সাবানখেকো নারী

মানুষের মন বড় বিচিত্র। কখন যে সেই মনে কোন ভূত চেপে বসে, তা আগে থেকে বলা বড়ই কঠিন। খেয়ালের বশেই মানুষ নানা ধরনের বিপজ্জনক কাজ করে বসে। সেসব বিচিত্র কাজের মধ্যে যেমন মানুষের মঙ্গল নিহিত থাকে, তেমনি থাকে বিপদের আভাসও। খেয়ালের বশেই মানুষ একদিন পাখির মতো আকাশে ডানা মেলে ওড়ার স্বপ্ন দেখেছিল। তরঙ্গবিক্ষুব্ধ অথৈ জলরাশির ওপর দিয়ে শাঁ শাঁ করে গাড়ি চালিয়ে পার হওয়ার চিন্তা করেছিল।


ভেবেছিল আকাশের কাছাকাছি ঘর বানিয়ে বসবাস করতে। স্বপ্নচারী সেসব মানুষের খেয়ালিপনা কিন্তু সত্যিই পরে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। পাখির মতো ডানা মেলে মানুষ যেমন দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তেমনি সুউচ্চ ভবন তৈরি করে আকাশের কাছাকাছি থাকার স্বপ্নও মানুষের পূরণ হয়েছে। খেয়ালের বশে উল্টাপাল্টা কাজ করার লোকেরও কিন্তু অভাব নেই পৃথিবীতে। কারও শখ আস্ত কাচ কচকচ করে খাওয়া, কেউ শুধু ইট-বালু, মাটি কিংবা পাথরকুচি খেয়ে জীবনধারণ করে। কেউ আবার লোহা খেয়ে লোহা হজম করে। এগুলো গাঁজাখুরি গল্পের মতো শোনালেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের উনিশ বছরের তরুণী টেমপেস্ট হেন্ডারসন সাবান ও ওয়াশিং পাউডার খেয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন! হেন্ডারসনের সাবান ও ওয়াশিং পাউডার খাওয়ার ইতিহাস মোটেও বেশিদিনের নয়। উঠতি বয়সে তিনি বোতলের ভেতর সাবানের পানি খেতেন। ২০১০ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি এ পানি খেতেন বেশ মজা নিয়ে। মাঝখানে কিছুদিন বিরতি ছিল। সম্প্রতি তিনি আবার শুরু করেছেন। সপ্তাহে খাচ্ছেন পাঁচটি সুগন্ধি সাবান আর কয়েক প্যাকেট ওয়াশিং পাউডার।
কিন্তু তার অদ্ভুত আসক্তির কারণ কী? নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করে। হেন্ডারসন তার জবাবও দিয়েছেন। হেন্ডারসন পড়াশোনা করতেন বাসা থেকে কমপক্ষে একশ' মাইল দূরের এক কলেজে। কলেজে তার কোনো বন্ধু ছিল না। কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পর মা-বাবার সানি্নধ্য পেতেন না। সারাক্ষণ কাটত একাকিত্বে। এ একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে শুরুতে ওয়াশিং পাউডার ও সাবান-পানির প্রতি আকৃষ্ট হন। সাবান-পানি নাকি তার কাছে মিষ্টি লাগত। আর এ পানি খেয়েই একাকিত্ব ভুলে থাকার চেষ্টা করতেন। এ পাগলামিই এখন তাকে নেশাগ্রস্ত করে ফেলেছে। এটি না খেলে চলেই না! তবে হেন্ডারসনের এ পাগলামিতে ভীষণ অস্থির তার ডাক্তার ও পরিবারের সদস্যরা। কারণ, সাবান ও ওয়াশিং পাউডার তৈরি করা হয় এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে, যা মানুষের পেটে যাওয়া মানেই নির্ঘাত মৃত্যু। কিন্তু হেন্ডারসন বেঁচে আছেন! আর যা-ই হোক, হেন্ডারসনের মতো এমন বিরল ঘটনার জন্ম দেওয়ার খায়েশ মনে না জাগানোই ভালো। তাতে আপনি যেমন ভালো থাকবেন, তেমনি আপনার পরিবারও।
সোহাগ আহমেদ

No comments

Powered by Blogger.