খোকা আহত!-পুলিশ বেষ্টনীতে ছুরিকাঘাতের দাবি বিএনপির by রেজোয়ান বিশ্বাস

ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ভাগের প্রতিবাদে ডাকা হরতালে বিএনপি নেতা ও সদ্য বিদায়ী মেয়র সাদেক হোসেন খোকার আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায় পুলিশি হেফাজতে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। পুলিশ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেনি। পিকেটারদের ইটের আঘাতে তিনি সামান্য আহত হয়ে


থাকতে পারেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তাঁকে লাঠি ও রড দিয়ে আঘাত করা হয়। খোকা বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। রাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নেতারা তাঁকে দেখতে যান। খোকার ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার খুরশিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সকালে জজকোর্ট এলাকায়
পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল হতে থাকে। একটি মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। অন্য মিছিলটি ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের। এ সময় পিকেটাররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইট-পাথর ছোড়ে। ইটের আঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। পিকেটাররা পুলিশের একটি পিকআপ ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ সময় খোকা ছিলেন আদালতের ভেতরে আইনজীবীদের কক্ষে। তাঁর ওপরও হামলার আশঙ্কা দেখা দেয়। পুলিশ তাঁকে রক্ষার জন্য আইনজীবীদের কক্ষ থেকে পুলিশের গাড়িতে ওঠানোর সময় বিভিন্ন সাইড থেকে তাঁর ওপর হামলা আসতে থাকে। কে বা কারা হামলা চালায় তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। তবে পুলিশ তাঁকে ভালোভাবে রক্ষা করে গাড়িতে ওঠায়।
ছুরিকাঘাত করা হয়েছে কি না_প্রশ্নের জবাবে উপকমিশনার বলেন, পুলিশি হেফাজতে ছুরিকাঘাত করার কোনো সুযোগ নেই। পিকেটারদের ইটের আঘাতে তিনি সামান্য আহত হয়ে থাকতে পারেন।
ঘটনার সময় খোকার পাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী নুরুল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁকে পুলিশের গাড়িতে ওঠানোর সময় ছাত্রলীগের ক্যাডাররা রড দিয়ে খুঁচিয়ে তাঁর পা জখম ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় এ হামলা চালানো হয়।
খোকাকে গতকাল বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, সাবেক মেয়র খোকাকে ছুরি মারা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা সিটি দ্বিখণ্ডিত করার প্রতিবাদে রাজধানীতে ডাকা হরতালে সরকারের চিরাচরিত ফ্যাসিস্ট চরিত্রের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। খোকাকে পুলিশ বেষ্টনীতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাক্ষুধা সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। হরতালে নেতা-কর্মীদের নির্যাতন-গ্রেপ্তার এবং খোকার ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার দুপুর আড়াইটায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, খোকাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাঁর খোঁজ নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছুরিকাঘাত বা শরীরে কোনো সেলাইয়ের তথ্য পুলিশকে জানায়নি।
সাদেক হোসেন খোকার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আটকের পর পুলিশের উপস্থিতিতে সাবেক মেয়রের বাম পায়ের ঊরুর ওপর ছুরিকাঘাত করা হয়। ছুরিকাঘাতের কারণে তাঁর পায়ে অনেক সেলাই দিতে হয়েছে। এখন তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালের ৪১৭ নম্বর কক্ষে আছেন।
তবে খোকার চিকিৎসক ইউনাইটেড হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ সার্জন আবু সাঈদ এম এম রহমান গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, খোকা পায়ে কিছু আঘাত নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাঁর ক্ষত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কিভাবে তিনি এই আঘাত পেয়েছেন, সে ব্যাপারে সাদেক হোসেন খোকাও তেমন কিছু বলতে পারেননি। তাঁর পায়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সেলাই দেওয়া হয়নি।
গতকাল কোতোয়ালি থানায় গিয়ে দেখা যায়, আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ থেকে বিএনপিসহ অনেক সাধারণ লোককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মো. জাকির, পাপ্পু ও প্রদীপ নামের তিনজন জানান, খোকার ওপর হামলার সময় তাঁরা আদালতপাড়ায় ছিলেন। তাঁকে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এ হামলায় জড়িতদের সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানাতে পারেননি।
খালেদা জিয়া রাত ৮টার দিকে খোকাকে দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে খোকার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের ৪১৭ নম্বর কেবিনে রাখা হয়েছে তাঁকে। খোকাকে দেখতে হাসপাতালে আরো যান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আ স ম আবদুর রব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, ড. ওসমান ফারুক, মোসাদ্দেক আলী ফালু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, বেগম সেলিমা রহমান, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম প্রমুখ।

No comments

Powered by Blogger.