গুলশান-বনানীতে দুর্গোৎসব by পান্না লাল দত্ত

বারো মাসে তের পার্বণের এ দেশে এখন মহা ধুমধামে পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ, নবান্ন, ঈদ ও দুর্গোৎসব। এগুলো সবই এখন জাতীয় উৎসব। পূর্বের মতো দুর্গোৎসব এখন এককভাবে নির্দিষ্ট বাড়িতে অনুষ্ঠানের পরিবর্তে সম্মিলিতভাবে সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে খেলার মাঠ বা উন্মুক্ত ময়দানে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রভূত অবদান রেখে


চলেছেন। নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মেধা এবং অধ্যবসায়ের দ্বারা এখন অনেক পরিবারই আর্থিকভাবে সচ্ছলতা লাভ করেছেন এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অভিজাত অঞ্চল গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমণ্ডি, ডিওএইচএস, উত্তরা, নিকুঞ্জসহ এ অঞ্চলে নিজস্ব বাড়ি, ফ্ল্যাট অথবা ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছেন। কিন্তু এসব অঞ্চলে কোনো উপাসনালয় না থাকায় সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুরান ঢাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পূজা দিতে যেতে হয়। ২০০৮ সালের জুলাই মাসের একটি বর্ষণমুখর দিনে এ অঞ্চলে বসবাসরত কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব গুলশানে কানুতোঝ মজুমদার ও সঞ্জিত কুমার দত্তের বাড়িতে এ অঞ্চলের দুর্গোৎসব পালনার্থে প্রথম সমবেত হয়েছিলেন। ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সুভাষ ঘোষ, সুবীর দে, বাদল চন্দ্র রায়, পান্না লাল দত্ত, ধীরাজ মালাকার, অমিত চন্দ, বিমল চন্দ, দিলীপ দাশগুপ্ত, তারিক আলী ও শুভ্রদেব। ওই সভায় মেজর জেনারেল (অব.) চিত্তরঞ্জন দত্ত বীরউত্তমকে সভাপতি, পান্না লাল দত্তকে সাধারণ সম্পাদক ও বাদল চন্দ্র রায়কে কোষাধ্যক্ষ করে ১৫ সদস্যের একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়।
বনানী মাঠে পূজা অনুষ্ঠানের সুবাদে পূজা পরিষদের নাম গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা পরিষদ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা পরিষদ সংগঠনের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি গঠনতন্ত্র রচনা করেছে। এ অঞ্চলের বাসিন্দারা 'মানুষ মানুষের জন্য' চেতনাকে সামনে নিয়ে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রতিম সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে এ অঞ্চলে শারদীয় দুর্গোৎসবের যে সূচনা করেছিল তা আজ সমাজের সব স্তরের জনগণ দ্বারা দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। সূচনা থেকেই অপার আনন্দ ও উৎসাহ নিয়ে এ অঞ্চলের বাসিন্দাসহ আপামর জনসাধারণ এ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সামাজিক নেতৃবৃন্দের আগমনে এ পূজামণ্ডপ কয়েকদিন হয়ে ওঠে সব ধর্মের মিলনমেলা।
গুলশান-বারিধারা-বনানী-ডিওএইচএস অঞ্চলে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার বর্তমানে বসবাস করেন, যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে; কিন্তু এ অঞ্চলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারিভাবে কোনো পল্গট বরাদ্দ নেই। বনানীস্থ মাঠ রাজউক কর্তৃক প্রতি বছর সাময়িক সময়ের জন্য বরাদ্দের মাধ্যমে এখানে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়। এ অঞ্চলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার্থে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমি একান্তই প্রয়োজন।

পান্না লাল দত্ত :সাধারণ সম্পাদক গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা পরিষদ
 

No comments

Powered by Blogger.