অবশেষে গরুর হাটটির নিয়ন্ত্রণ পেল সিটি করপোরেশন

অবশেষে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ১ নম্বর খেয়াঘাটসংলগ্ন এলাকার অবৈধ হাটটি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে দিয়েছে। ঈদের আগ মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন হাটটি উচ্ছেদ না করে এই নিয়ন্ত্রণ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


সাংসদ নাসিম ওসমানের লোকজনকে হাট থেকে অপসারণ করে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা হাটটির নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হাসিল আদায় করছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুর রউফ তালুকদারের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ১ নম্বর খেয়াঘাট এলাকার দুই পাশের খালি জায়গায় (শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে) কোরবানির পশুর হাট বসানোর জন্য ৬১ লাখ টাকার বিনিময়ে ইজারা দেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। একই জায়গায় স্থানীয় সাংসদ নাসিম ওসমানের সুপারিশে শেখ রাসেল সঞ্চৃতি সংসদ-বন্দরের সভাপতি কাজী জহিরুল ইসলামকে মাত্র ৮৭ হাজার ৮৪৩ টাকায় গরুর হাট বসানোর অনুমতি দেয় বিআইডব্লিউটিএ।
কাজী জহিরুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের কাছে গরুর হাট বসানোর অনুমোদন চাইলে জেলা প্রশাসক তা বাতিল করে দেন। গত শুক্রবার থেকে সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া গরুর হাট বসানো হয়। গত শনিবার অবৈধ গরুর হাটটি উচ্ছেদ করতে গেলে পুলিশের সামনেই সিটি করপোরেশনের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে ১০ জনকে আহত করে সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করে কোরবানির পশুর হাটটি। এখন সিটি করপোরেশনের লোকজনই পশুর হাটের খাজনা আদায় করবেন।
পশুর হাটটি দখল প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী অভিযোগ করেন, বন্দর খেয়াঘাটের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে কোরবানির হাট ৬১ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। একটি মহল বিআইডব্লিউটিএর কাছ থেকে মাত্র ৮৭ হাজার টাকায় স্থানীয় সাংসদের ডিও লেটারের মাধ্যমে ইজারা নিয়ে সেখানে হাট বসায়।
মেয়র বলেন, সিটি কপোরেশনকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং এলাকাবাসীকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটানো হচ্ছে। অথচ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইন মোতাবেক সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো হাট বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুর রউফ তালুকদার জানান, বন্দর উপজেলার ১ নম্বর খেয়াঘাট এলাকায় অবৈধ পশুর হাটটি অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে ওই পশুর হাটটির খাজনা আদায় করবে সিটি করপোরেশন।

No comments

Powered by Blogger.