৯১ জনের ডিলারশিপ বাতিল করল টিসিবি by আবুল কাশেম

মেসার্স মায়া স্টোর, ১১/বি, ১২/৪/৯, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা। মাহমুদা এন্টারপ্রাইজ, ফুলকোচা, বাগবাটি, সিরাজগঞ্জ ও মেসার্স ফুলমিয়া ট্রেডার্স, কুটিবাজার, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এসব ঠিকানায় সরকারি বিক্রয় সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলারশিপ নিয়েছেন দোকান তিনটির মালিক। টিসিবি বিভিন্ন সময় ডিলারদের মালামাল সরবরাহ করলেও তাঁরা তা নেননি। এ তিনটি প্রতিষ্ঠানসহ পণ্য না নেওয়া, ভুয়া ঠিকানায়


ডিলারশিপ নেওয়াসহ নানা অভিযোগে মোট ৯১ জনের ডিলারশিপ বাতিল করেছে টিসিবি। আর ৮১ জন ডিলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াসহ নানা কারণ দেখিয়ে নিজেরাই ডিলারশিপ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারওয়ার জাহান তালুকদার কালের কণ্ঠকে জানান, 'যেসব ডিলার টানা পাঁচবার টিসিবির পণ্য উত্তোলন করেননি। আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে তাঁদের তালিকা সংগ্রহ করার পর ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ ধরনের ডিলারদের তালিকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে।'
সম্প্রতি টিসিবির সঙ্গে এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছিলেন, বিরোধী দল সমর্থিত অনেক ডিলার টিসিবির পণ্য উত্তোলন করছেন না। বাজারদর স্থিতিশীল রাখার সঙ্গে রাজনীতির সম্পৃক্ততা থাকা উচিত নয়। যেসব ডিলার টানা পাঁচ দফা টিসিবির পণ্য উত্তোলন করেননি, তাঁদের তালিকা করে ডিলারশিপ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন তিনি।
টিসিবির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, টানা অন্তত পাঁচবার পণ্য না নেওয়াসহ জেলা প্রশাসকদের পাঠানো বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ৯১ জনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ১০ জন, ঢাকা বিভাগের ৩১ জন, বরিশাল বিভাগের ২৫ জন ও সিলেট বিভাগের ১২ জন। বাকি ১৩ জনের বিভাগওয়ারি বিশ্লেষণ এখনো সম্পন্ন করেনি টিসিবি। এসব ডিলারের জামানতও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রতিজন ডিলার ১৫ হাজার টাকা করে জামানত দিয়েছিলেন।
টিসিবির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, টিসিবির পণ্য ন্যায্য মূল্যে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির জন্যই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাতিল হওয়া ৯১ জনের বেশির ভাগই কোনো পণ্য উত্তোলন করেননি। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকরা কোনো কোনো ডিলারের দোকান খুঁজে পাননি। কেউ কেউ আবার টিসিবির কম দামের পণ্য বাজারে বেশি দামে বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, সিরাজগঞ্জের মাহমুদা এন্টারপ্রাইজ দুই বছরের জন্য টিসিবির ডিলার নিয়োগ পেয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত একবারও টিসিবির পণ্য উত্তোলন করেনি। দুই বছরে একবারও মাল নেয়নি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেসার্স ফুলমিয়া ট্রেডার্স ও ঢাকার মেসার্স মায়া স্টোরও।
টিসিবির নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের সংগঠনের সভাপতি জুয়েল আহমেদ বলেন, টানা পাঁচবার পণ্য উত্তোলন না করার অভিযোগে টিসিবি ডিলারশিপ বাতিল করেছে; কিন্তু তা বাতিলের আগে অভিযুক্ত ডিলারদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি কেন তাঁরা পণ্য নেননি, সে ব্যাপারে কোনো ব্যাখাও চাওয়া হয়নি। অভিযুক্তদের অন্তত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
টিসিবির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে টিসিবির ৮১ জন ডিলার তাঁদের ডিলারশিপ প্রত্যাহার করার আবেদন করেছিলেন। আবেদনকারীদের বেশির ভাগই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলেছেন। কেউ কেউ পারিবারিক সমস্যার কথাও বলেছেন। তাঁদের আবেদন গ্রহণ করে জামানতের অর্থ ফেরত দিয়েছে সংস্থাটি।
টিসিবির মোট ডিলার সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৯০৫। সেখান থেকে ১৭২ কমে এখন তা দাঁড়াল দুই হাজার ৭৩৩।

No comments

Powered by Blogger.