সুমার সাতকাহন... by ইমরান হোসেন খান

পুরো নাম সুমানা আফরোজ সুমা। গাজীপুরের জয়দেবপুরে বেড়ে ওঠা সুমার। কাজিনদের কাছে তিনি সবার আদরের ‘মিষ্টি আপা’। রবির টিভিসি করার পর অনেকেই তাকে রবিতে করা চরিত্রের নামে অর্থাৎ ‘তুলতুলি’ বলে ডাকে। ছোটবেলায় খেলাধুলায় খুবই ভাল ছিলেন সুমা। সুইমিং, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলায় তিনি ছিলেন দারুণ তুখোড়।


নাচ করতে ভালোবাসতেন। গাজীপুরের জয়দেবপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেছেন। এ বছর দারুস সালাম গার্লস কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পরীক্ষার কারণে মাঝে কিছুদিন মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন। সুমার মতে, ‘আমি ভাল কিছু কাজ করতে চাই, যাতে করে যখন আমি থাকব না তখন যেন সবাই আমাকে মনে রাখে আমার কাজের জন্য।’ কাজের অবসরে যখন বাসায় ফিরে আসেন তখন গান শুনতে আর বই পড়তে ভালবাসেন সোমা। বই পড়তে পড়তে কখন যে ঘুুমিয়ে যান টের পান না তিনি। পশু, পাখি পোষার শখ আছে সোমার। বাসায় আছে বেশ কয়েকটা লাভ বার্ড আর খরগোশ। অবসরে ওদের সঙ্গে খুনসুঁটি করতে দারুণ পছন্দ সুমার।
২০০৫ এ লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মিডিয়ার লাইম লাইটে চলে আসেন সুমা। সেই প্রতিযোগিতা তাকে এগিয়ে দিয়েছিল অনেকখানি। সবার সঙ্গে মিলে একসাথে গ্রুমিং, টিমওয়ার্ক, বড় পরিসরে কাজের সুযোগ সবই তাকে সাহায্য করেছে দারুণভাবে। সে বারের প্রতিযোগিতায় চতুর্থ হয়েছিলেন সুমা। এ প্রসঙ্গে সুমা বলেন, ‘লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতা আসলে আমার জন্য একটা বড় সুযোগ ছিল যা পরে আমার কাজের ক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা করেছে। একদিন একটা অনুষ্ঠানে বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজা হঠাৎই তাকে বলেন, ‘তোমাকে যদি কখনও বিজ্ঞাপনে ডাকি তুমি কাজ করবে?’ সুমা এই সময়টির প্রতীক্ষাই যেন করছিলেন ছোটবেলা থেকে। অতঃপর করে ফেলেন ফেয়ার এ্যান্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন। এই বিজ্ঞাপনে তার সঙ্গেসহ শিল্পী ছিলেন লিটু আনাম।
সম্প্রতি সুমা শাহজাদী মেহেদী, বোটানিক ফেয়ারনেস ক্রীম এবং লিজান ম্যাসাজ ওয়েলের বিলবোর্ডের কাজ করেছেন। পরীক্ষার কারণে কয়েক মাস কাজ করতে পারেননি তবে পরীক্ষার পর আবার নেমে পড়েছেন ক্যামেরার সামনে। লাইট, ক্যামেরা, এ্যাকশন। সুমার অভিনীত প্রথম টেলিফিল্ম ছিল ‘কুসুম প্রেমের গল্প।’ এটি প্রচারিত হয়েছিল চ্যানেল আইতে।
‘তিব্বত ট্যালকম পাউডার’ ‘তিব্বত পেট্রোলিয়াম জেলি’ ‘পূর্বাচল আনন্দ সিটি’ ‘আর এফ এল গ্যাস স্টোভ’ ‘প্রাণ সুগন্ধি চাল’ ‘বসুন্ধরা বেবী ডায়াপার’ ‘বোটানিক উপটান’ ‘বোটানিক ১০০% ফেয়ার লাভ ক্রীম’ ‘রবি’ ‘ওয়ানটেল’ ‘ফেয়ার এন্ড লাভলী’ সিটি সেন্টারসহ অসংখ্য বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন সুমা। সম্প্রতি অমিতাভ রেজার করা রবির টিভিসিতে মডেল হয়ে বেশ দর্শকনন্দিত হন সোমা।
বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে, মোবাইল রিচার্জ শপে শোভা পাচ্ছে সোমার ছবি।
এ পর্যন্ত অনেক নাটক করেছেন সুমা। এর মধ্যে চয়নিকা চৌধুরীর ‘গোলমাল’ সজীবের ‘টেনশন’ শরিফুল করিম সুজনের ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’, কাফি বীরের ‘সাদা পাতায় কালো দাগ’, এজাজ মুন্নার ‘ধুপছায়া’ ‘আউট অব কন্ট্রোল’ সুস্ময় সুমন, ফাহমির নতুন ধারাবাহিক ‘রিয়েলিটি শো’ মোস্তফা কামাল রাজের ‘ব্যাচেলর দ্য ফ্যামিলি’ আন্জাম মাসুদের ‘শেষের রাত্রি’ উল্লেখযোগ্য। তাহের শিপনের খ- নাটক ‘অপরবেলা’ তে অভিনয় করেছিলেন তিনি। অভিনেত্রী ঈশিতার নির্দেশিত প্রথম নাটক ‘এক নিঝুম অরণ্য’ তে অভিনয় করেছিলেন তিনি। রেদ্ওয়ান রনির তিন পর্বের নাটক ‘ফাঁদ ও বগার গল্প’ তে ও কাজ করেছেন সোমা। ২০০৬ সালে সালাউদ্দীন লাভলুর ‘কঙ্কাবতী’ কঙ্কা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
আইনজীবী বাবা শুরুতে সুমার মিডিয়াতে কাজ করাটা পছন্দ না করলেও পরে সুমার এসএসসির ভাল রেজাল্টের পর তাকে মিডিয়াতে কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। চার বোন এবং এক ভাইয়ের পরিবারে সুমা সবার আদরের ছোট বোন। ছোটবেলা থেকেই টিভিসি দেখতে দারুণ পছন্দ করতেন সুমা। মডেল মৌ কে দেখে দারুণ অনুপ্রাণিত হতেন তিনি। মডেলিংয়ে মৌ আর মোনালিসাকে পছন্দ সুমার। তৌকির আহমেদ, জাহিদ হাসান আর মাহফুজের অভিনয় ভাল লাগে সুমার। জয়া আহসান, কুসুম শিকদার আর সুমাইয়া শিমুর অভিনয় ভাল লাগে তার। পরিবারের সবার অনুপ্রেরণায় কাজ করছেন সুমা। তবে আলাদা করে বড় বোন রুমা আপার, রুনি অন্টির আর ফেরদৌসি ভাবীর কথা জানান সুমা। তাদের সবার ভালবাসায় কাজ করে যাচ্ছেন সুমা। সুমার ছোটবেলার বন্ধু চৈতি, রুম্পা, জেরিন, এরশাদ কামালসহ সবাই তাকে দারুণ সাপোর্ট করেন। ভাল কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করেন।
শুধু মডেলিং আর অভিনয়ই নয় উপস্থাপনাতে ও দারুণ সাবলীল সুমা। ২০০৩ সালে এটিএন বাংলার ‘শাপলা শালুক’ অনুষ্ঠানে প্রথমে নাচ, আবৃত্তি করেছিলেন। পরে এই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থাপনা করেছিলেন।
ঈদের পর করবেন বোটানিক ফেয়ারনেস ও বোটানিক লিপজেলের টিভিসি। ভাল গল্প আর মনের মতো চরিত্র হলে সিনেমায় কাজ করতে আপত্তি নেই সুমার। তারকা খ্যাতিকে আলাদা করে কিছু মনে করেন না সুমা। তবে যখন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের ষাটোর্ধ এক বর্ষীয়ান মহিলা তাকে জড়িয়ে ধরেন আর মাথায় আদর করে হাত বুলিয়ে দোয়া করে দেন সেটা অবশ্যই সুমার জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ক স্মৃতি। ছোট বাচ্চারাও দারুণ পছন্দ করে তাকে। একবার এক ক্ষুদে ভক্ত তাকে একটা মোবাইল নম্বর দিয়ে বলেছিল, ‘এটা আম্মুর নম্বর, এই নম্বরে আমাকে মিসকল দিও, আমি ব্যাক করব।’ এসব মানুষের ভালবাসাই এগিয়ে নিয়ে যায় সুমাকে ভবিষ্যতের পথে।

No comments

Powered by Blogger.