পরোয়ানা লাইলী বেগমের নামে হাজতবাস আঞ্জুয়ারা বেগমের

তিন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল লাইলী বেগমের নামে। অথচ পুলিশ আঞ্জুয়ারা বেগম নামের অন্য এক গৃহবধূকে সেই পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। পুলিশের ভুলে দুই মাস ২০ দিন ধরে বিনা অপরাধে হাজতবাসসহ এখন তিন মামলায় দুই জেলার আদালতে গিয়ে হাজিরা দিতে হচ্ছে নিরপরাধ আঞ্জুয়ারা বেগমকে।


পুলিশ ও কারা সূত্রে জানা গেছে, চোরাচালানের অভিযোগে বগুড়া সদরের চারমাথা নিশিন্দারা এলাকার মৃত দুদু শেখের স্ত্রী লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের জুনে নাটোর সদর থানায় একটি এবং ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে পাঁচবিবি থানায় দুটি মামলা হয়। সে সব মামলায় আদালত লাইলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
তবে বগুড়া সদর থানার উপশহর ফাঁড়ির পুলিশ সেই পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে গত ৩ আগস্ট ভোরে চারমাথা এলাকা থেকে আঞ্জুয়ারাকে (৪৪) আটক করে ওই তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। আঞ্জুয়ারার স্বামী আবদুল আজিজ চারমাথা এলাকার পান দোকানি। তাঁর বাসা শহরের নিশিন্দারা পাইকপাড়া এলাকায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা পুলিশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশ আঞ্জুয়ারার জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌরসভার প্রতিবেদন যাচাই করে নিশ্চিত হয়, গ্রেপ্তার করা নারী লাইলী নয়।
এদিকে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) বিনা অপরাধে হাজতে থাকা আঞ্জুয়ারাকে মুক্তি দিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর বগুড়ার পুলিশ সুপারের বরাবর আবেদন করে। সর্বশেষ বিষয়টি ২১ অক্টোবর জেলা মামলা সমন্বয় সভাতেও ওঠে। সভায় জেলা জজ ছাড়াও জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আঞ্জুয়ারার মেয়ে ও স্থানীয় ফকির উদ্দিন স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মিম জানায়, তার ভাই বাসশ্রমিক দুলাল হোসেন অসুস্থ হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার মা গত ৩ আগস্ট ভোরে ওষুধ কেনার টাকা আনতে হাসপাতাল থেকে বাসায় যাচ্ছিলেন। চারমাথা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুনুর রশীদ বলেন, আঞ্জুয়ারার বিরুদ্ধে কোনো মাদক মামলা ছিল না। তা ছাড়া লাইলী নামের কেউ এখানে থাকে না। পুলিশ ভুলবশত আঞ্জুয়ারাকে লাইলী ভেবে গ্রেপ্তার করে তিন মাস ধরে আটক রেখেছে। এখন বিনা বিচারে সাজা খাটছে আঞ্জুয়ারা। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
ব্লাস্ট বগুড়ার সমন্বয়কারী হুসনে নূর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, সংস্থার পক্ষ থেকে তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, লাইলী ভেবে পুলিশ আঞ্জুয়ারাকে গ্রেপ্তার করেছে। এখন আঞ্জুয়ারাকে মুক্ত করতে সংস্থার পক্ষ থেকে আইনি-সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মামলার ঘটনাস্থল জয়পুরহাট ও নাটোর হওয়ায় তাঁর মুক্তির বিষয়টি ঝুলে আছে।
বগুড়া জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হেলালুর রহমান বলেন, লাইলী ভেবে পুলিশ ভুলবশত আঞ্জুয়ারাকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে মুক্তি দিতে জেলা মামলা সমন্বয় সভায় সুপারিশ করা হয়েছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. মোজামেঞ্চল হক প্রথম আলোকে বলেন, লাইলী ভেবে পুলিশ আঞ্জুয়ারা নামের কাউকে গ্রেপ্তার করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জয়পুরহাট ও নাটোর পুলিশের কাছেও এ বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মো. হামিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচবিবি থানার দুটি মামলায় বিনা অপরাধে কেউ হাজতবাস করে থাকলে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.