প্রতিদান দিতে চান এমিলি-মিঠুন

মিলি-মিঠুনের চোখে-মুখে ঝিলিক দিয়ে বেড়াচ্ছে আনন্দ। চাপা উত্তেজনাও। অপরাধীর তালিকা থেকে নাম কাটিয়ে সদ্য তাঁরা আবার ফিরেছেন স্বাভাবিক স্রোতে, ব্রাত্যজন থেকে অপরিহার্যের তালিকায়। এ অবস্থা পরিবর্তনের যৌক্তিকতা তুলে ধরার বড় মঞ্চ হয়ে যাচ্ছে সপ্তম সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ।এমিলি ও মিঠুনের অপরাধ জাতীয় দল ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গিয়ে খেপ খেলা। বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাই খেলতে লেবানন যাওয়ার ঠিক আগে গত ২০ জুলাই


জাহিদ হাসান এমিলি ও মিঠুন চৌধুরী জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মানিকগঞ্জ গিয়েছিলেন খেপ খেলতে। দুই স্ট্রাইকার ছদ্মনামে খেলেও পার পাননি, ধরা পড়ে গেছেন স্থানীয় লোকজনের হাতে। মাত্র ৩০ হাজার টাকায় খেপ খেলতে গিয়ে মানসম্মান খোয়ানোর পরও বাফুফে অর্থদণ্ড দেয় দুই লাখ টাকা করে। সঙ্গে ঘরোয়া ফুটবলে পাঁচ ম্যাচ করে সাসপেনশন। তবে পরোক্ষ শাস্তি দিতে শুরু করেন ইলিয়েভস্কি দুই স্ট্রাইকারকে জাতীয় দলের বাইরে ব্রাত্য করে রেখে। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে ইলিয়েভস্কির জবাব ছিল একটাই, 'ধরো, তারা লাল কার্ড খেয়ে খেলতে পারছে না।' মানে তাঁদের ছাড়া ঠিকঠাক চলা গেলে আবার দুই অপরাধী ডাকব কেন।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে তিনি অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন, দেখলেন তাঁদের ছাড়া চালানো যাচ্ছে না। তাই মাঝপথে ডাক পড়ে এমিলির। তিনি প্র্যাকটিস ম্যাচে দুই গোল করে প্রতিদান দিয়েছেন কোচের আস্থার। কিন্তু মিঠুনের বেলায় যথারীতি কঠিন কোচ। তাই হতাশায় মুষড়ে পড়ে এ স্ট্রাইকার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আশা বাদ দিয়ে ক্লাব ফুটবল নিয়েই ভাবতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু কোচ স্ট্রাইকিং জোন দুর্বল দেখে শেষ মুহূর্তে তাঁকে ডাকেন। তাঁর জন্য ব্যাপারটা মেঘ না চাইতে জল পাওয়ার মতো, 'আমি আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কোচ যখন সুযোগ দিয়েছেন আমি অবশ্যই চেষ্টা করব নিজের সেরা খেলাটা খেলে তার প্রতিদান দিতে। পাকিস্তানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই দারুণ কিছু করতে পারলে দলের চেহারা পাল্টে যাবে।' তবে তাঁকে হয়তো প্রথম একাদশে দেখা যাবে না, বদলি হিসেবেই নামতে পারেন। কোচ চাইছেন, তাঁদের দুজনকে দুই অর্ধে খেলিয়ে স্ট্রাইকিং জোনটা সব সময় ভীতিকর করে রাখতে।
দুজনের ফেরার মূল রহস্য হলো দুর্বল স্ট্রাইকিং জোনকে শক্তিশালী করা। সেই দায়িত্বটা বেশি এমিলির ওপর বর্তাবে। ২০০৫ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালে তাঁর গোলেই পাকিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ী ম্যাচেও আছে তাঁর গোল। আবারও সে রকম এক ম্যাচের মুখোমুখি হওয়ার আগে এ স্ট্রাইকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, 'আমি চেষ্টা করব। এই কদিন কোচও প্র্যাকটিসে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন আমাকে। তবে শুধু স্ট্রাইকারদের দিকে চেয়ে থাকলে হবে না। বড় ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে মিডফিল্ডারদেরও।'
সবার চেষ্টা থাকবে গোলের জন্য। তার পরও এমিলি-মিঠুনের গোলে বাংলাদেশের লেবানন জয়টা এখনো চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। সেই লেবানন যখন কুয়েত ও দক্ষিণ কোরিয়াকে হারায় তখন এ স্ট্রাইকিং জুটির কীর্তিটা যেন আরো আলো ঝলমলে হয়ে ওঠে। অনেক ঘটন-অঘটনের পর আবার তাঁদের ঘাড়ে চেপেছে বাংলাদেশ দল।

No comments

Powered by Blogger.