আরব লীগের সিদ্ধান্তের নিন্দা-দামেস্কে আসাদ সমর্থকদের ঢল

সিরিয়ায় সরকারপন্থীরা গতকাল রবিবার আরব লীগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন বন্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে গত শনিবার সিরিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করে আরব লীগ। ওই দিনই দামেস্কে সরকারপন্থীরা আরব লীগের সদস্যরাষ্ট্র সৌদি আরব ও কাতার দূতাবাসে হামলা চালায়।


রাজধানী দামেস্কে হাজার হাজার লোক গতকাল আসাদের সমর্থনে রাস্তায় নামে। তাদের হাতে ছিল সিরিয়ার পতাকা ও আসাদের প্রতিকৃতি। বিক্ষোভকারীরা শহরের সেবা বাহরাত স্কয়ারে জড়ো হয়ে 'জনগণ আসাদকে চায়' বলে স্লোগান দেয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, দামেস্কের ওমাইয়াদ স্কয়ারেও বড় ধরনের জনসভা হয়। টেলিভিশনে আরো কয়েকটি বিক্ষোভের ফুটেজ দেখিয়ে বলা হয়, 'সিরীয় জনগণ দেশের বিভিন্ন স্কয়ারে সমবেত হয়ে আরব লীগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।'
আগের দিন আরব লীগ সিদ্ধান্ত জানানোর পরপরই কয়েক শ সরকারপন্থী বিক্ষোভকারী দামেস্কে কাতার ও সৌদি দূতাবাসে হামলা চালায়। এ দুই দেশই আরব লীগের ভোটাভুটিতে সিরিয়ার সদস্যপদ স্থাগিত করার পক্ষে রায় দেয়। বিক্ষোভকারীরা কাতার দূতাবাসের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা ভবনের ওপরে উঠে কাতারের পতাকা নামিয়ে সেখানে সিরিয়ার পতাকা টাঙিয়ে দেয়। গত জুলাই মাসেই সরকারবিরোধীদের বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের প্রতিবাদে দামেস্ক থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে কাতার।
একই কারণে সৌদি আরব তাদের রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে নেয় গত আগস্টে। সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, শনিবার বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়ে দূতাবাসের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। তারা দূতাবাস প্রাঙ্গণে ঢুকে সম্পদের ক্ষতি করে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে এসপিএ জানায়, 'সৌদি সরকার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। সিরিয়ায় সৌদি স্বার্থের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব সিরীয় কর্তৃপক্ষের।'
আরব লীগ শনিবার জানায়, চলমান সহিংসতা বন্ধে প্রেসিডেন্ট আসাদ সংস্থার প্রস্তাবিত শর্তে রাজি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। সিরিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া দামেস্ক থেকে আরব দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহারের হুমকিও দিয়েছে তারা। আরব লীগ সিরিয়ার অন্তর্বর্তী পরিস্থিতির ব্যাপারে একটি অভিন্ন অবস্থানে পেঁৗছানোর জন্য আগামী তিন দিনের মধ্যে আসাদ বিরোধীদের সঙ্গে বৈঠক করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ২ নভেম্বর আরব লিগ আসাদ সরকারে সঙ্গে একটি চুক্তি করে। এতে গ্রেপ্তারকৃত বিরোধী নেতা-কর্মীদের মুক্তি, বিভিন্ন স্থানে মোতায়েনকৃত সেনা প্রত্যাহার, গণমাধ্যম কর্মী ও পর্যবেক্ষকদের স্বাধীনভাবে বিচরণ এবং বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা বলা হয়।
সরকারবিরোধী সিরিয়ার জাতীয় পরিষদ (এসএনসি) আরব লীগের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা অন্তর্বর্তী সময় নিয়ে আরব লীগের সঙ্গে বৈঠক করারও আগ্রহ দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও আরব লীগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে আরব লীগের সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা জানিয়েছে ইরাক।
জাতিসংঘের হিসাব মতে, সিরিয়ার সহিংসতায় ইতিমধ্যেই সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, এপি।

No comments

Powered by Blogger.