সাত হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন একনেকে-ফেঞ্চুগঞ্জে হবে শাহ্জালাল সার কারখানা

উরিয়ার চাহিদা মেটাতে এবং কৃষকদের মধ্যে সুলভ মূল্যে সার সরবরাহ করতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে নতুন ইউরিয়া সার কারখানা করবে সরকার। অর্ধশতাব্দীর ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার যন্ত্রপাতি পুরনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এটির পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অলাভজনক হয়ে পড়েছে। সার কারখানাটি বন্ধ করে এর জায়গায় শাহ্জালাল সার কারখানা নামে নতুন একটি সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


গতকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সার কারখানা স্থাপন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শাহ্জালাল সার কারখানা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে এক হাজার ৪২২ কোটি টাকা। চীনের এঙ্মি ব্যাংক তিন হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা ঋণ দেবে। বার্ষিক ২ শতাংশ সুদে এঙ্মি ব্যাংক এ ঋণ দিয়েছে। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
বাস্তবায়ন শেষে কারখানা থেকে দৈনিক এক হাজার ৭৬০ টন সার পাওয়া যাবে। ফলে সুলভ মূল্যে ইউরিয়ার সার কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা যাবে। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, কারখানাটিতে প্রায় ৬৫০ জন লোকের কর্মসংস্থান হবে।
এ ছাড়া একনেক সভায় সিলেট ও মৌলভীবাজারের নতুন নতুন এলাকা গ্যাস সংযোগের আওতায় আনা এবং শাহ্জালাল গ্যাস কম্পনির নেটওয়ার্ক আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ৯১ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত সিলেট গ্যাস ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে সিলেটের ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ এবং মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে। রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন কম্পানির (বাপেঙ্) কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে অন্য একটি প্রকল্পের সংশোধন একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, একনেকে ছয় হাজার ৯৯২ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দুই হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য বাবদ চার হাজার ৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে_৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প, ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সেবা কার্যক্রম, ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প, ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরে সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীদের জন্য ৪৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প এবং ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ লাইনের গ্যাস সঞ্চালন ক্ষমতা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প।

No comments

Powered by Blogger.