ঈদুল আজহার শিক্ষা by সরদার ইমরান হুসাইন

আগামীকাল পালিত হবে ত্যাগ ও আনন্দের পবিত্র ঈদুল আজহা। আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এক অনন্য দিন কাল। বিশ্ব মুসলিমের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসবের একটি হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।


এদিন সকালে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পর আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পশু কোরবানি করবেন মুসলমানরা।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিত ঈদুল আজহায় মুসলমানরা জামাতে নামাজ আদায় করেন এবং সাধ্য অনুযায়ী পশু কিনে কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের চেষ্টা করেন। সারাবিশ্বের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ত্যাগের মহিমার মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদুল আজহা আত্মশুদ্ধি, আত্মতৃপ্তি ও আত্মত্যাগের সুমহান বার্তা নিয়ে আসে। কোরবানির শিক্ষায় উজ্জীবিত হলে সব পাপ, বঞ্চনা, সামাজিক অনাচার ও রিপুর তাড়না এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব হবে। মানুষের মনের মধ্যে যে পশুশক্তি বিরাজমান তা অবশ্যই কোরবান করতে হবে। কেননা কোরবানির মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। মুসলমানরা কোরবানির মাধ্যমে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দীক্ষা নেন এবং অসত্য, অন্যায়, দুর্নীতি ও অশান্তি দূর করার জন্য নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
আল্লাহর প্রেমে সর্বোচ্চ ত্যাগের শিক্ষাই হচ্ছে ঈদুল আজহার শিক্ষা। কিন্তু দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই ত্যাগের চেয়ে ভোগবিলাসের দিকটিই প্রধান হয়ে ওঠে। আমাদের দেশে অসংখ্য মানুষ আছে, যাদের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে। অনেকেরই দুই বেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না। সেসব ম্লান মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব আমাদের সবার। সমাজের হতদরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর ভেতর দিয়ে আমরা আমাদের এবারের ঈদুল আজহাকে নতুন তাৎপর্য দিতে পারি। সার্থক করে তুলতে পারি ঈদের আনন্দ। বঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার ভেতর দিয়ে আমরা স্থাপন করতে পারি সহমর্মিতার নতুন দৃষ্টান্ত। এটাই হোক এবারের ঈদে আমাদের শপথ। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।
 

No comments

Powered by Blogger.