটে দিন আসে, যেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা নেই। খেলাটা এ জন্যই তো এত রোমাঞ্চকর! ওয়েবসাইট।

No comments

Powered by Blogger.